এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: মেডিকেলে ছেলেকে ভর্তি করে তার লেখাপড়ার খরচ কি ভাবে যোগাবেন তা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অসহায় এক মা। অদম্য মেধাবী ফরহাদ হোসেন এ বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ লাভ করে। ফরহাদ হোসেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের মনিরুজ্জামান ও হোসনেয়ারা খাতুন দম্পত্তির ছেলে। ছোট কাল থেকেই তার লেখপড়ার আগ্রহ দেখে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ডাক্তার পড়াবেন বলে উৎসাহ দেওয়া হতো। সে মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি হয়েছে। কিন্তু এখন তার লেখাপড়া কিভাবে চলবে তা নিয়ে সংসারের একমাত্র আয়ক্ষম ব্যক্তি ফরহাদের মা পড়েছেন দুঃচিন্তায়।
উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে ফরহাদ হোসেন। সে কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও কেশবপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ লাভ করে। ফরহাদ যখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র তখন তার বাবা স্টোক জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষমহীন হয়ে পড়েন। বাবা কর্মহীন হয়ে পড়ায় মা হোসনেয়ারা খাতুন অন্যের কাঁথা সেলাই করে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের লেখাপড়া চালান। ফরহাদ জানায়, সে স্কুল জীবন থেকেই প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাইভেট বা কোচিং করানোর মত কোন সামর্থ ছিল না। তার লেখাপড়ার আগ্রহ দেখে কেশবপুরের দীনেশ স্যার ও সাত্তার স্যার মাঝে মধ্যে ফরহাদকে সহযোগিতা করতেন বলে সে জানায়। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে মেডিকেলে পড়াশোনা চালানোর মত কোন সামার্থ নেই। মেডিকেলে পড়তে হলে অন্যের সহযোগিতা ছাড়া কোন ভাবেই সম্ভব হবে না। তার একটি ছোট বোন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া শোনা করে। সেও মেধাবী।
হোসনেয়ারা খাতুন বলেন, ছেলে অনেক দিন পানি-পান্তা খেয়ে স্কুল কলেজ করেছে। শত কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা থেকে সরে আসেনি। ছোট্ট একটি টিনের চালার নিচে তাদের বসবাস। শীত-গরম উপেক্ষা করেই টিনের চালার নিচে পড়াশোনা চালিয়েছে ছেলে। অন্যের ১টি কাঁথা সেলাই করে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করেন হোসনেয়ারা। মাসে ৩ থেকে ৪টি কাঁথা সেলাই করতে পারেন তিনি। অনেক মাসে কোন কাজও থাকেনা। তখন সংসার চালাতে হোসনেয়ারাকে ভাইদের দারস্ত হতে হয়। ফরহাদ মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ শুরু হয়। কিন্তু তার পরিবারে হাসি যেন ম্লান হতে থাকে। কি ভাবে ছেলেকে মেডিকেলে ভর্তি করাবেন তা নিয়ে মা হোসনেয়ারা যেন উদ্বিঘ্ন হয়ে পড়েন। এলাকাবাসীর নিকট থেকে যাকাতের পাওয়া টাকা ও ভাইদের সহযোগিতায় ফরহাদকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর এখন কিভাবে ছেলের লেখাপড়ার খরচ যোগাবেন তা ভেবে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন হোসনেয়ারা খাতুন। তিনি ছেলের মেডিকেলে লেখাপড়ার জন্য দেশের দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা চেয়েছেন।
এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ফরহাদ হোসেনের পরিবার অত্যন্ত অসহায়। কিন্তু ফরহাদ কখনো পড়াশোনা ছাড়েনি। সে সহযোগিতা পেলে মেডিকেল পড়ে এসে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত হতে পারবে।
কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, ফরহাদের পড়াশোনার আগ্রহ দেখে কলেজ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হতো। সে মেডিকেলে সহযোগিতা পেলে সহজেই ডাক্তার হয়ে বেরিয়ে আসতে পারবে।















