জসিম উদ্দিন, শার্শা :যশোরের ঝিকরগাছা বদরুদ্দীন মুসলিম হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর কৃতি শিক্ষার্থী কাজিম নাহইয়ান সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে “Bangabandhu Multifarious service provider (BMSP) Robot ” তৈরি করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
অত্র বিদ্যালয়ের সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক, মা-বাবা ও বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় দীর্ঘ তিন মাসের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সে এই রোবট তৈরি করে সফল হয়েছেন। যেটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে৷
নতুন প্রযুক্তিতে তৈরি রোবটটি বহুমুখী কাজ করতে সক্ষম। যেখানে টেসলা কোম্পানির একটি রোবটের দাম তিন লক্ষ টাকার বেশি সেখানে কাজিম নাহইয়ানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি রোবটটি অনেক কম মূল্যে পূর্ণাঙ্গ রুপ দেওয়া সম্ভব।
কাজিম নাহইয়ান বলেন, রোবটটি তৈরি করতে ৮-৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তি ও উন্নত মানের ডিভাইস ব্যবহার করেও অনেক কম মূল্যে এটি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। যা অন্যান্য রোবট থেকে অনন্য করে তুলেছে।
রোবটটি তৈরি করে কাজিম নাহইয়ান ইতিমধ্যে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা-২০২৩ এ জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ও বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়াও ২০২৪ সালে ৪৫ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা-২০২৪ এ দৈনন্দিন বিজ্ঞান বিভাগে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
কাজিম নাহইয়ানের রোবটের বৈশিষ্ট্য জানতে সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমান ব্যস্ততম জীবনযাত্রায় অসহায় বৃদ্ধ ও শিশুদের দেখাশোনা এবং বিনোদনের অন্যতম জটিল সামাজিক সমস্যার সমাধান রোবটটির মাধ্যমে খুব সহজেই করা যাবে।
যেমন খাদ্য ,ঔষধ প্রদান, বিনোদনে গল্প করা, গান শোনানো। তাছাড়া এর নিয়ন্ত্রণকারী এর জন্য তৈরি বিশেষ App এ সরাসরি বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে কাজ করাতে পারবেন।
অগ্নিকাণ্ড দেশের অন্যতম মারাত্মক সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান কল্পে রোবটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রোবটটির অবস্থানের চারদিকে ১০০- ৫০০মিটারের মধ্যে অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হলে তা সেন্সরের মাধ্যমে সনাক্ত করে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে SMS ও Email করে জানিয়ে দিবে৷
সেই সাথে এর অ্যাপ ব্যবহারকারীর ফোনে SMS ও Email পাঠাবে৷ এছাড়াও ঐ স্থানের GPS লোকেশন ফায়ার সার্ভিসকে পাঠিয়ে দিবে ৷ ফায়ার সার্ভিস না এসে পৌঁছানো পর্যন্ত রোবটটি তার ট্যাঙ্কে থাকা পানি অথবা কার্বন-ডাই-অক্সাইড দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করবে।
রোগীদের চিকিৎসা সেবাইও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নার্সগণ নিরাপদ দূরত্বে থেকে রোগীদের পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসা প্রদান ও সেবা প্রদান করতে পারবেন এই রোবটের মাধ্যমে।
বিশ্বের যেকোন স্থান থেকে রোবটের মাধ্যমে শ্রেণীকার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন শিক্ষকরা। যেমন: পাঠদান, কথোপকথন ও বিনোদনের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন অতি সহজে।
কৃষি প্রধান দেশে কৃষি কাজে রোবটটি সকল ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। যেমনঃ কৃষক ঘরে বসেই জমিতে সেচ, কীটনাশক ও সার প্রদান করতে পারবেন। মৎস্যচাষে জলাশয়ে পানি দেওয়া, মাছের ঔষধ প্রদান খামার মালিক বাড়িতে বসেই করতে পারবেন।
এই ক্ষেত্র গুলো ছাড়াও রোবটটি বিশ্বের সকল দেশের সকল ভাষায় কথা বলা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম। গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব সমস্যা সমাধানে অবদান রাখবে এই রোবট।
কাজিম নাহইয়ান আরো বলেন, আমি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক হতে চাই এবং সারাদেশে এটি ছড়িয়ে দিতে চাই। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
কাজিম নাহইয়ানের পিতা অধ্যাপক নূর হোসেন বলেন, আমার পুত্র ছোট থেকেই খুবই মেধাবী ও ধৈর্যশীল। তার এই রোবট উদ্ভাবনে আমি গর্ববোধ করি এবং সেই সাথে দেশের সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি যেন সে দেশের জন্য বড় কিছু উপহার দিতে পারে।
বদরুদ্দীন মুসলিম হাইস্কুল (বি.এম) এর প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের অনেক ছাত্র-ছাত্রী দীর্ঘদিন ধরে সুনাম বয়ে আনছে। কাজিম নাহইয়ান নবম শ্রেণীর খুবই মেধাবী ছাত্র। তার এই রোবট উদ্ভাবনে আমরা অনেক গর্বীত। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে সারাদেশ আলোকিত হোক এই কামনা করছি।
ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাহী অফিসার নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, কাজিম নাহইয়ানের তৈরি প্রযুক্তি নির্ভর রোবটটি সরেজমিনে দেখেছি। তার এই আবিষ্কার মানুষ ও সমাজের জন্য বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি। বিজ্ঞানে তার এমন এগিয়ে যাওয়াতে যা যা সহযোগিতা দরকার সে বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা করবো।















