মাহমুদ হাসান রনি,দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধিঃ দামুড়হুদায় গরম খেজুরের গুড়ের সাথে মিশানো হচ্ছে কেরু কোম্পানীর চিনি।পরে তা খেজুরের গুড় হিসেবে বাজারে ও গ্রামে গ্রামে বিক্রি করা হচ্ছে।
দামুড়হুদার গুড়ের কারিগররা চলতি শীত মৌসুমে খেজুর গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছে। এদিকে এ ব্যবসায় জড়িত বেশীর ভাগ কারিগররা বেশী দামে বিক্রির আশায় গরম খেজুরের গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করছে।বিভিন্ন গ্রামের গুড় ক্রেতারা জানায়, খেজুরের গুড়ের মূল্য কেজি প্রতি ২শ২০ টাকা।আর কেরু কোম্পানীর চিনি কেজি প্রতি ১শ২৫ টাকা। চাকুরী জীবি নিকট আত্নীয় ও খাটি গুড় পাবার আশায় কোম্পানীর কর্মচারীদের মাধ্যমে চিনি সংগ্রহ করে বেশী লাভের আশায় এক শ্রেণীর কারিগররা গুড়ের সাথে প্রতারিত করছে। বিভিন্ন গ্রামের বেশীর ভাগ কারিগররা এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। ধোপাখালীর গুড় বানানোর কারিগর সালেহা ও আসমা খাতুন বলেন, ১ ভাড় খেজুর রস জালিয়ে ৭ শ থেকে ৮ শ গ্রাম গুড় হয়।গুড় বানাতে সময়,খড়ির দাম পরিশোধের পর তেমন একটা লাভ থাকেনা।তাই বাধ্য হয়ে অনেক গাছী ও কৃষকেরা অধিক মুনাফা পাবার লক্ষে গুড়ের মানের দিকে না তাকিয়ে১ ভাড় রসের সাথে ১ কেজি চিনি মিশাচ্ছে।ফলে নষ্ট হচ্ছে গুড়ের মান। খেজুর গুড়ের ক্রেতারা জানান, ইতিমধ্যে নতুন আমন ধান ঘরে উঠছে। সেই সাথে খেজুর রস ও গুড়ের মৌ মৌ সুবাসে কৃষাণীর বাড়ির আঙ্গিনা যেখানে ভরে উঠবে, সেখানে গুড়ের কোনো ঘ্রানই পাওয়া যাচ্ছে না। খেজুরের গুড় তৈরিতে চিনির ব্যবহার নিয়ে দর্শনার পরানপুরের রহমান,ডুগডুগির সেলিম চাদপুরের মজনু,শ্যামপুরের আজিবর,আজমপুরের সুমন,নাস্তিপুরের নাসিরসহ আরও অনেকে অভিযোগ করেন।দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমীন আক্তার বলেন, চলতি বছরে খেজুর রস ও গুড় উৎপাদনে উপজেলার ২৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ১১ হাজার ৬০টি খেজুর গাছ থেকে সংগৃহীত রস দিয়ে প্রায় ১শ৩৭ থেকে ১শ৪০ মেট্রিক টন খেজুরের গুড় উৎপাদন হওয়ার কথা। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে চলতি খেজুরের গুড় উৎপাদন মৌসুমে প্রতিটি খেজুর গাছ থেকে ৩০ থেকে ৩২ কেজি খেজুর গুড় উৎপাদিত হতে পারে। খেজুরের রস গুড়ের পাশপাশি গুড়ের পাটালীও তৈরি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রস, গুড় ও পাটালী এ অঞ্চলের গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য বহন করে আসছে। তবে খেজুর গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে সে ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে।এদিকে, স্থানীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও প্রশাসন বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে অসাধু কৃষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রয়োজন।















