ভালো মনের একজন মানুষকে উপজেলা চেয়ারম্যান পেতে চান কেশবপুরবাসী

0
277

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: কেশবপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন জমে উঠেছে। আগামী ৮ মে প্রথম ধাপে এ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকা ঘুরে জানা গেছে ৭ জন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ মুহুর্তে ৪ জনের মধ্যেই জয় পরাজয় নিশ্চিত হবে বলে ধারণা করছেন সাধারণ মানুষ।
চেয়ারম্যান পদে আব্দুল্লাহ-নূর-আল আহসান বাচ্চু (দোয়াত-কলম), মফিজুর রহমান (ঘোড়া), কাজী মুজাহীদুল ইসলাম (হেলিকপ্টার), নাসিমা আকতার সাদেক (শালিক পাখি), এস এম মাহবুবুর রহমান (মোটর সাইকেল), ওবায়দুর রহমান (জোড়া ফুল) ও ইমদাদুল হক (আনারস) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। সকল প্রার্থীই নিজেদের পক্ষে প্রচার প্রচারণাসহ বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা করে চলেছেন। সরেজমিন ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকা ঘুরে জানা গেছে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও দোয়াত-কলম, ঘোড়া, হেলিকপ্টার ও শালিক পাখি প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে এখন জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও অনেক প্রার্থীর পক্ষে রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের সক্রীয় অংশ গ্রহণ দেখা গেছে। এ কারণে নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিয়েও চলছে তাদের অতীত কর্মকান্ডসহ আচার-ব্যবহার নিয়ে।
সরেজমিন, শনিবার বিকেলে উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় গেলে কথা হয় একজন ভ্যানচালকের (নাম প্রকাশ না করা শর্তে) সঙ্গে তিনি বলেন, এখন যারা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন তাদের ভেতর থেকে অনেকেই একটি রাজনৈতিক দলের পদ পদবীতে রয়েছেন। সমস্যায় পড়ে তাদের কাছে গেলে না চেনার ভান করে চলে যায়। ওই সমস্ত প্রার্থীদের ব্যাপারে ভোটাররা ভেবে চিন্তেই ভোট দেবেন। উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের হদ গ্রামের কৃষক হযরত আলী বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মানুষ এমনই একজন প্রার্থীকে চান যিনি ভোটে জিতে সাধারণ মানুষদেরকে কাছে নিয়ে বসতে পারেন। এলাকার মানুষ এমনই একজন সহজ সরল মানুষকে ভোট দিয়ে জিতাতে চান। উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মাসুদুজ্জামান বলেন, চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আব্দুল্লাহ-নূর-আল আহসান বাচ্চু (দোয়াত-কলম), মফিজুর রহমান (ঘোড়া), কাজী মুজাহীদুল ইসলাম (হেলিকপ্টার) ও নাসিমা আকতার সাদেককে (শালিক পাখি) নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত এই ৪ প্রার্থীর মধ্যেই জয় পরাজ নির্ধারণ হবে। তবে উপজেলা ব্যাপী তৃর্ণমূল ভোটারদের মধ্যে আব্দুল্লাহ-নূর-আল আহসান বাচ্চুর বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ত্যাগী বর্ষিয়ান নেতা সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হালীমের একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ-নূর-আল আহসান বাচ্চু। আব্দুল হালীমের সময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের একটি বৃহত্তর অংশ বাচ্চু সমর্থন পাবেন বলেও সাবেক মেম্বার মাসুদুজ্জামান জানিয়েছেন।
কেশবপুর উপজেলা পরিষদ ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ বিশ হাজার ৯৫৪ জন। এর ভেতর পুরুষ ভোটার এক লাখ ১১ হাজার ৭৭৫ জন, নারী ভোটার এক লাখ নয় হাজার ১৭৭ জন ও হিজড়া দুই জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৯৫টি। আগামী বুধবার (৮ মে) প্রথম ধাপে এ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here