যশোরে শিশুকে পিটিয়ে হত্যা, সৎ মা ও বাবা আটক

0
173

স্থানীয়রা জানিয়েছে, আয়শার বাবা পিন্টু মিয়া পেশায় একজন রং মিস্ত্রি। কাজের জন্য প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে যান পিন্টু মিয়া। এরই সুযোগে গত চারদিন ধরে আয়শাকে মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করে আসছে তার সৎ মা পারভীন খাতুন। শনিবার শিশু আয়শাকে মারধর করে তার সৎ মা। মারধরে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আয়শা। এরপরে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে তার সৎ মা পারভীন ও বাবা পিন্টু মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এদিকে আটক আয়শার সৎ মা পারভীন জানিয়েছেন, আয়শা ও তার একটা ভাই আছে। তাদের মা দেড় বছর আগে অন্যের সাথে পরোকিয়া করে ছেলে-মেয়ে ফেলে চলে গেছে। এদিকে পারভীনের প্রথম স্বামীর সাথে সংসারকালে একটি মেয়ের জন্ম হয়। বর্তমানে মেয়েটির বয়স ৯ বছর। কিন্তু তার প্রথম স্বামী অন্য একটা মেয়ের সাথে পরকীয়া করে বিয়ে করায় পারভীনের সাথে তালাক হয়ে যায়। পারভীন এক বছর আগে পিন্টুর সাথে দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার করে আসছিলেন। দুইটি সন্তানকে তারা খুবই ভালোবাসতেন। শনিবার অতিক্তি শীতে হঠাৎ মাটিতে পড়ে পড়ে গিয়ে আয়শা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। আয়শার পিতা পিন্টু মিয়া জানিয়েছেন, তার বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। অভাবের সংসারে কাজের জন্য কয়েক বছর আগে যশোরে আসেন। আয়শার মা অন্য পুরুষের সাথে পরকীয়া করে চলে যাওয়ার পরে পারভীনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। শনিবার সকালে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি বাসা থেকে বের হন। দুপুর ১২টার দিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আয়শাকে মৃত দেখতে পান। কিন্তু কি কারণে কি হয়েছে তিনি এখনো জানেন না। কোতোয়ালী থানা পুলিশের পরিদর্শক (এসআই) পলাশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, শিশুটিকে মারধরে হত্যার কথা শোনা যাচ্ছে। তার মা ও বাবাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য ঘটনা উদঘাটন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here