যশোর: শুক্রবার সকালে শেষ হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। শেষ
সময়ে ভোটারদের মাঝে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। জেলায় ছয়টি আসনে ৩২ জন
প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করলেও লড়াইয়ের আভাস মিলেছে আওয়ামী লীগের নৌকা
প্রতীকের প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। এর মধ্যে
যশোর দুই ও চার বাদে বাকী চারটি আসনে নৌকা বনাম স্বতন্ত্রের হাড্ডাহাড্ডি
লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। ভোটারা বলছেন, ভোটের মাঠে এবার জমবে খেলা। আগের মতো
কেউ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারবে না। নৌকার সঙ্গে স্বতন্ত্রের হাড্ডাহাড্ডি
লড়াই হবে প্রতিটি কেন্দ্রে। টানা ১৯ দিনের নৌকা ও স্বতন্ত্রের কর্মী
সমর্থকদের উত্তাপ প্রচারণাতে সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন
সাধারণ ভোটারা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে ভোটযুদ্ধে ৩২জন
প্রার্থী লড়ছেন। নৌকার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ৮ প্রার্থী মাঠে
রয়েছেন। বাকী প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ
কংগ্রেস, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ,
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী
আন্দোলনসহ ১২টি দল। তবে ভোটে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে মূল
লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
হালি পূরণ করবেন আফিল না জয় ছিনিয়ে নিবেন লিটন :
যশোর-১ (শার্শা) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত শেখ আফিল উদ্দিন, স্বতন্ত্র
প্রার্থী আশরাফুল আলম লিটন ও জাতীয় পার্টির আক্তারুজ্জামান ভোটযুদ্ধে
নেমেছেন। তবে আসনটিতে লড়াইয়ের আভাস মিলেছে নৌকা ও ট্রাক প্রাতীকের মধ্যে।
নৌকার আফিলকে ছাড় দিতে নারাজ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও বেনাপোল
পৌরসভার সাবেক মেয়র লিটন। ভোটারা বলছেন, ‘আফিল টানা তিন বারের সংসদ
সদস্য। এর আগে মাত্র একবারই তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল।
নিজের প্রথম নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী থেকে মাত্র পাঁচ
হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এরপরের দুই নির্বাচনে তিনি জয়লাভ
করেছেন সুস্পষ্ট ব্যবধানে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তাকে চ্যালেঞ্জে
ফেলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম লিটন। এই আসনে জাতীয় পার্টির
প্রার্থী আক্তারুজ্জামান শুধু খাতাকলমেই সীমাবদ্ধ। এর আগে কয়েকটি
নির্বাচনে শেখ আফিল উদ্দিন প্রায় একতরফা ভোট করার সুযোগ লাভ করলেও এবার
ট্রাক প্রতীকের আশরাফুল আলম লিটন সেই সুযোগটি দিচ্ছেন না বলেই মনে করেন
শার্শাবাসী। অবশ্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় অংশ শেখ আফিল উদ্দিনের পক্ষে
থেকে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। লিটনের সাথে যারা আছেন তারাও চষে বেড়িয়েছেন
মাঠঘাট। গিয়েছেন ভোটারদের কাছে কাছে।
নির্ভার ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন ?
ঝিকরগাছা ও চৌগাছা আসন নিয়ে যশোর-২ আসন। এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত
প্রার্থী হলেন ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম ও চৌগাছা
উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমান (সংবাদ সম্মেলন করে পরে সরে
দাঁড়িয়েছেন)। এই আসনে আরও লড়ছেন, জাতীয় পার্টির মুফতি ফিরোজ শাহ,
বাংলাদেশ কংগ্রেসের আব্দুল আওয়াল, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ
এর শামছুল হক। রাজনীতির মাঠে একেবারেই নতুন ডা. তুহিন দলীয় মনোনয়ন
পাওয়াতে জয়ের ব্যাপারে প্রথমদিকে কঠিন হলেও বর্তমানে নির্ভার তিনি। কেননা
দলীয় প্রতীকই তার বিজয়ের ফ্যাক্ট হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক এমপি মনিরুল’র
বিপক্ষে বড় একটি গ্রæপ নৌকাকে সমর্থন দেওয়া এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী
এস এম হাবিব নির্বাচন থেকে সরে যেয়ে তুহিনের জয়ের পাল্টা ভারি হয়েছে।
আসনটির অন্য তিনজন প্রার্থী জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের
আব্দুল আওয়াল এবং বিএনএফের শামছুল হক ভোটারদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত তেমন
কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিনের এখন একমাত্র মাথা
ব্যাথার কারণ স্বতন্ত্র অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির। সে কারণে তিনি
ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দলীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায়ও মনোনিবেশ করতে
বাধ্য হচ্ছেন। নির্বাচনী বক্তৃতায়ও এই বিষয়টির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিয়ম
মেনে রোগীর সেবা করা এই প্রার্থী এবার কোনো নিয়মের ঘেরাটোপে আর থাকতে
পারছেন না। প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই যেনো তার কাছে কাজের সময়ে পরিণত হয়েছে।
ভুলে গেছেন নাওয়া-খাওয়া। ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
বিজয়ের বন্দরে নৌকা নাকি ঈগল ?
যশোর-৩ আসনের টানা দুইবারের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। সংসদ নির্বাচিত
হওয়ার পর থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক উন্নতি হয়; বরং
অবনতি হয়েছে। উপজেলার আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ তার সঙ্গে নেই। ফলে
এবারের এই নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নাবিল। নৌকার এই প্রার্থীকে
এবার চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থী হয়েছে নাবিলের প্রথম ও দ্বিতীয় বারের
নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ।
মোহিত কুমার নাথ এক সময় যশোর জেলার রাজনীতিতে পরস্পরবিরোধী দুটি বলয়ের
একটির নেতা এমপি কাজী নাবিল আহমেদের সাথেই ছিলেন। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী
লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
এখনো তিনি সে বলয়েই সক্রিয়। দীর্ঘদিন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি
হিসেবেও তার ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি পরিচিতি রয়েছে। সেইসব কাজে লাগিয়ে
নির্বাচনী ময়দান চষে বেড়াচ্ছেন মোহিত কুমার নাথ। নিজের ঈগল প্রতীকের
সমর্থনে তিনি সাথে পেয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও
আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের
বেশ কয়েকজন নেতাকে। কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানও তার সাথে নির্বাচনী প্রচার
প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে
ঈগলের সমর্থন দেখে সাধারণ ভোটারা ঈগলের জয়ই দেখছেন। তবে আবার এই আসনে
নৌকা প্রতীক ফ্যাক্ট হতে পারে। অনেক ভোটার আবার প্রতীকেই মূল্যায়ন করছেন।
সবমিলিয়ে কাজী নাবিল আহমেদ এবার যে শক্ত প্রতিদ্ব›িদ্বতায় অবতীর্ণ হয়েছেন
তা তার নির্বাচনী প্রক্রিয়াই বলে দিচ্ছে। তিনিও ছুটেছেন দিনরাত। গিয়েছেন
ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। এই আসনে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মারুফ হাসান
কাজল, জাতীর পার্টির মাহবুব আলম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির অ্যাড. সুমন
কুমার রায়, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. তৌহিদুজ্জামান, ত‚ণমূল বিএনপি
মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের শেখ নুরুজ্জামানও
লড়ছে। তবে এসব প্রার্থীরা ভোটের মাঠে নৌকা ও স্বতন্ত্রের প্রার্থীদের
প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন।
যশোর-৪ আসনে নিশ্চিত জয়ী নৌকার বাবুল :
বাঘারপাড়া-অভয়নগর উপজেলা ও সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে যশোর-৪ গঠিত।
আসনটিতে ভোটের মাঠে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী
এনামুল হক বাবুল। যদিও এনামুল দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার থেকে যতটা না
প্রচারনাতে ব্যস্ত ছিলেন; তার চেয়ে বেশি ঘুরেছেন আদালতের বারান্দাতে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের
প্রার্থী এনামুল হকের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার মনোনয়নপত্র
বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী
আন্দোলনের প্রার্থী সুকৃতি কুমার মÐল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রণজিত কুমার
রায়। টানা চার ধাপে আদালতে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান বাবুল। তবে স্বজন ও
ত্যাগী নেতা হিসাবে পরিচিত হওয়াতে সর্বস্তরের মানুষও তার পক্ষে মাঠে
ছিলেন। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ রনজিত রায়। রনজিতের
অনিয়ম ও নেতাকর্মীদের অমূল্যায়নের প্রভাবে বাবুলকে সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী
করবে নেতাকর্মীরা এমনটি আভাস মিলেছে। এছাড়া প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল
বিএনপির লে.ক (অবসরপ্রাপ্ত) এম শাব্বির আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী
আন্দোলনের সুকৃতি কুমার মন্ডল, ইসলামী ঐক্যজোটের ইউনুস আলী ও জাতীয়
পার্টির জহুরুল হক। ইতোমধ্যে বর্তমান নির্বাচন পরিবেশের সমালোচনা করে
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সুকৃতি কুমার মন্ডল। তবে এ আসনে এবার ভোটের
মাঠে জায়গা করে নিতে শক্ত লড়াইয়ে রয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী
জহুরুল হক।
কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে প্রতিমন্ত্রী স্বপন :
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়েছেন বর্তমানসহ পর পর
দুইবারের এমপি ও প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। এবারও নৌকা নিয়ে ভোটের
ময়দানে থাকা এই বর্ষিয়ান নেতা দিনরাত চষে বেড়িয়েছেন সংসদীয় আসনের এক
প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি ভোটারদের
কাছে গিয়েছেন। ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তার সময়ে করা কোটি কোটি টাকা
ব্যয়ের বিভিন্ন প্রকল্প, স্কুল, মাদ্রাসা, মন্দির, রাস্তাঘাটসহ নানা
উন্নয়নের কথা। আহŸান জানিয়েছেন অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করার সুযোগ
দিতে। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম-বিষয়ক
উপ-কমিটির সদস্য ও জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি এসএম ইয়াকুব আলী বড়
ফ্যাক্টর। ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ইয়াকুব আলীও কম যাচ্ছেন না। তিনিও
সমানতালে এগিয়ে গেছেন ভোটারদের কাছে। বলছেন, ‘শাসক নয়, সেবক হতে চাই’।
দীর্ঘ সময় নানা সেবামূলক কাজের মাধ্যমে মণিরামপুরের মানুষের কাছে এসএম
ইয়াকুব আলী আগে থেকেই পরিচিত। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে আরও
বেশি সক্রিয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এই আসনে জাতীয় পার্টির এম এ
হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা নুরুল্লাহ আব্বাসি এবং তৃণমূল বিএনপির
মেজর বনিকে নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তেমন কোনো আলোচনাই শোনা যায়নি।
তার পরেও নিজ নিজ দলকে সমালোচনা করে শেষ মূর্হতে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে
দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পার্টির এম এ হালিম ও তৃণমূল বিএনপির বনি।
কী হবে কেশবপুরে ?
কেশবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত যশোর-৬ আসন। এই আসনের বর্তমান এমপি যশোর জেলা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। তিনি এবারও এই আসন থেকে
দলীয় মনোনয়ন লাভ করেছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাকে চ্যালেঞ্জ
জানাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম
আমির হোসেন এবং পদত্যাগী জেলা পরিষদের সদস্য আজিজুল ইসলাম। এই আসনে জাতীয়
পার্টির প্রার্থী হিসেবে জিএম হাসান প্রতিদ্ব›িদ্বতা করলেও তিনি তেমন
একটা আলোচনাতে নেই। যশোর-৬ আসনের নির্বাচন মূলত নৌকার আর দুই স্বতন্ত্রের
সাথে। মূল প্রতিদ্ব›িদ্বতায় রয়েছেন শাহীন চাকলাদারের নৌকা এবং আমির
হোসেনের কাচি। এই আসনের সাবেক এমপি ইসমাত আরা সাদেক দলীয় মনোনয়ন লাভ করে
এমপি নির্বাচিত হন। পরে তিনি প্রথমে গণশিক্ষা ও পরে জনপ্রশাসন
প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুর পর তার কন্যা এবং
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা মনোনয়ন লাভে তৎপর হয়ে উঠলেও ভাগ্যের শিকে ছেড়ে
শাহীন চাকলাদারের। দলীয় নেতাকর্মীরা একাট্টা হয়ে গত নির্বাচনে তাকে জয়ী
করতে নির্বাচনী ময়দানে ছিলেন। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন লাভ করায় তা সহজে
মেনে নিতে পারেননি দলের একটি বড় অংশ। যার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এইচএম আমির
হোসেন এবং আজিজুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অবতীর্ণ
হয়েছেন। এতে জমে উঠেছে যশোর-৬ আসনের নির্বাচন। ‘স্থানীয় এমপি চাই’-এমন
শ্লোগান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠ চষলেও বিচলিত হননি শাহীন
চাকলাদার। তিনিও সমানতালে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন জোরালোভাবে। স্থানীয়
কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি তিনি যশোর থেকেও নেতাকর্মীদের তার নির্বাচনী
প্রচার প্রচারণায় সক্রিয় করে তুলেছেন। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে এবার তিনি
দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা
যশোরের চারটি আসনে ভোটের মাঠকে উৎসব মুখর আর প্রতিদ্ব›িদ্বতা পূর্ণ করে
তুলেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জেলায় ৮২৫টি ভোটকেন্দ্রে ৫ হাজার ২১৭টি ভোট
কেন্দ্রে ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর
মধ্যে পুরুষ ভোটর হলেন ১১ লাখ ৭৬ হাজার ১০৫ জন নারী ১১ লাখ ৬২ হাজার ৯৩৫
জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হলেন ১৫ জন।















