যশোরের রূপদিয়ায় হনুমানের আক্রমণে; আহত অন্তত ১৫ ব্যক্তি

0
191

রাসেল মাহমুদ : সম্প্রতি যশোরের রূপদিয়া এলাকার বিভিন্ন স্পটে একটি দলছুট কালো মুখো হনুমান দেখা মিলছে। এলাকার বাজার-ঘাট, পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন দোকানপাট ও বাসা-বাড়িতে ঢুকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে অহরহ। এঘটনায় গত চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে আক্রান্ত হয়েছে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি। স্থানীয় উৎসুক জনতা দলছুট এই হনুমান’টিকে ক্ষুধার্ত ভেবে খাবার দিচ্ছে সাধ্য মতন। প্রথম দিকে হনুমান’টি স্বাভাবিক আচরণ দেখলে যে কেউ মনে করবে অত্যান্ত নিরিহ প্রকৃতির। খাবার পাওয়ার পর মানুষদের এক্কেবারে সন্নিদ্ধে গিয়ে জড়িয়ে ধরে আদর করছে হনুমানটি। এই দৃশ্য দেখে যে কেউ আকৃষ্ট হচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে অত্যান্ত নিরিহ প্রকৃতির প্রাণি। আদর করার এক ফাঁকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘাড়ে ও মুখে কামড় বসিয়ে ক্ষবিক্ষত করে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে। প্রাণি’টি রূপদিয়া অঞ্চলে অবস্থান করছে প্রায় ৪/৫ দিন ধরে । এ’ কয়দিনের ব্যবধানে আক্রমনের শিকার হয়েছে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের হাটবিলা গ্রামের ওলিয়ার রহমানের ছেলে নয়ন, কচুয়া ইউনিয়নের রায়মানিক গ্রামের রফিক শেখের ছেলে আজিম হোসেন, সাইফুল ইসলাম খানের ছেলে আশরাফুল, কচুয়ার সাদ্দাম হোসেন (ইজিবাইক চালক), ঘোড়াগাছার নিলু সাহা, কচুয়া খানপাড়ার আসাদুল মোল্যার ছেলে নাইম মোল্যা, কচুয়া নতুন বাজারের সবুজ সহ অন্তত ১০-১৫ জনকে আক্রমণ করে আহত করেছে। আহত ব্যক্তিরা তাক্ষনিক যশোর সদর হসপিটল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। আক্রান্ত একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, হনুমানটি হঠাৎ সামনে চলে আসছে। এরপর ক্ষুদার্থ ভেবে বিভিন্ন ফল-ফলাদি দিলে কিছু’টা খেয়ে। নিরিহতার ছলে একদম পোষমানা অন্য সকল প্রাণির মত গাঁ ঘেষে আদর করতে করতে হঠাৎ হিংস্র হয়ে উঠছে। মুখমণ্ডল ও ঘাড়ে স্বজোরে কামড়ে বসিয়ে দিচ্ছে। এরপর সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। আক্রান্তদের অভিমত প্রাণি’টি হয় পাগলাটে হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিনই কেও না কেও এই প্রাণিটির আক্রমনের শিকার হচ্ছে। এথেকে পরিত্রাণে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হয়তো গণ পিটুনিতে মৃত্যু হতে পারে দলছুট কালোমুখ হনুমান’টির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here