যশোর ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, রোগীদের খাবার কার্যক্রম র্দীঘ একযুগ পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের জিম্মিদশা থেকে খাবার মুক্ত

0
148

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের তিনবেলা খাবার(পথ্য) সরবরাহ কার্যক্রম র্দীঘ একযুগ পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের জিম্মিদশা থেকে খাবার মুক্ত হতে যাচ্ছে। যশোরের জেলা প্রশাসকের অনুরোধে এবং সমন্বয়কদের চেষ্ঠায় মামলা তুলে নিতে সম্মতি জানিয়েছেন ঠিকাদার হাফিজুর রহমান। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য জেলা প্রশাসক একজন অ্যাডভোকেটকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তথ্য নিশ্চিৎ করেছেন তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হারুণ অর রশিদ। কর্তৃপক্ষ বলছেন, উচ্চ আদালতের মামলার নিষ্পত্তি হলে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন টেন্ডার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী। তখন সরকারি বরাদ্দকৃত ১৭৫টাকার উন্নত মানের খাবার পাবে রোগীরা। হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে উচ্চ আদালতের মামলার দোহাই দিয়ে এই বাজেটে টানা ১২বছর একজন ঠিকাদার খাবার সরবরাহ করে আসছেন। যে কারণে ঠিকাদারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীরা। একই সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাড়িয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়ে। নির্ধারিত পরিমাপের খাবারও সঠিক ভাবে পাইনা বলে দাবি রোগী ও তার স্বজনদের। নিম্নমানের ও পরিমাণে খুবই কম হওয়ায় রোগীরা এই খাবার মুখে নিতে পারেন না। সূত্র আরও জানায়, হাসপাতালে সর্বশেষ ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের খাবার সরবরাহের টেন্ডার হয়।সেই সময় ঠিকাদার শফিকুর রহমান হাসপাতালের নির্ধারিত ২৫০শয্যা এবং করোনারি কেয়ার ইউনিটের ২৮শয্যাসহ মোট ২৭৮জন রোগীর খাবার সরবরাহের কার্যাদেশ পান। কিন্তু ঐ সময় টেন্ডারে ত্রুটির অভিযোগ তুলে আরেক ঠিকাদার হাফিজুর রহমান ২০১৪সালের ১৬জুন হাইকোর্টে একটি রিট করেন। আদালতের নির্দেশে নতুন করে টেন্ডার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে টানা ১২টানা বছর একই প্রতিষ্ঠান খাবার সরবরাহ করে আসছে। সেই সময়ে দরপত্র অনুযায়ী হাসপাতালে খাবারে জনপ্রতি দৈনিক বরাদ্দ ১২৫টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিলে থাকে ১১৩ টাকা। এই টাকায় প্রত্যেক রোগীকে সকালের নাস্তা হিসেবে ১শ গ্রাম পাউরুটি, একটি ডিম ও দুই পিস কলা পাওয়ার কথা। আর দুপুরে ভাতের সঙ্গে ৮০গ্রাম মাছ বা মাংস ও ২০ গ্রাম ডাল এবং রাতে ভাত, ডিম ও সবজি প্রাপ্য। কিন্তু সেটি পাচ্ছেন না রোগীরা। নির্ধারিত পরিমাপও সঠিক হয় না বলে দাবি রোগী ও তার স্বজনদের। এদিকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা হয়। অধিকাংশ রোগী ও তাদের স্বজনরা নিম্নমানের ও পরিমাণে খুবই কম খাবার পাওয়ার বিষয়টি ভয়ে মুখ খুলতে চান না।খাবার না পেলেও ফ্লোরে জায়গা পেয়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন;এটাই যেন তাদের জন্য অনেক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রোগী ও তার স্বজনরা বলছেন, মাছ-মাংসের গন্ধ থাকে,কিন্তু এক টুকরোর মাছ-মাংশ পান তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। ভাতের পরিমাণও কয়েক মুঠোর বেশি নয়। আর তরকারির মধ্যে এক চামচ ডাল দিয়ে দায়সারা হয়। এই খাবার রোগী খেতে পারেন না। অনেকে খাবার নেন না। আবার কেউ কেউ খাবার নিলেও রোগীরা খান না। রোগী ও তার স্বজনরা খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও হাসপাতালের স্টুয়ার্ড শাহজাহান হোসেন দাবি করেন, নির্ধারিত পরিমাপেই মান সম্মত খাবার সরবরাহ করা হয়। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্টাফ জানিয়েছেন, খাবারের মান নিয়ে খোদ তত্ত্বাবধায়কও সন্তুষ্ট নয়। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে একই ঠিকাদার টানা ১২বছর ধরে খাবার সরবরাহ করছেন। দীর্ঘদিন টেন্ডার না হওয়ায় বরাদ্দ বাড়েনি। ফলে রোগীর খাবারের পরিমাণ ও গুণগত মান কমছে। এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। তাদের ঐকান্তি প্রচেষ্ঠায় বুধবার যশোর জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ডিসি আজহারুল ইসলামের উপস্থিতিতে আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হারুণ অর রশিদ,মেডিকেল কলেজের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রাশেদ, ঠিকাদার হাফিজুর রহমান এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ ইসাক প্রমুখ। যশোর ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হারুণ অর রশিদ বলেন, মিটিংএ জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলাম ঠিকাদার হাফিজুর রহমানকে মামলা তুলে নিতে অনুরোধে করেন। এতে সমন্বয়কদের চেষ্ঠায় ঠিকাদার মামলা তুলে নিতে সম্মতি জানিয়েছেন। তখন জেলা প্রশাসক দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ ইসাককে দায়িত্ব দিয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক আরও বলেন,তিন বেলা এই খরচে খাদ্যের মান ও পরিমান ঠিক রাখা একটু কঠিন ব্যাপার। তারপরও আমি আমাদের ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খাবারে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। যতটুকু সম্ভব কম লাভ করে রোগীকে ভাল মানের খাবার দেয়া যায়, সে ব্যাপারে ঠিকাদারের সাথে কথা হয়েছে। তিনিও আশ্বাস দিয়েছে।’ এব্যাপারে ঠিকাদার শফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানিয়েছেন মানবিক দিক বিবেচনা করে মামলা দ্রুত সময়ের মধ্যে তুলে নিব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here