ছয় আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে নৌকা/ যশোরের এক-তৃতীয়াংশ কেন্দ্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’ নিরাপত্তায় থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬ হাজার সদস্য

0
217

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরে ছয়টি আসনেই নৌকার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছেন। পাঁচটি আসনে দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং একটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নৌকার সাথে লড়াইয়ে রয়েছেন। জেলা জুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ থাকায় সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে গোটা যশোরকে নিরাপত্তার চাদরে জড়িয়ে রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যশোরে ছয়টি আসনে ১৬ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়ন করা হবে। এছাড়া জেলার ছয়টি আসনের ৮২৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭৫টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ৩৫ শতাংশ। সাধারণ ভোটকেন্দ্রের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোরের ছয়টি আসনেই নৌকা ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, হুমকি-ধামকির মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে যশোরের ছয়টি আসনেই নির্বাচনের পরিবেশে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছে। এসব কারণে জেলার ছয়টি আসনের ৮২৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭৫টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ৩৫ শতাংশ। সাধারণ ভোটকেন্দ্রের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যশোরে ছয়টি আসনে ১৬ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়ন করা হবে। আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সবধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন উপ পরিদর্শক’র (এস আই) নেতৃত্বে ১৬ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নির্বাচনী এলাকা টহল দেবে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাবের সদস্যরা। শুক্রবার দুপুরে যশোর পুলিশ লাইনসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দার। শুক্রবার সকাল ৯টায় যশোর পুলিশ লাইনস মাঠে প্রায় তিন ঘন্টাব্যাপী সহকারী পুলিশ সুপার ও পুলিশের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্য ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন যশোর পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কমকর্তারা। এসময় তাদেরকে ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদানের ব্যবস্থা করা এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম ও ভোটকেন্দ্রের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে কোন প্রার্থী ও তার সমর্থকদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখা ও ভোটের দিন দুপুরে শুকনা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এজন্য প্রত্যেককে মাথাপিছু এক হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হলেও আমরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি না। নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেট, সেনা সদস্য ছাড়ারও নিরাপত্তা দিতে ২৫০০ পুলিশ সদস্য, ১০ হাজার আনসার সদস্য, ৪৫০ বিজিবি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দাবাহিনী কাজ করবে। নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো থাকবে যশোরের সকল কেন্দ্র। যশোরের পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘কেন্দ্র দখল, ভোটকক্ষ দখল, ভোট কাটা, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করা এ ধরণের চিন্তা যদি কেউ করেন, তাদের কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি নাশকতামূলক কর্মকান্ডের ছক করেন তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।’ এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম শাহীন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, জেলা আনসার কমান্ডেন্ট সঞ্জয় সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইনসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, বর্তমানে যেসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে, আগে সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বলা হতো। বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে এই তালিকা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে যে কেন্দ্রে ভোটার বেশি, কোনো প্রার্থীর বাড়ির কাছে ভোটকেন্দ্র কিনা, প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা, যাতায়াত ব্যবস্থা প্রভৃতি। নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হবে। নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে। পরিবেশ ভালো রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে ভোটযুদ্ধে ৩২জন প্রার্থী লড়বেন। নৌকার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ৮ প্রার্থী মাঠে থাকছেন। ভোটে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে মূল লড়াইয়ের আভাস মিলছে। জেলায় ৮২৫টি ভোটকেন্দ্রে ৫ হাজার ২১৭টি বুথে ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটর হলেন ১১ লাখ ৭৬ হাজার ১০৫ জন নারী ১১ লাখ ৬২ হাজার ৯৩৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হলেন ১৫ জন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here