সাগরদাঁড়ির মধুমেলা সমাপ্ত

0
153

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলা সাহিত্যের অমৃত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০০ তম জন্মবার্ষিকী উপলে সাগরদাঁড়িতে অনুষ্ঠিত ৯ দিনব্যাপী মধুমেলা শনিবার শেষ হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি কপোতা নদ তীরের সাগরদাঁড়িতে ৯ দিনব্যাপী মধুমেলা শুরু হয়। মধুমেলা উপলক্ষে সাগরদাঁড়ির মেলার মাঠ, জমিদারবাড়ির আম্রকানন, কবিরস্মৃতি বিজড়িত বুড়ো কাঠবাদাম গাছ তলা, বিদায়ঘাটসহ মধুপল্লী এলাকা জুড়ে ছিল প্রতিদিন সকাল থেকে অধিকরাত পর্যন্ত মধুভক্তদের মুখরিত পদচারণা। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এ মেলা মধুভক্ত লাখো দর্শনার্থীদের প্রাণের ছোঁয়ায় পরিণত হয় মিলন মেলার। এবারের মেলায় মধুমঞ্চে মধুসূদনের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনায় মধুপ্রেমী দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও নাটক উপভোগ করার জন্য মধুভক্তদের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়।
৯ দিনব্যাপী মধুমেলায় লাখো মধুভক্ত আর ভ্রমণ পিপাশুদের পদচারণায় মেলাঙ্গণ সরব হয়ে ওঠে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার নারী পুরুষ, কিশোর-কিশোরী, শিশুসহ সব বয়সের শ্রেণিপেশার মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে মেলার মাঠে মধুমঞ্চে অনুষ্ঠিত আলোচনা, সাং®কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, কবিতাবৃতিসহ উন্মুক্ত মঞ্চে যাত্রাপালা দেখে মুগ্ধ হন। পাশাপাশি মেলায় সার্কাস, শুন্যে মোটরসাইকেল চালনা, যাদু, ইঞ্জিনচালিত ট্রেন, নাগরদোলা, ডিজিটাল নৌকা চড়া স্পট গুলোতে শিশু, কিশোর-কিশোরীরাসহ নানা বয়সী মানুষ আনন্দে মেতে উঠে। আবার কেউ কেউ মেলার মাঠে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রীসহ সাংসারিক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কাটায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন। মাঠে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মধুভক্তরা ঘুরে ফিরছেন নিরাপদে। দুরদুরান্তের দর্শকরাও গভীর রাত অবধি ঘুরে ঘুরে উপভোগ করছেন মেলা। এবারের মেলায় প্রতিটি স্টলেই আগত মধুপ্রেমী দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় ল্য করা গেছে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়েছে শিশুদের খেলনা জাতীয় দ্রব্য। রেশমী চুড়িসহ মেয়েদের সাজগোজের অন্যান্য মালামালও বিক্রি হয়েছে প্রচুর। মেলার মাঠে এবার ছোট বড় মিলে ৫০০ স্টল বসে। মেলার মাঠে মিষ্টির দোকানগুলোতে দেড় কেজি ওজনের বালিশ মিষ্টি ৭০০ টাকায় বিক্রি ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এছাড়া ভাজা চানাচুর, মোয়া মুড়ি, নানা জাতীয় মিষ্টিসহ শীতের নানা রকমের পিঠার পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যসহ মৌসুমি ফল, বাহারি কসমেটিক্সের দোকান, শামুক ঝিনুকের অলংকার, বই, কম্বল, কোর্ট, জুতার দোকানও বসানো হয় মেলা উপলক্ষে। প্রতিটি স্টলেই আগত মধুপ্রেমী দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। মেলা আয়োজন কমিটি যশোর জেলা প্রশাসনের কঠোর পদেেপ এবারের মধুমেলা একটি নির্মল মেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মেলায় আগত মধু প্রেমীরা।
শনিবার মেলার শেষ দিন সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল ইসলাম, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিলাল হোসাইন, কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধ কাজী রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। মধুমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুহিন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মধুমেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যের শেষে শনিবার সন্ধ্যায় ৯ দিন ব্যাপী মেলার সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়ার অধ্যাপক প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে ৯ দিন ব্যাপী মধুমেলার উদ্বোধন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here