জসিম উদ্দিন, শার্শা :মাত্র ৫০ পিস “ক্যাম্বেল” জাতের হাঁস নিয়ে যাত্রা শুরু। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ইউটিউবে চাষ পদ্ধতি দেখে জীবনের বাঁক পরিবর্তন করে ফেলেছেন যশোরের শার্শা উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলাম। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পরবর্তীতে খামারটি আরো বড় করার স্বপ্ন তার। সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, আর্থিক টানাপড়েনে শরিফুল ইসলামের লেখাপড়া এগোয়নি বেশি দূর। ছিল না কোনো কাজের অভিজ্ঞতাও। তারপরও মাত্র ৫০ পিস হাঁস দিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় গত তিন বছর আগে গড়ে তুলেছেন ছোট্ট একটি হাঁসের খামার।
ইউটিউবে হাঁস পালনের ভিডিও দেখে শুরু করেন এই হাঁস পালন। আর তা থেকেই জীবনের বাঁক পরিবর্তন হয়ে গেছে তার। আজ তিনি একজন সফল তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর ২ নং ছোট কলোনী গ্রামের খোরশেদ আলম ও হনুফা খাতুন দম্পতির সেজো ছেলে শরিফুল ইসলাম। অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও নিবিড় পরিচর্যায় হাঁস পালন করছেন তিনি।
মাত্র ২৪ বছর বয়সী এই যুবকের হাঁসের খামারে বর্তমান ২৫০টি হাঁস রয়েছে। শরিফুলের হাঁস পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক খাবার যেমন – শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, কেঁচো, শাপলা, ক্ষুদেপানা ছোট মাছ ও নানা ধরনের কীটপতঙ্গের সাথে পরিমিত পরিমাণ দানাদার খাবার খেয়ে বড় হচ্ছে।
তার এমন কর্মকান্ডে এলাকায় অনেক প্রশংসা করে এলাকাবাসী জানান, তার দেখাদেখি অনেকে এগিয়ে আসুক এবং বেকারত্ব কমে গিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হোক।
শরিফুল ইসলামের প্রতিবেশি শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, শরিফুলের হাঁসের খামার দেখে অনেকে হাঁসের খামার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আগ্রহীরা প্রতিনিয়ত তার হাঁসের খামারে গিয়ে চাষ পদ্ধতি দেখছেন এবং পরামর্শ নিচ্ছেন। বর্তমানে শরিফুলের খামারে ২৫০টি হাঁস রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে এই হাঁসগুলোর প্রতিটি ৪৫০ টাকা দরে বরিশাল থেকে কেনেন। খামারে আনার ১৬ দিন পর থেকে হাঁসগুলো ডিম দেওয়া শুরু করে। তিন মাস বিরতিহীনভাবে প্রতিদিন হাঁসগুলো গড়ে ১৮০ থেকে ২০০টি ডিম দেয়।প্রতিটি ডিম ১৫ টাকা হিসাবে পাইকারি বিক্রি করেন তিনি। সকল খরচ বাদ দিয়ে গত তিন মাসে লাভ হয়েছে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। তিন বছরে তিনি পর্যায়ক্রমে হাস ও ডিম বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি স্বচ্ছল ভাবে জীবন যাপন করছেন। শরিফুল ইসলাম ছোট্ট থেকে বড় পরিসরে আসায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ থেকে তাকে সার্বিক পরামর্শ ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. বিনয় কৃষ্ণ মণ্ডল।তিনি বলেন, খাল, বিল ও মুক্ত জলাশয়ে ভরা এ উপজেলায় হাঁস পালনের জন্য ব্যাপক সম্ভাবনাময়। উপযোগী পরিবেশের কারণে অনেকেই নিজ উদ্যোগে খামার গড়ে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন তেমনি ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটাচ্ছেন এমন তরুণ উদ্যোক্তারা।
হাঁস ও ডিমের ব্যাপক চাহিদা এবং বিপণন ব্যবস্থা ভালো থাকায় লাভবান হচ্ছেন এ অঞ্চলের খামারিরা। শরিফুল ইসলামকে সকল পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। খামারটি বড় পরিসরে করে তার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য খামারের নিবন্ধন করতে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।















