চোখে গুলিবিদ্ধ  মনিরামপুরের আহাদ- খোঁজ নেয়নি কেউ

0
246
এইচ এম জুয়েল রানা মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ চোখে গুলিবিদ্ধ  মনিরামপুরের আহাদ হোসেন। চোখে গুলির যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাচ্ছেন তিনি। গতকাল বিকেলে গুলিবিদ্ধ আহাদের বাড়ীতে গেলে দেখা যায় এমন
কাতরানোর দৃশ্য। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ আহাদ হোসেনকে (২৭) নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁর
পরিবার। চিকিৎসা, সুস্থ হওয়া ও তাঁর লেখাপাড়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব চেষ্টা করছেন তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার। আহাদ হোসেন যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার বলিয়ানপুর গ্রামের মরহুম সাহেব আলীর পুত্র।
তাঁরা তিন ভাই-বোনের মধ্যে আহাদ দ্বিতীয়। ৫ আগস্ট তিনি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন। গতকাল বিকেলে আহাদ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি চোখের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। পাশে হতাশা আর উদ্বিগ্ন হয়ে বসে আছেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। ছোট ভায়ের চোখ পূর্বের ন্যায় ভালো হওয়া নিয়ে চিন্তিত বড় ভাই মুরাদ সহ পরিবারের
অন্যান্য সদস্যরা। পাশে বসে থাকা আহাদের মা রাজিয়া বেগমের চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল বার বার। সেদিন গুলিবিদ্ধ হওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন আহাদ হোসেন। আন্দোলনে সফলতার কোনো আনন্দ তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। চোখের সামনে অসংখ্য গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর দৃশ্য যেন ভুলতেই পারছেন না তিনি। মৃত্যুর দৃশ্য চোখে ভেসে উঠলেই শিউরে উঠছেন তিনি।
সেদিনের লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আহাদ হোসেন বলেন, তিনি যশোর
সরকারী এম এম কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্স-মাষ্টার্স শেষ করে ঢাকার মালিবাগ
শাখায় কনফিডেন্স ও জব মেডিসিন কোচিং সেন্টারে বিসিএস কোচিং করছিলো।
প্রতিদিনের ন্যায় ৫ আগস্ট সকালে ম্যাচ থেকে সহপাঠীদের সাথে ঢাকার রাজপথে শেখ হাসিনার পদত্যাগের জন্য আন্দোলন করছিলো সবাই। আন্দোলনরত সকল শিক্ষার্থী সহ সাধারন মানুষ যখন রামপুরায় পৌছায় তখন প্রশাসনের সদস্যরা তাদের শান্ত হতে বলেন
এবং শান্তভাবে সকলকে আন্দোলনের পরামর্শ দেন। তাদের কথামতো আন্দোলরত সকলে রাস্তার
উপর অবস্থান নেয়। হঠাৎ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে আহাদের বাম চোখে গুলিবিদ্ধ হয়। তার সাথে থাকা সহপাঠিরা সাথে সাথে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায় সেখান থেকে ডাক্তারেরা চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ
দেয়। পরবর্তীতে মালিবাগের খিদমাহ চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে
প্রাথমিক চিকিৎসা দেন চিকিৎসকেরা। অপারেশনের মাধ্যমে তারা তার চোখের ভিতর থাকা গুলি বের করতে অপারগতা হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে গ্রীন রোডের ভিশন চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং অপারেশন করায় সেখানেও তার চোখের গুলি বের করা সম্ভব হয়নি বলে জানান আহাদের বড় ভাই মুরাদ হোসেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাঁকেসহ
গুলিবিদ্ধ অন্যদের পাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান বলে জানান আহাদ হোসেন। আহাদের দুইবার অপারেশনের পরেও চোখের গুলি বের করতে ব্যর্থ হওয়ায় ডাক্তাররা কিছুদিন পর আবারো অপারেশনের দিন দিলে পরিবারের লোকজন তাকে বাড়িতে
নিয়ে চলে আসেন চিকিৎসকের পরামর্শে। এখন বাড়িতেই অবস্থান করছেন আহাদ
হোসেন। আহাদ হোসেন জানান, আমরা ছাত্ররা যে আন্দোলন করে খুনি হাসিনার পতন ঘটিয়েছি তার ফায়দা লুটছে একটি পক্ষ। এখনো পর্যন্ত আমার কেও খোঁজ-খবর নেয়নি। এমন কি- কি ভাবে আমার চিকিৎসার অর্থ যোগাড় হচ্ছে সেটাও কেও খোঁজ রাখছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here