এৃম, কোহিনুর আলম কয়রা (খুলনা) : খুলনার কয়রা উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানার পর ১৪ বছর পার হয়েছে। তার ক্ষত শুকিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি শত শত পরিবার। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়েছেন। ভাঙাচোরা বেড়িবাঁধ, খাদ্য ও সুপেয় পানির কষ্টসহ নানা সমস্যা নিয়ে জীবন পার করছেন মানুষ।২০০৯ সালের ২৫ মে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলা খুলনা ও সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হানে। ১৪ ফুট জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায় এ এলাকার বেড়িবাঁধগুলো। ২৭টি পয়েন্ট জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে গেলে তাৎক্ষণিক কয়রার গোটা উপজেলা লোনা পানিতে তলিয়ে যায়। কেড়ে নেয় ২৬ ব্যক্তির প্রাণ। তবে সেরকারি তথ্যমতে ৪২ জন প্রাণ হারান। সেই দুর্যোগে সর্বস্ব হারানো অনেকেই এখনও খুঁজে ফিরছেন স্থায়ী নিবাস। আবার অনেকেই আবাস হিসাবে বেছে নিয়েছেন বেড়িবাঁধের কিনারাকে। সেটির অবস্থাও এখন নাজুক। অনেক পরিবারের সদস্য সব হারিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পাড়ি জমিয়েছেন। এখনও অনেক মানুষ বাস্তুভিটায় ফিরে আসতে পারেননি। আইলার পর এখনও ঠিক হয়নি বিশুদ্ধ পানির উৎস, মাইলের পর মাইল ছুটতে হয় সুপেয় পানির জন্য। স্বজন হারানো সেই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে পুনরায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লবণ পানি প্লাবনের আতঙ্কে শঙ্কিত কয়রাবাসী। আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো কোনোমতে মেরামত করা হলেও এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রথমবার বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর আর কখনোই শক্ত করে বাঁধ তৈরি করা হয়নি। ফলে বারবার ভাঙছে।
উপকূলে এ পর্যন্ত যত দুর্যোগ সংঘটিত হয়েছে এই মে মাসেই । আইলা, আমপান, ফনি, বুলবুল, চিত্রাংসহ প্রায় প্রতিটি দুর্যোগে প্রাণহানি সহ হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। যে কারণে মে মাস এলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে উপকুলবাসি সেই সাথে যে কোন দুর্যোগের আভাস পেলেই রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায় উপকূলবাসীর ।
তবে বর্তমান সরকারের আমলে কয়রার কয়েকটি এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প পাশ হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ মানুষ প্রকল্পগুলোর কাজ চলমান আছে।
সম্প্রতি মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় রেমেল মোকাবেলায় পাউবো কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে । এ মুহূর্তে কয়রার প্রায় ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কোথাও কোথাও দেড় থেকে দুই হাত মাটি অবশিষ্ট রয়েছে। বাঁধের অনেক জায়গা দিয়ে বড় জোয়ারে উপচে পানি ছাপিয়ে পড়বে। বেড়ীবাধের স্পর্শকাতর স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে উপজেলার ১৩-১৪/২ নং পোল্ডারের হরিনখোলা ও ঘাটাখালি এলাকায় ১৭০০ মিটার,উত্তর বেদকাশির কাঠমার চর ১০০ মিটার,হোগলা ৪০ মিটার,উত্তরবেদকাশির পাথরখালী এলাকায় ১০০ মিটার, দশালিয়া থেকে হোগলা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার বেড়ীবাধ খুবই নিচু ছোটখাটো যেকোনো দুর্যোগ গেলেই পানি উপচে লোকালয় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়রার প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন। এটি রোধ করা গেলে মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে দেখা দরকার।
খুলনা পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মশিউল আবেদীন বলেন, কয়রার বেড়িবাঁধের ঝুকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে উধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলোর কাজ করা হবে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা সর্বক্ষণ প্রস্তুত আছি বলে জানান ওই কর্মকর্তা।















