চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি ॥ বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের গোবিলা গ্রামে যুবলীগ নেতা শিমুল হোসেন (৪০) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ মুল হত্যাকারী একই গ্রামের বুলবুল ও নাঈম হোসেনকে আটক করেছে।রাতেই পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে বলে জানা গেছে। শুক্রবার বাদ আছর জানাযা শেষে গোবিলা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মাদক সেবনে বাঁধা প্রদান ও পরকীয়া প্রেমের কারণে খুন হতে পারে শিমুল বলে এলাকায় ব্যাপক গুনঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি আটকৃতদের জিজ্ঞাসাদে খুনের আসল কারণ জানা যাবে।রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।এদিকে শিমুল হত্যার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গোবিলা গ্রামের জামির হোসেনের ছেলে বুলবুল হোসেন ও হযরত আলীর ছেলে নাঈম হোসেন বিভিন্ন প্রকারের নেশা করে এলাকার পরিবেশ নষ্ঠ করে আসছে র্দীঘদিন ধরে। এ ঘটনায় একই গ্রামের মকলেচ বিশ্বাসের ছেলে স্থানীয় ওর্য়াড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শিমুল এ বিষয়ে তাদের একাধিকবার নিষেধ করে। সর্বশেষ ঘটনার দিন বিকালে নিহত শিমুল বুলবুল ও নাঈমকে স্থানীয় গোবিলা বাজারে প্রকাশ্যে নেশা না করার জন্য বকাবকি করে।নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর ধারণা এ ঘটনায় বুলবুল ও নাঈম শিমুলকে রাতে একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করতে পারে।
অপর একটি সূত্রে জানা গেছে নিহত শিমুলের সাথে বুলবুলের স্ত্রীর পরকীয়া প্রেম ছিলো। যে ঘটনাটি বুলবুল জানতে পেরে শিমুলকে কয়েক দফা নিষেধ করে তার বউয়ের সাথে কথা বলতে। শিমুল বুলবুলের কথা অমান্য করে তার বউয়ের সাথে যোগাযোগ রেখে চলে। এই ঘটনাও ক্ষিপ্ত হয়ে বুলবুল নাঈমকে সাথে নিয়ে শিমুলকে খুন করতে পারে। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার বিকালে শিমুল গোবিলা বাজারে বুলবুল ও নাঈমকে প্রকাশ্যে নেশার জন্য শাসানোর কারণে তার উপর ক্ষিপ্ত হয় তারা। তারা দু’জন মিলে এক সাথে গাঁজা সেবন করে সন্ধ্যার পর শিমুলের গতিবিধি লক্ষ্য শুরু করে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে তারা দু’জন গোবিলা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সেরেকুলের বাড়ির নিকট পৌঁছালে চড়াও হয় শিমুলের ওপর। প্রথমে বাকবিতন্ডা ও পরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায় তারা। ওইসময় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিমুল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাত নয়টা দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনলে জরুরি বিভাগের ডাক্তার সাকিব মো. আল হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী নাসরিন বেগম জানিয়েছেন, এলাকার পরিচিত লোকজনই তাকে হত্যা করেছে। শুধু রাজনীতি করার কারণেই এই খুন। এলাকায় অনিয়ম অপরাধের বিরুদ্ধে সে সব সময় সোচ্চার থাকায় অপরাধীরা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে তার স্বামীর। তিনি জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন।
এদিকে শুক্রবার বাদ আছর স্থানীয় গোবিলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাযায় চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেনসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগসহ দলীয় বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।এ ব্যাপারে সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সেলিম হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত মুল আসামী বুলবুল ও নাঈমকে আটক করেছে।তবে কি কারণে শিমুলকে খুন করা হয়েছে তা আটকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।তিনি আরো বলেন এই ঘটনায় আরো কেউ জড়িত থাকলে তারও আইনের আওতায় আনা হবে।বর্তমানে এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।















