পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছায় উপজেলা বন উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই সরকারি রাস্তার পাশে সরকারি গাছ উপজেলার সেই দূর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায়ের নির্দেশে কর্তনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের দেবদুয়ার মালোপাড়া এলাকায় স্হানীয় ইন্দ্রজিৎ ও ভবতোষের নেতৃত্বে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার ৬টি বড় বড় সিরিষ গাছ(রেন্টি) কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।বর্তমানে গাছ গুলো চেরাই করে তক্তা তৈরির উদ্দেশ্যে স্হানীয় ফুলতলা বাজার সংলগ্ন একটি স’মিলে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে শুক্রবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যেয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এ দিকে গাছ কাটার খবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পেয়ে তাৎক্ষণিক উপজেলা বন কর্মকর্তা কে পাঠিয়ে কাটা গাছ গুলো জব্দ করেছে। আর সরকারি গাছ কাটার জন্য কাউকে অনুমতি ও দেয়া হয়নি বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন। স্থানীয়রা জানান,উপজেলার চাঁদখালীর দেবদুয়ার মালোপাড়া সংলগ্ন সড়কে ওই গাছ গুলো ছিল। রাস্তা ভাঙন রোধে ওই গাছগুলো ভূমিকা রাখছিল।তবে গত ২০ মার্চ’২৪ উপজেলা বন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায়ের স্বাক্ষরিত অনুমতি পত্রের আলোকে গত কয়েক দিন ধরে স্হানীয় বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ ও ভবতোষের নেতৃত্বে গাছ গুলো কাটা হয়। আর শুক্রবার সকালে ঐ গাছ গুলো নসিমন যোগে স্হানীয় ফুলতলা বাজার সংলগ্ন একটি স’মিলে চেরাই করে তক্তা তৈরির উদ্দেশ্যে রাখা হয়। বিষয়টি তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ গতিতে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় নানান আলোচনা সমালোচনা। এ খবরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌছে কাটা গাছের অংশ গুলো স্হানীয় ফুলতলা স’মিল থেকে জব্দ করেন উপজেলা বন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ বলেন,গাছ গুলো আমাদের লাগানো। উপজেলা বন কর্মকর্তার প্রেমানন্দ রায়ের অনুমতিতে আমরা ৬টি বড় বড় সিরিষ(রেন্টি)গাছ কেটে নিয়েছি।তবে আরেক অভিযুক্ত ভবতোষ সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।
উপজেলা বন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায় বলেন,গাছ গুলো ওদের লাগানো তাই ওদের কে গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছি। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে স্হানীয় ফুলতলা স’মিল থেকে কাটা গাছের অংশ গুলো জব্দ করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন বলেন,সরকারি গাছ কাটার জন্য কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি। সরকারি গাছ কাটার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক উপজেলা বন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্হলে পাঠিয়ে স্হানীয় স’মিল থেকে কাটা গাছের অংশ গুলো জব্দ করা হয়েছে। তবে যারা সরকারি গাছ কেটেছে, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য উপজেলা বন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায় ২০১৭ সালে তৎকালীন গদাইপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন সড়কে থাকা উপজেলা বন উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির নাম মাত্র অনুমতি দেয়া ও কর্তনের ঘটনায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ দূর্নীতি বাজ কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায় কে বাগেরহাটে বদলী করেন।















