স্টাফ রিপোর্টার,যশোর থেকে : নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে যশোরে দৈনিক রানার সম্পাদক আর এম সাইফুল আলম মুকুলের ২৬তম হত্যা বার্ষিকী পালন করেছে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর। কর্মসুচির মধ্যে ছিলো কালোব্যাজ ধারণ, শোকর্যালী, শহীদের স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
দিনটি উপলক্ষে গতকাল ৩০ আগস্ট শুক্রবার সকালে কালোব্যাজ ধারনের মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহরের বেজপাড়া ছায়াবিথি রোডে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর প্রেসক্লাব যশোরে শহীদ সাংবাদিক আর এম সাইফুল আলম মুকুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ-এর সঞ্চালনায় ও সভাপতি আকরামুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন।
আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক গ্রামের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, বিএফইউজের সাবেক সহকারী মহাসচিব নূর ইসলাম, দৈনিক রানার-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আরএম কবিরুল আলম দীপু, দৈনিক সমাজের কথার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আমিনুর রহমান মামুন, প্রেসক্লাব যশোরের কোষাধ্যক্ষ জাহিদ আহমেদ লিটন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ গনী খান রিমন, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ আলম প্রমুখ ।
এসময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি শহিদ জয়, বর্তমান সহসভাপতি বিএম আসাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ জামান, সাইফুল ইসলাম সজল, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক গালিব হাসান পিল্টু, দপ্তর সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী রফিকুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য হানিফ ডাকুয়া।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার যশোরের নির্ভীক সাংবাদিক আর এম সাইফুল আলম মুকুল ও জনকন্ঠের যশোর অফিস প্রধান শামছুর রহমান কেবল হত্যা মামলা দুটি পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। তাদের সদিচ্ছার কারণে নির্মম এই দুটি হত্যার বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে সাংবাদিক সমাজ। প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে যশোরের গণমানুষের নেতা, যশোর উন্নয়নের কারিগর সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামকে মুকুল হত্যা মামলায় আসামী করে হয়রানি করে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন। একই কায়দায় শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল হত্যা মামলায় নিরীহ-নিরাপরাধ সাংবাদিক বেনজীন খান, ফকির শওকত, প্রয়াত সাংবাদিক মিজানুর রহমান তোতা, প্রয়াত নোভা খন্দকার ও শহিদুল ইসলাম মিলনসহ ৫ সাংবাদিককে জড়িয়ে নির্যাতন-নিপীড়ন করা হয়। সিআইডি পুলিশ এই দুটি হত্যা মামলায় মুল খুনিদের রক্ষা করতেই মনগড়া একটা চার্জশীট আদালতে জমা দিয়ে হত্যাকান্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেয়। ফলে দীর্ঘ ২৩ বছর যশোরের সাংবাদিক সমাজ এই দুটি সাংবাদিক হত্যাকান্ডের কোন বিচায় পায়নি। এজন্য বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকারের কাছে ন্যায় বিচারের জন্য যশোরের শহীদ দুই সাংবাদিক আরএম সাইফুল আলম মুকুল ও শামসুর রহমান কেবল হত্যার পুনঃতদন্ত দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মো. মোখতার হোসেন।
এর আগে প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনের নেতৃত্বে যশোরের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ সাংবাদিক মুকুলের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে শহর থেকে বেজপাড়ার নিজ বাসভবনে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নিহত হন দৈনিক রানার সম্পাদক আরএম সাইফুল আলম মুকুল এর ২ বছর পর ২০০০ সালের ১৬ জুলাই দৈনিক জনকন্ঠের যশোর অফিসে কর্মরত অবস্থায় খুনিদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল।
Home
যশোর স্পেশাল জেইউজের আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতারা পতিত স্বৈরাচার সরকারের অনিচ্ছার কারনে মুকুল হত্যার...















