অভয়নগরে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ দিয়ে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট

0
166

মিঠুন দত্ত: যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ দিয়ে অজ্ঞান করে এক ব্যক্তির সর্বস্ব লুটের ঘটনা ঘটে। গত সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটার সময় নূরবাগ এলাকায় এ চক্রের খপ্পরে পড়ে মোবাইল ফোন,সোনার চেইন ও নগদ টাকা খোয়ান মনিরামপুর উপজেলার পাাঁচাকড়ি গ্রামের গোপাল কর্মকারের ছেলে সনঞ্জিৎ কর্মকার(৩৬) ।
‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ বা স্কোপোলামিন ড্রাগ মূলত তরল ও শুকনো দুই ধরনের হয়। এটি হেলুসিনেটিক ড্রাগ। এ মাদক এর প্রতিক্রিয়া থাকে দুই থেকে তিনদিন। এটি গ্রহণে ভুক্তভোগী সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সুযোগ লুফে নিয়ে সব লুটে নেয় প্রতারকরা।
ভুক্তভোগীর ভাই  ইন্দ্রজিৎ কর্মকার জানান, সোমবার দুপুরে আমার ভাই ব্যাংক থেকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা  তোলা জন্য নওয়াপাড়া বাজরে আসেন । তার পরের থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় । বিকাল থেকে তাকে খোঁজা খুঁজি করে না পেয়ে। পরে রাত সাড়ে ১০ টার সময় অভয়নগর থানায় গেলে, এক ব্যক্তি ফোন করে বলেন সনঞ্জিৎ কর্মকার নামের এক জনকে কে বা কারা নওয়াপাড়া রেল স্টেশনে প্লাটর্ফম ফেলে রেখে গেছে । সাথে সাথে আমরা সেখানে গিয়ে দেখি অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি করেন ।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ খন্দকার মামুন-অর-রশীদ জানান, অচেতন অবস্থায় তাকে পাওয়া গিয়েছে। রোগীর অবস্থা ভাল নয়। কোন ধরনের মেডিসিন দিয়ে তাকে অচেতন করা হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। আমরা আপাতত বিষক্রিয়া কাটাবার জন্য তাকে ওষুধ দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে রেখেছি। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে ৪৮ ঘন্টার বেশি সময় লাগবে।
ভুক্তভোগীর ভাই আরো বলেন , মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় সনঞ্জিৎ বলেন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাসায় ফেরার সময়, বাসার জন্য নূরবাগে একটি ফলের দোকান থেকে ফল কেনার সময় পাশের থেকে এক ব্যক্তি তার মুখে স্প্রে করে । তার পরে থেকে আর কিছুই বলতে পারেনা সে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আকিকুল ইসলাম জানান, এঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ হয়নি। ওনার পরিবারে লোক থানায় এসে জানান সনঞ্জিৎ কর্মকার বাসা থেকে বের হন  ব্যাংক থেকে টাকা তোলবার জন্য।বিকালের পর থেকে তার তার ফোন বন্ধ। পরে আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিলাম। তার কিছু ক্ষণ পরে তাদের কাছে একটি ফোন আসে সে রেল স্টেশনে প্লাটর্ফম পড়ে আছে। পরে থানা পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here