ঘূর্ণিঝড় রেমালে কর্মহীন মোংলার হাজারো মানুষ  এনজিও ঋনের কিস্তি ও সুদ থেকে রেহাই পাচ্ছে না বন্যা দুর্গতরা

0
213

মাসুদ রানা, মোংলা : এনজিওর ঋনের জালে বন্ধি মোংলা উপজেলা সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বন্যা দুগত এলাকার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ। এবারের ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ভেসে গেছে ঘেরের মাছ, কৃষকের ফসল, জেলেদের জাল নৌকা আর বসত ঘর। পানির প্লাবনে এলাকা তলীয়ে থাকায় মানুষ কর্মহীন হওয়ার পরেও রেহাই পাচ্ছেনা ঋনের কিস্তি আদায় থেকে। খাবার না জোটলেও ঋনের কিস্তি আদায় না করে ঘর থেকে বের হচ্ছে এনজিওকর্মীরা। এদিকে সুদ মওকুলে জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্বারকলিপি দিয়েছে এলাকাবাসী। উপজেলা প্রশাসন বলছে, বন্যা দুর্গত এলাকায় মানুষদের সরকারী সহায়তা সহ সুদ মওকুফ ও ঋনের কিস্তির সময়সীমা পিছানোর আলোচনা চলছে। জানা যায়, উপজেলার পৌরসভা সহ ৭টি ইউনিয়নের সুন্দরবন সংলগ্ন চিলা, চাদঁপাই, বুড়িরডাঙ্গা ও সুন্দরবন ইউনিয়ন উপক’লে নদীর ভাঙন ও বন্যাকবলিত চরাঞ্চল। এবারের ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে গ্রামগুলো লন্ডভন্ড করেছিল মোংলা উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কাচাঁ ও অধা-পাকা ঘরবাড়ি, তলিয়েছিল ২ হাজারেও বেশী চিংড়ী ঘের, ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে মোংলার জেলে পল্লি। এবারের বন্যায় প্রায় ৪৮ ঘন্টা পানিবন্ধি ছিল এখানাকার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। এই উপজেলায় ৮৩টি গ্রামে ব্র্যাক, আশা, মুক্তিসেবা, কারিতাশ, হীড বাংলাদেশ, রুপান্তর, সিএসএস ও গ্রামীন ব্যাংক সহ ছোট বড় এনজিওসহ নানা সমিতির নামে ঋণ ব্যবসা করছে প্রায় ১০/১৫টি সংস্থা। এতে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এনজিওর ঋণের জালে জড়িয়ে রয়েছে। এ চরাঞ্চলে অসহায় মানুষগুলো এনজিওর কাছ থেকে ঋন নিয়ে তাদের সংসার চলে। কেউবা একের অধিক এনজিও কাছ থেকে ঋন নিয়ে জাল নৌকা তৈরী করে নদীতে মাছ ধরতে। এখানকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস নদীতে মাছ ধরা, কৃষি কাজ ও চিংড়ী ঘের। কেউ কেউ ঋন নিয়ে চিংড়ী ঘেরে বাগদা গলদা সহ বিভিন্ন প্রজাতির সাদা চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ফলন ভাল হলে তা বিক্রি করে ঋন সোধ করে এ ব্যাবসা থেকে। কিন্ত ঘূর্ণিঝড় রেমালে তাদের সব কিছু কেড়ে নিলেও এ এনজিওদের সাপ্তাহিক ঋনের কৃস্তি থেকে রেহাই মিলছেনা এ অসহায় মানুষগুলোর। বন্যার মধ্যেও উপক’লবাসীদের ছাড় দেয় না এনজিওরা। অতিরিক্ত লবনাক্ততার কারনে মিলছেনা মাছ, রয়েছে কর্মহীন অন্যদিকে এনজিওর ঋনের কিস্তির চাপ, সব মিলিয়ে দিসেহারা হয়ে পরেছে অসহায় উপক’লের মানুষগুলো। তাই এরই মধ্যে ঋনের সুদ মওকুফ ও ৬ মাসের কিস্তি আদায় বন্ধের দাবীতে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুরা মিলে উপজেলা পরিষদের সামনে মানবন্ধন কর্মসুচিও পালন করেছে বন্যা দুর্গতরা। ঋনের কিস্তি ও সুদের হাত থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্বারকরিপিও দিয়ে এলাকাবাসী।
তবে এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলায় স্থপিত কয়েকটি এনজিও অফিসে গেলেও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি নয় কোন এনজিও কর্মকর্তা।
তবে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না বলেন, এবারের ঘূর্ণিঝড় রেমালে মোংলা সহ সুন্দরবন উপক’লের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। পানি উঠে মানুষের শেষ ঠিকানাটুকুও হারিয়েছে বন্যায়। এখানকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সহায়তা এসেছে তা দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়াবন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের এনজিও ঋনের সুদ মওকুফ ও কিস্তি বন্ধের ব্যাপারে এনজিওদের সাথে আলোচনা চলছে, ব্যাবস্থা নেয়া হবে। আর যারা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্বরকলিপি দিয়েছে তা সঠিকভাবে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
বন্যাকবলীত মানুষের এনজিও ও ব্যাংকের ঋনের সুদ মওকুফ ও কিস্তি পিছানোর দাবীতে সরকারী দপ্তর সহ সকল এনজিও সংস্থাকে এগিয়ে আসার দাবী এলাকাবাসীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here