স্টাফ রিপোর্টার,যশোর থেকে : প্রায় এক সপ্তাহ পর যশোরের সড়কে নেমেছেন ট্রাফিক পুলিশের
সদস্যরা। সড়কে যানচলাচলে শৃঙ্খলা ফিরাতে ছাত্র ছাত্রীদের পাশাপাশি গতকাল( আজ) ট্রাফিক
নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ শুরু করেছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। আজ সোমবার সকাল থেকে শহরের
সকল মোড়ে তারা দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এসময় রাস্তায় পুলিশ সদস্যদের দেখে আনন্েধসঢ়;দ মেতে
ওঠেন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণ। তারা ফুল দিয়ে পুলিশ সদস্যদের বরণ করে নেন।
তারপর হাতে হাত ধরে রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ ও ছাত্র জনতা ট্রাফিক নিয়ন্তনে কাজ করতে থাকেন।
এই দৃশ্যই মনে করিয়ে দেয়,“ পুলিশই জনতা-জনতাই পুলিশ।”
দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে গত ৫ আগষ্ট ছাত্র জনতার এক মহাবিপ্লবের
মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটে। ওই দিনের ৩ দিন আগে থেকেই দেশব্যাপী পুলিশের ওপর বিক্ষুব্ধ
ছাত্রজনতার ক্রোধ উতলে পড়ে। ঘটে নানা রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা। পরিস্থিতি সকল
স্বাভাবিকতাকে ছাড়িয়ে যায়। চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ে যায় পুলিশ বাহিনী। নিজেদের
জানমালের নিরাপত্তায় কর্মস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয় পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা।
কিন্তু ব্যতিক্রম ছিল যশোর জেলা। তারপরও এক প্রকারের অজানা ভয় ও আতঙ্কে মাঠ ছেড়ে দিয়ে ঘরে
উঠে যান যশোর পুলিশের অধিকাংশ সদস্য। বার বার চেষ্টা করেও যশোরের পুলিশ সুপার মাসুদ
আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন মাঠ পর্যায়ে কর্মরতদের মনোবল চাঙ্গা করতে
ব্যর্থ হন। সকল থানা, ফাড়ি ও ক্যাম্প থেকে সদস্যরা নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে নিরাপদ হেফাজতে
চলে যান। ৫ আগষ্ট মহাবিপ।বের পর দিন ৬ আগষ্ট থেকে দেশব্যাপী রাস্তার ট্রাফিক সিস্টেম ঠিক
রাখতে নেমে পড়েন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। ছলে মেয়ে হাতে হাত ধরে রাস্তায়
রোদ বৃষ্টি ঝড় ঝাপ্টা উপেক্ষা করে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে জনচলাচল স্বাভাবিক রাখতে
আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকেন। এর মধ্যেই চলে কর্মবিরতীতে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা
করে কর্মস্থলে যোগদানের নানা প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত সকল মান অভিমান ও দুঃখ কষ্ট ব্যাথা বেদনা
দূর করে আজ সোমবার সকাল থেকে যশোরের রাস্তায় নামেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এসময়
রাস্তায় থাকা বিএনসিসি, রেডক্রিসেন্ট, রোভঅর স্কাউট ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র- জনতার
আন্দোলনের কর্মীরা ফুল দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের বরণ করে নেন। এ যেন এক অভূতপূর্ব
দৃশ্য- যা যশোরের মানুষ কখনো আগে দেখেনি। ট্রাফিক পুলিশ ও ছাত্র জনতার এই মহামিলন
সৃষ্টি করে এক অন্যরকমের আবহ । যা দেখে রাস্তায় থাকা হাজার হাজার মানুষ করতালী দিয়ে তাদের
এ্িধসঢ়; মাহমিলনকে স্মরণীয় করে রাখে।
যশোর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর শুভেন্দ কুমার মুন্সি, (শহর ও যান) সাংবাদিকদের বলেন, আজ
সোমবার সকাল থেকে যশোর ট্রাফিকের ৮৬জন সদস্য যশোর শহর ও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ
স্থানে ট্রাফিক পুলিশীং এর কাজে নেমেছে।
যশোর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টার মাফুজুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সকল মোড়ে ট্রাফিক
পুলিশ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাথে একযোগে আমরা কাজ করছি। প্রথম দিনে তারা আমাদের
উৎসাহ যুগিয়েছে। কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সকলে কাজ করছে। সাধারণ মানুষও আমাদের
স্বাগত জানিয়েছে।
এদিকে ট্রাফিক পুলিশ মাঠে নামায় তাদের স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।
আইরিন আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা ৫/৬ দিন সড়কে কাজ করছি। আমরা প্রশক্ষিত
না হওয়ায় কাজ করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিলো। ট্রাফিক পুলিশ নামায় আমরা খুশি।
যাদের কাজ তাদেরই মানায়। আরো দুই একদিন আমরা তাদের সাথে থাকেবা। সকলে ট্রাফিক
আইন মেনে চলবে সেই প্রত্যাশা করি।















