স্টাফ রিপোর্টার, কালীগঞ্জ ,(ঝিনাইদহ) : প্রতিদিনের ন্যায় ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে দিনমজুর ফজলু মন্ডল ও তার সহধর্মীনি পরিশ্রান্ত শরীরে নিজ ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে দেখেন আগুনের লেলিহান শিখায় দাও দাও করে জ্বলছে তার পাশের ঘর। কোনরকমে প্রাণ নিয়ে দুজনে ঘর থেকে বের হয়ে পাড়া প্রতিবেশীর সহায়তায় ঘন্টা খানেক প্রচেষ্টায় টিউবওয়েলের পানি দিয়ে বাড়িতে ধরা আগুন নেভাতে সক্ষম হন। ততক্ষণে পুড়ে সব শেষ। অভাব অনটনের সংসারে মাটি ও টিনের তৈরি দুই ঘরে থাকা সংসারের খুঁটিনাটি জিনিসপত্র সব কিছুই পুড়ে গেছে । আগের দিন কেনা এক বস্তা চালও পুড়েছে আগুনে। দুজনের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই রক্ষা করতে পারেননি তারা । এমনি এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের খালকুলা গ্রামের আনারুল মন্ডলের ছেলে ফজলু মন্ডলের বসত বাড়িতে। ৩ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার কোন রকমে চলছিল । মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় শুধু স্বামী স্ত্রী থাকেন বাড়িটিতে। বৈদ্যুতিক শটসার্কিটে বাড়িতে আগুন লেগেছে বলে সকলে ধারণা করছেন ।শীতের এ সময়ে থাকা খাওয়ার কষ্টের কথা চিন্তা করে ফজলু মন্ডল স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর নিজে পাশের ছোট চটে মোড়ানো খুপরি একটা রান্না ঘরে কনকনে এই শীতে কোনরকমে রাত কাটাচ্ছেন। পাড়া প্রতিবেশীর দেওয়া খাবারে মেটাচ্ছেন পেটের ক্ষুধা। অগ্নিকান্ডের এই ঘটনার ৬ দিন পার হলেও নতুন করে পুনরায় ঘর নির্মানের অর্থ না থাকায় পোড়া ঘর বাড়ি ওই অবস্থায় পড়ে রয়েছে।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সমাজের সামর্থ্যবান কেউই অসহায় ফজলুর পাশে এসে দাঁড়াননি। ড. ভূপেন হাজারিকার বিখ্যাত গানের প্রথম চরণ ” মানুষ মানুষের জন্য ” – কথাটি হয়তো অসহায় নিঃস্ব ফজলুর জীবনে ঘটে যাওয়া বাস্তবতার সাথে অনেকটাই অমিল। সহযোগিতা, সহমর্মিতা কিংবা ভ্রাতৃত্ববোধে পাশে থাকার মতো কোন শব্দই স্পর্শ করেনি আগুনে পুড়ে সব হারানো ফজলুকে। প্রত্যক্ষদর্শী ইতিকা মজুমদার বলেন, বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারের বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেলে শুনি,ভেদুর বাড়ি আগুন ধরেছে।তড়িঘড়ি করে উঠে সবাই মিলে আগুন নেভাতে নেভাতে সব শেষ। ফজলু ভাই খুব গরীব। সমাজের বিত্তবান মানুষের উচিৎ অসহায় এই মানুষের পাশে দাড়ানো ।
সরেজমিনে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ফজলু মন্ডলের বাড়ি যেয়ে দেখা যায়, তিনি রান্না ঘরের একটি কাঠের তৈরি খাটের উপর শুয়ে আছেন। তার সাথে কথা হলে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন ,আগুনে আমার ঘরবাড়ির সাথে সাথে সংসারটাও পুড়ে গেছে। নতুন করে ঘর নির্মাণ করার সামর্থও আমার নেই। আমি কোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা পায় না,। এই ঘটনার দিন শুধুমাত্র উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী ভাই আমাকে ৩ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।ওই টাকা দিয়েই খাট,লেপ ও একটি লুঙ্গি কিনেছি।আর কোনো সাহায্য সহযোগিতা কারো থেকে পাইনি। ঘর নির্মাণে আমি সকলের সহযোগীতা চাই।
কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শুনে আমি গিয়েছিলাম তার বাড়িতে। আমি ব্যক্তিগত ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছি তাকে। অসহায় এই মানুষটির পাশে দাড়াতে সমাজের সামর্থবানদের প্রতি আহবানও জানান তিনি।”দশের লাঠি একের বোঝা”- এই প্রবাদ বাক্যটি যদি ফজলুর ক্ষেত্রে সমাজের মানবিক মানুষগুলো প্রয়োগ করে তাহলে হয়তো আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে সে।















