স্টাফ রিপোর্টর,কালীগঞ্জ,(ঝিনাইদহ): বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে একটু সুখ স্বাচ্ছন্দে জীবন কাটানোর আশায় সুদুর মালয়েশিয়া পাড়ি জমান সাহেব আলী নামের এক যুবক। ৪ বছরের প্রবাস জীবন শেষে বাড়িতে আসেন ছুটিতে। এ সময় তার আপন চাচা কর্তৃক বাড়ির পাশে জমি কেনার জন্য পিড়াপিড়ি শুরু করেন। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত সব টাকাসহ ধার দেনা করে ৬৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন চাচার কাছ থেকে । সাহেব আলীর ক্রয়কৃত জমি তার চাচা দখল সত্ব দিলেও রেজিষ্ট্রি করে না দিয়ে শুরু থেকে ঘোরাতে থাকেন। ২০২০ সালে বিক্রি করে দেওয়া জমি ভাতিজাকে রেজিষ্ট্রী করে দেবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন চাচা। এমনকি ঐ জমি নিজ দখলে নিতে আদালতে মামলাও করেছেন সাহেব আলীর নামে। এমনি এক রক্তের সম্পর্কীয় আপনজন কর্তৃক প্রতারনার ঘটনা ঘটেছে কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের ত্রিলোচনপু গ্রামের মোঃ আলী মালিথার ছেলে সাহেব আলীর সাথে। খোজ নিয়ে জানা যায়, ৪৭ নং ত্রিলোচনপুর মৌজার এস এ ২২৬ খতিয়ানের আর এস ৫৩৭/২৩৩ এর ১১৪০ দাগের মোট ৬৮ শতাংশ জমি সাহেব আলী তার চাচা জহর আলী ( জুলু ডাক্তার) এর নিকট থেকে সর্বমোট ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেন প্রায় ৪ বছর পূর্বে। ঐ সময় বাজার দর অনুযায়ী চাচা জহর আলী গ্রামের মুরব্বিদের উপস্থিতিতে কয়েকবারে মূল্য বুঝে নিলেও তা রেজিষ্ট্রী করে দেন না। জমির কাগজপত্রের ত্রুটির কথা বলে, তা ঠিক করে রেজিস্ট্রী করে দেবেন বলে ঘোরাতে থাকেন। কয়েক বছরে ঐ জমির দাম বর্তমানে দ্বিগুন হওয়ায় জমি আর রেজিষ্টী করে দেবেন না বলে নানা ছলচাতুরী শুরু করেছেন । এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে বসা উঠা করলেও সমাধান টানতে পারেননি সাহেব আলী। সহায় সম্পত্তি বলতে বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই তার। জীর্ণশীর্ণ টিনের তৈরি বাড়িতে বাবা-মাকে নিয়ে কোন রকমে দিনকাটাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে পরের খেতে কামলা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অসহায় হতদরিদ্র সাহেব আলী সারাজীবনের অর্জিত অর্থ দিয়ে জমি কিনে চাচার দ্বারা প্রতারিত হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সুষ্ঠু বিচারের আশায়।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলামের ছেলে আসাদুল ইসলাম বলেন,কোটচাঁদপুরে জিল্লুর বাড়িতে যেয়ে জমির ৪ লাখ টাকা আমি নিজে তুলে দেই তার হাতে। কয়েকবারে সে সাহেব আলীর কাছ থেকে জমির মূল্য বাবদ মোট ৯ লাখ টাকা নিয়েছে। গ্রামের সকলে তা জানে। জিল্লুও টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে। জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় চাচা ভাতিজাকে জমি লিখে না দিয়ে প্রতারনা করছে। আমরা গ্রামবাসী চায় অসহায় সাহেব আলীকে তার হক ৬৮ শতক জমি চাচা জিল্লু রেজিষ্ট্রী করে দিক। ভুক্তভোগী সাহেব আলী বলেন,ভিটের উপর টিনের ঘর ছাড়া আর কিছুই নেই আমার । আমার সাথে চাচার এই প্রতারনা আমি মেনে নিতে পারছি না। আমার টাকা দিয়ে কেনা জমি আমার নামে দ্রুত রেজিষ্ট্রী করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
অভিযুক্ত চাচা জহর আলীর (জিল্লু) সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি সাহেব আলীর নিকট জমি বিক্রি করিনি।সে আমাকে টাকা দিয়েছে তার প্রমাণ কি? তাছাড়া ঐ জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কোর্টে আমি মামলা করেছি। ইস্তেমায় আছি আমি, এ বিষয়ে পরে কথা বলবো বলে মুঠোফোনের সংযোগটি কেটে দেন।
ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ঋতু বলেন,চাচা ভাতিজার জমিজমা ও লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকবার বসাউঠা করা হয়েছে পরিষদে। চাচা জিল্লু জমি বিক্রি বাবদ ভাতিজা সাহেব আলীর নিকট থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি সাহেব আলীকে জমি রেজিস্ট্রি করে দেবেন না, টাকা ফেরত দেবেন। এই নিয়ে ঝামেলা চলছে। এখনো কোনো সমাধানে আসতে পারেনি তারা কেউই।















