ডি এইচ দিলসান : একটা সময়ে বাংলাদেশের
আবেগ ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০০১ সালের
৬ সেপ্টেম্বর কলম্বোতে খেলতে নামল ১৬ বছরের
ছোটখাট গড়নের এক বালক । দর্শক, লংকান দলের
খেলোয়াড় আম্পায়ার সবাই অবাক । সবাই হয়ত
কিছুটা তাচ্ছিল্যই করেছিল । জীবনের প্রথম
টেস্ট ইনিংসে কিছুই করতে পারেনি সেদিন ।
স্কোর ছিল মাত্র ২৬ । তবে দ্বিতীয় ইনিংসে
বিশ্বসেরা বোলার মুরালি আর ভাসদের পিটিয়ে
ছেলেটা করল ১১৪ রান। ক্রিকেটের রেকর্ডবুক
নতুন করে কাঁটাছেড়া করে লেখা হল ছেলেটির
নাম । সর্বকালের সর্বকনিষ্ট টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান
মোহাম্মদ আশরাফুল। কিন্তু নানান ট্রাজেডির
কারনে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে যান বাংলাদেশ দলেরসাবেক এই অধিনায়ক। টেস্ট ক্রিকেটে
সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির
রেকর্ড গড়া ৪০ বছর বয়সী এ তারকা ক্রিকেটার
এখনও মুখিয়ে আছেন খেলার জন্য। তারকা এই
ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে কালো অধ্যায়ও ছিল। ম্যাচ
পাতানোর দায়ে নিষিদ্ধ ছিলেন আট বছর, তারকা
খেল্ধোসঢ়;য়াড় হওয়ায় শাস্তি কমে হয় পাঁচ বছর।
২০১৮ সালে সাজার মেয়াদ শেষে ক্রিকেটে ফেরা
হলেও জাতীয় দলের জার্সিটা আর গায়ে দেওয়া
হয়নি এই তারকা ক্রিকেটারের।
দৈনিক যশোরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আশরাফুল। তার
সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
আগামী এক-দুই মৌসুম পরেই সব ধরনের
ক্রিকেট থেকে অবসর নিবেন উল্লেখ করে আশরাফুল
বলেন, আমি তো যথেষ্ট ক্রিকেট খেলেছি। কিন্তু
যারা তরুণ তারা যে বসে আছে, আমি তাদেরকে
নিয়ে চিন্তিত। আমি এখন শুধু খেলতে চাই।
হয়তো একটা-দুইটা মৌসুম খেলব তারপর শেষ।’
ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ক্রিকেটের সঙ্গেই
থাকার ইচ্ছে আশরাফুলের। নিজের অভিজ্ঞতাগুলো
শেয়ার করতে চান তরুণদের মধ্যে। আশরাফুল বলেন,
‘এখনও ওইভাবে চিন্তা করিনি। কিন্তু ক্রিকেটেরসঙ্গে থাকতে চাই। যেহেতু আমার খেলার অভিজ্ঞতা
আছে আমি সেই জিনিসগুলো শেয়ার করতে
চাই।’
বিদায়ী বছর ঘিরে নানান স্বপ্ন বুনেছিল
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ও তার সমর্থকরা। সেই স্বপ্ন
ছিল মূলত ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপকে
নিয়ে। তবে বছরশেষে সেই স্বপ্নের
ছিটেফোঁটাও হয়নি পূরণ। নতুন বছর শুরু
হয়েছে। ২০২৪ সাল নিয়েও নতুন ভাবে স্বপ্ন
দেখছেন ক্রিকেটাঙ্গন। নতুন বছরের শুরুতেই
বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ
আশরাফুল বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে মুখ খুলনেন
দৈনিক যশোরের কাছে। আগামী টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপ নিয়ে তিনি বলেছেন, গ্রুপ পর্ব পার
হয়ে সুপার এইটে যেতে পারবে বাংলাদেশ। তবে
নকআউট বা সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা কম।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বিষয়ে আশরাফুল বলেন, এ
বছর দু-তিনটি টেস্ট জিতবে বাংলাদেশ। এছাড়াও
মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, মেয়েরা সেমিফাইনালে না উঠতে
পারলেও তাদের পারফরম্যান্স খুব একটা খারাপ হবে না।
সবশেষে যুব বিশ্বকাপের বিষয়ে এই ক্রিকেটার
বলেন, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল অন্তত
সেমিফাইনাল খেলবে।ক্রিকেটের বর্ণিল দিন গুলো নিয়ে আশরাফুল বলেন
আমি ২০০১ সালে অভিষেক টেস্টে সবচেয়ে
কমবয়সে টেস্ট সেঞ্চুরীর বিশ্বরেকর্ড করি।
এর পর ২০০৪ সাল । চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে
কুম্বলে, পাঠানদের বেধড়ক পিটিয়ে অপরাজিত
১৫৮ । তখন এগিয়ে এসে অভিনন্দন জানান
ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার । সেইবার ইরফান
পাঠানের সাথে যৌথভাবে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ
হয়েছিলাম।
ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ১৫৮ রানের পথে সেঞ্চুরীর
পর ২০০৫ সালের ১৮ জুন । ন্যাটওয়েস্ট ট্রফিতে
মহাপরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১০১ বলে ১০০
রানের ইনিংস । প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়াকে
হারালো বাংলাদেশ । সেই সেঞ্চুরিটি ছিল
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি বড় দলের
বিপক্ষে প্রথম।
এরপর ২০০৭ বিশ্বকাপ স্বরন করে আশরাফুল বলেন ।
দ্বিতীয় রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী পেস
আক্রমণ কে গুড়িয়ে খেলেছিলাম ৮৭ রানের ইনিংস ।
পসেই প্রমবারের মত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারালাম
আমরা।















