“বিপ্লবীর নাই” স্লোগানে বাঘারপাড়ায় তে-ভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি কমরেড অমল সেনের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

0
147
আজম খান, বাঘারপাড়া (যশোর) :   ‘বিপ্লব ও বিপ্লবীর মৃত্যু নাই’ স্লোগানে যশোরের বাঘারপাড়ায় তে-ভাগা আন্দোলন তথা কমিউনিস্ট আন্দোলনের কিংবদন্তি কমরেড অমল সেনের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
দিবসটি পালন উপলক্ষে চারদিন ব্যাপী কর্মসূচি গ্রহন করেছে কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি। কর্মসূচির মধ্যে আছে কমরেড অমল সেন স্মরণে আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মেয়েদের সাইকেলরেস ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার দুপুরে (১৬ জানুয়ারি) উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের বাকড়ী গ্রামে অমল সেন স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করেন তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা।
এদিন বাকড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে স্মরণসভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সহসভাপতি কমরেড কঙ্কন পাঠক। স্মরণসভায় প্রধান আলোচক ছিলেন, বিপ্লবী কমিউনিস্টলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক কমরেড ইকবাল কাবির জাহিদ। এসময় বক্তব্য রাখেন, বিপ্লবী কমিউনিস্টলীগের যশোর জেলা সাধারন সম্পাদক তসলিমুর রহমান, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশের সভাপতি মোজাম্মেল হক,  জাতীয় কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতির সহসভাপতি কম. গাজী নওশের আলী, সিঙ্গিয়া অদর্শ কলেজের সহকারি অধ্যাপক রমেশ চন্দ্র অধিকারী, বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিথীকা বিশ্বাস, বিপ্লবী কমিউনিস্টলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কম. নাজিম উদ্দিন, বাম গণতান্ত্রীক জোটের ঝিনাইদহ জেলার সমন্বয়ক কম. পল্লব মিঞা,  নারী নেত্রী কম. সখিনা বেগম দিপ্তী, যুব মৈত্রীর কম. আনিচুর রহমান মিঠু প্রমুখ।
কমরেড অমল সেন ১৯১৪ সালের ১৯ জুলাই নড়াইল জেলার আফরা গ্রামে জমিদার সামন্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পিতা জিতেন্দ্রলাল সেনের ৭ ছেলেমেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। শিক্ষা জীবন শুরু করেন গ্রামের পাঠশালায়। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তের পর ১৯২৫ সালে পার্শ্ববর্তী  বসুন্দিয়া জুনিয়র হাই স্কুলে প্রথম ব্যচে ভর্তি হন। পরিবারের স্বপ্ন ছিলো বাসু (অমল সেনের ডাক নাম ) জার্মানি ফেরত ইঞ্জিনিয়ার হবে। তাই তাকে খুলনা জেলা স্কুলে ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি করান। সেখান থেকে মেট্রিকুলেশন পাশ করে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজে আই এ ক্লাসে ভর্তি হন। আইএ পাশ করার পর দৌলতপুর বি এল (ব্রজলাল) কলেজে গনিতে বিএসসিতে (সম্মান) ভর্তি হন। সেখানে অধ্যায়নরত অবস্থায় দুই বছর পর তিনি যোগ দেন অনুশীলন নামের একটি সংগঠনে। সংগঠনে নিজেকে ব্যস্ত রাখায় একাডেমিক লেখাপড়ার পাঠ শেষ করেন।
২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর একদিন পর বাকর্ড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একসময় শিক্ষকতা ও এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন সমাজ পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেওয়ায় এ বিদ্যালয় চত্বরেই কমরেড অমল সেনের শবদেহ সমাহিত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here