উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জেলা যশোর অনেক কিছুর জন্যই বিখ্যাত হলেও আমাদের কাছে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হওয়ার আগেই স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম বীরত্বগাঁথায় প্রাণপন লড়াইয়ে দেশের সর্বপ্রথম শত্রু মুক্ত হয় আমাদেরই এই যশোর জেলা।
সেই অহংকামণ্ডিত গৌরবগাঁথার দিনটি একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর। তাই যশোরবাসী চিরকাল মাথা উঁচু করে বলতে পারে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যশোরই হল প্রথম শত্রু মুক্ত জেলা। এ আমাদের পরম অহংকার। পশ্চিম পাকিস্তানীরা বিমাতাসুলভ আচরণ করায় পূর্ব পাকিস্তানে দিনে দিনে অসোন্তষ দানা বাঁধতে শুরু করে। আর অসোন্তষে নানামুখী আন্দোলন শুরু হয়। রাজনৈতিক সচেতনতায় যশোরবাসী সবসময় ছিল এগিয়ে। এরই পরম্পরায় ১৯৬৬ সালে বৃহত্তর যশোর (মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল ও যশোর) জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাই। দায়িত্ব পেয়ে যশোরে এসব আন্দোলনে আরও সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ি।
’৬৬ এর পাক-ভারত যুদ্ধের পর লাহোর কন্ফারেন্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। তারপর থেকেই সারা পূর্বপাকিস্তানে ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে গণ আন্দোল শুরু হয়। ওই সময় সর্বপ্রথম স্বাধীনবাংলা নিউকিয়ার্সের বৃহত্তর যশোর জেলার দায়িত্ব পেয়ে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে নিউকিয়ার্সের সদস্য কাজ শুরু করি। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ’৬৮ সালে রবিউল আলম, সালেহা বেগম, কেএম খয়রাত হোসেন, আব্দুল হাই, মহিউদ্দীন মঈনসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র নিউকিয়ার্সে যোগ দেয়। এদের সাথে নিয়ে ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রতিনিয়ত উপজেলায় উপজেলায় বিভিন্ন স্পটে ও স্কুল- কলেজে সভা সমাবেশ ও মিছিল করে জনমত গড়ে তোলা হয়। এই নিউকিয়ার্সের প্রধান ছিলেন সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, কাজী আরিফ প্রমুখ। এদের নির্দেশে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। আমার দায়িত্ব ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও ছাত্র এবং ছাত্রলীগের সদস্যদের ৬ দফা ও স্বাধীনতার পক্ষে আনা ও জনমত সৃষ্টি করা। এই কাজ করতে করতে ডক্টর মুজাহারুল ইসলামকে (বাংলা বিভাগের প্রধান এবং পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর) ৬ দফার পক্ষে এনে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করিয়ে দেই। তারপর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়ে যায়। শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মচারীগণ ৬ দফা ও স্বাধীনতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করে। এরপরই ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ১৯৬৯ সালে শুরু হয় গণআন্দোলন। ৬দফা ও ১১দফার ভিত্তিতে গণআন্দোলনের চাপে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর রাউলপিণ্ডি কনফারেন্সে ৬দফা ও ১১দফা তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু। পতন হয় আইয়ুব খানের। ক্ষমতা পায় ইয়াইয়া খান। তিনি সামরিক শাসন জারি করেন। এরপর সত্তর সালের নির্বাচনে বৃহত্তর যশোর থেকে রওশন আলী, মোশাররফ হোসেন এলএলবি, মশিউর রহমান, আবুল হোসেন, তবিবর রহমান সরদার, সুবোধ কুমার মিত্র, এড. নুরুল ইসলাম, শাহ হাদিউজ্জামান, মঈনুদ্দিন মিয়াজি, সোহরাব, আসাদুজ্জামান, খন্দকার হাফিজসহ সবাই পাশ করে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা দেয়া হয় না। একাত্তরের ১ মার্চ থেকে ৬দফা ও ১১দফা- ১দফা দাবিতে রূপান্তরিত হয়। এ দাবিতে আরও সরব হয়ে ওঠে যশোর। সবার মুখে মুখে একই স্লোগান- ‘তোমার দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ; বাংলাদেশ স্বাধীন করো পাকিস্তানকে লাথি মারো।’ ‘আমার নেতা তোমার নেতা- শেখ মুজিব শেখ মুজিব,’ ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা।’গণপরিষদের অধিবেশন আকস্মিকভাবে স্থগিত ঘোষণার পর ােভে ফেটে পড়ে যশোরবাসী। ৩ মার্চ সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শহরে বিােভ মিছিল বের করে। ছাত্রদের ঐ মিছিলটি কালেক্টরেট ভবনের কাছে এসে পৌঁছালে ভবনের ছাদে উত্তোলিত পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে পুড়িয়ে ফেলে তরুণ ছাত্রনেতা আব্দুল হাই। বেলা ১১টার দিকে টেলিফোন এক্সচেঞ্জে সেনা সদস্যদের দেখে উত্তেজিত ছাত্ররা তাদের ওপর ইটপাটকেল ছোঁড়ে। সেনা সদস্যরা তখন তাদের দিকে গুলিবর্ষণ করে। এতে এক্সচেঞ্জের অদূরে গোলপাতার ঘরে অবস্থানকারী মধ্যবয়সী নারী চারুবালা কর নিহত হন। মুক্তিযুদ্ধে তিনিই প্রথম শহীদ। বিকালে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নীলগঞ্জ শ্মশানে। এ সময় শহরের দড়াটানা থেকে নীলগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা ছিল লোকে লোকারণ্য।
এরপর এলো বাঙ্গালী জাতির মহেন্দ্রক্ষণ! ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ১৮ মিনিটের ভাষণ। যে ভাষণে তিনি পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায় সংগ্রাম কমিটি গড়ে তোলার আহবান জানান। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে যশোরেও গড়ে তোলা হয় সংগ্রাম কমিটি। সংগ্রাম কমিটির নেতৃত্বে সারা দেশের মত যশোরেরও আপামর জনগণ আওয়ামী পতাকা তলে যোগ দেয়। স্বাধীনতার স্বপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে যশোরে প্রতিদিন মিছিল সমাবেশ চলতো। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের পর স্বাধীনতাকামী যশোরবাসী পাক সেনাদের ঘাঁটি যশোর সেনানিবাসে খাদ্য সরবরাহ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এরমধ্যেই এলো ভয়াল ২৫ মার্চ। যেদিনে যশোর সেনানিবাস থেকে সেনা সদস্যরা শহরে ঢোকার সময় মুক্তিকামী সাধারণ মানুষের চোরাগোপ্তা হামলার শিকার হয়। গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণায় শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ।পরের দিন ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর গণপরিষদ সদস্য অ্যাড. মশিউর রহমানকে পাক বাহিনী শহরের সিভিল কোর্ট এলাকার বাসা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। ২৬ মার্চ ছুটিপুর বর্ডার দিয়ে মোশাররফ হোসেনকে সাথে নিয়ে বনগাঁয় চলে যাই। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে অস্ত্র ট্রেনিং দেয়া হয়। ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে। ট্রেনিংয়ে ছিল- রবিউল আলম, এজেডএম ফিরোজ, রাজেক আহমেদ, আবদুল হাই, খয়রাত হোসেন, মতিউর রহমান, মান্নান (প্রেস), আবদার, শাহ রফিকুজ্জামান, আব্দুল মালেক, শেখ আবদুস সালাম, সমীর সিংহ রায়, আশরাফ চৌধুরী, ইকু চৌধুরী, মোফাজ্জেল হোসেন, সফিয়ার, শার্শার বাবল, কেশবপুরের রফিক, মাগুরার আবুল খয়ের, শৈলকূপার আবদুল হাই, নড়াইলের জিন্নাহ, হুমায়ুন শরীফসহ আরো অনেকেই। ট্রেনিং শেষে বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর (লিবারেশন ফোর্স- বিএলএফ) এর প্রধানের দায়িত্ব পাই। সহ অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় রবিউল আলমকে। এরপর দেরাদুন থেকে শিলিগুড়ী হয়ে কোলকাতায় এসে ৮ নম্বর সেক্টরের তোফায়েল আহমেদের তত্তাবধানে চলে আসি। তিনি আমাদের ভারতীয় সেনাবাহিনী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেন। যশোরে এসে প্রত্যেক উপজেলা কমান্ডারের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়। শার্শায় মাবুদ, ঝিকরগাছায় আব্দুল হাই, সদরে (উত্তর) রবিউল, দক্ষিণে আমি, মণিরামপুর খয়রাত হোসেন, কেশবপুরে শেখ আব্দুস সালাম, অভয়নগরে আব্দুল মালেক এবং বাঘারপাড়ায় রাজেক আহমেদকে উপজেলা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়া মহেশপুরে এজেডএম ফিরোজ, নড়াইলে শরীফ হুমায়ুন, মাগুরায় আবুল খয়ের, শৈলকুপায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল হাইকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। কমান্ডারগণ তার নিজনিজ উপজেলায় তরুণদের সংগঠিত করে অস্ত্র ট্রেনিং দেয়। এরই মাঝে ৩০ মার্চ পাকসেনারা যশোর শহর ছেড়ে সেনানিবাসে ফিরে যায়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা ক্যান্টনমেন্টের চারদিক আরিবপুর, কাশিমপুর, খয়েরতলা, শানতলা জুড়ে অবস্থান নেয়। ওইদিনই (৩০ মার্চ) ক্যাপ্টেন হাফিজউদ্দীনের নেতৃত্বে যশোর সেনানিবাসের বাঙালি সেনারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ৩১ মার্চ নড়াইল থেকে হাজার হাজার মানুষের জঙ্গি মিছিল আসে যশোরে। তারা শহরবাসীর সহায়তায় হামলা চালায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। মুক্তি পান সকল রাজবন্দী। যশোর ছিল মুক্তিযুদ্ধের ৮ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। কমান্ডার ছিলেন মেজর মঞ্জুর। আর সেখানে পাক বাহিনীর ১০৭ নম্বর ব্রিগেড মোতায়েন ছিল। এর কমান্ডার ছিলেন ব্রিগেডিয়ার হায়াত খান। যশোর সেনানিবাস থেকে পাক বাহিনী ৬টি জেলা নিয়ন্ত্রণ করতো। ১৮ অক্টোবর শুক্রবার কায়েমখোলায় পাক আর্মি ও রাজাকারদের সাথে তুমুল যুদ্ধ হয়। এতে ইঞ্জিনিয়র আব্দুল হামিদসহ বেশ কয়েকজন মারা যায়। যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা যার যার অবস্থানে ফিরে আসে। নভেম্বর মাসে এ যুদ্ধ চূড়ান্তলগ্নে উপনীত হয়। ১৩ নভেম্বর চৌগাছা সেক্টরে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯ নভেম্বর ভারতীয় মিত্র বাহিনী অবস্থান নেয় গরিবপুরে। ২১ ও ২২ নভেম্বর তাদের সঙ্গে পাক বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধ ছিল দুই পদাতিক বাহিনীর সর্বাত্মক লড়াই। পদাতিক বাহিনীকে দ্রুত এগিয়ে যেতে পেছন থেকে গোলন্দাজ ও বিমান বাহিনী সহায়তা করে। এ যুদ্ধে পাক বাহিনীর শোচনীয় পরাজয় হয়। পাকসেনারা দলে দলে খুলনার দিকে পালাতে থাকে। চৌগাছার এ যুদ্ধে পাকিস্তানের ১১টি পেটন ট্যাঙ্ক ও ৩টি শ্যাবর জেট বিমান ধ্বংস হয়। নিহত হয় অন্তত ৩শ’ পাকসেনা।
চৌগাছা যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয় পাক বাহিনীর ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে। তাদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে। রাজাকার-দালালরা পাকিস্তানি প ত্যাগ করে দিক-বিদিক পালাতে থাকে। সৈন্যদের মনোবল চাঙা করতে ২২ নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক কমান্ডার নিয়াজী যশোর ক্যান্টনমেন্ট সফর করেও শেষ রা করতে পারেননি।
এরপর আসে সেই মহেন্দ্রক্ষণ ৬ ডিসেম্বর; পাক সেনাদের যশোর দুর্গের পতন। সেদিন সকালে ও দুপুরে দুই দফায় প্রচন্ড লড়াই হয় ভারতীয় ৯ম পদাতিক ও ৪র্থ মাউন্টেন ডিভিশনের সাথে পাকিস্তানি ৯ম ডিভিশনের। সুরতি পাক দুর্গ বলে খ্যাত যশোর ক্যান্টনমেন্টে পর্যাপ্ত সৈন্য না থাকায় পাকিস্তানি সেনারা হতোদ্যম হয়ে যুদ্ধত্রে ছেড়ে পালাতে থাকে। মুখোমুখি সে যুদ্ধে পাকসেনাদের অবস্থান ছিল যশোর ক্যান্টনমেন্টের ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে আফরায়। বাংলাদেশের ৮ কিলোমিটার অভ্যন্তরে গরিবপুরে মিত্র বাহিনী অবস্থান নেয়। সীমান্তের ওপারে বয়রা থেকে দূরপাল্লার কামানের শেল এসে পড়ে যশোর ক্যান্টনমেন্ট, বিমান ঘাঁটিতে। আফরার প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ায় পাকসেনাদের পালানো ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। হৈবতপুর এবং আশপাশের গ্রামের মুক্তিকামী মানুষ পাকসেনাদের হত্যা করতে থাকে। এই যুদ্ধে ভারতীয় অন্তত একশ’ যোদ্ধা শহীদ হন। নিহত হয় বিপুল সংখ্যক পাকসেনা। শেষ পর্যন্ত পাক বাহিনী যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে খুলনায় পালিয়ে যায়। এভাবেই পতন ঘটে যশোর দুর্গের। ৬ ডিসেম্বর পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাস হয়ে যায় যশোর।
জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে পাকবাহিনীর হাত থেকে যারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন। দূর্ভাগ্যের বিষয় সেই সমস্ত বীর যোদ্ধাদের দেশ স্বাধীনের পর কোন সরকারই মূল্যায়ন করেনি। যা আজ বর্তমান সরকার করছে। এক সময় হাজারো সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন জাতির সেই সমস্ত সূর্য সন্তানরা। বাংলার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের সুযোগ্য কন্যার উদ্যোগে দেশের শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধারা আজ সম্মানিত হচ্ছেন। আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। পাকবাহিনীর পক্ষের শক্তি আজ পরাজিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশ আজ উন্নতির দিকে এগিয়ে চলেছে। উন্নতির শিখরের দিকে ধাবিত আমাদের এই সোনার বাংলা আর যেন কোন পরাজিত শক্তির কাছে বাধাগ্রস্ত না হয় এই আমার কামনা।















