অভয়নগরে কিস্তির চাপে পালিয়ে বেড়াচ্ছে পানিবন্দি মানুষেরা

0
139

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : ‘মাছ চাষ করার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ
নিয়েছিলাম। যার সাপ্তাহিক কিস্তি আসে ২ হাজার ২৫০ টাকা। এছাড়া জাগরনী
চক্র ফাউন্ডেশন থেকে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছি। সেখানে মাসিক কিস্তি ৬
হাজার টাকা। এ বছর মাছের ঘেরে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আশা
করেছিলাম মাছ বিক্রি হবে তিন লাখ টাকার। কিন্তু জলাবন্ধতায় ঘের ডুবে সব
মাছ বের হয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে আবার হাঁটু পানি। এর মাঝে এনজিওরা কিস্তির
জন্য চাপ দিচ্ছে। কিস্তির চাপে আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’ কথা গুলি বলছিলেন
অভয়নগর উপজেলার ডাঙ্গামশিয়াহাটি গ্রামের মৃত নগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের ছেলে
অচিন্ত মণ্ডল।
শুধু তিনিই নয় এমন বিপাকে পড়েছেন ভবদহ অঞ্চলের পানিবন্দি সকল ঋণ
গ্রহীতারা। এমন অবস্থার মধ্যেও এনজিওকর্মীরা কিস্তির জন্য প্রতিনিয়ত চাপ
সৃষ্টি করছেন।
উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের সড়াডাঙ্গা গ্রামের অনুপম রায় বলেন, বাজারে
একটি স্টেশনারি দোকান আছে। জলাবদদ্ধতায় দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট
হয়ে গেছে। দোকানে মাল কেনার জন্য জাগরণীচক্র ফাউন্ডেশন থেকে ১ লাখ ৫০
হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। কয়েক দিন আগে কিস্তি বাবদ ১০ হাজার ৫শ’ টাকা
দিয়েছি। টাকা না দিলে মাঠ কর্মী বাড়ি থেকে উঠেনা। এ মাসের কিস্তির
টাকা দেওয়ার সময় হয়েছে বার বার ফোন দিচ্ছে।
উপজেলার ধোপাদী গ্রামের আব্দুর রশিদ মোল্যা বলেন, ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর
জন্য গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি। সপ্তাহে ৪ হাজার টাকা কিস্তি দিতে
হয়। ছেলের বিদেশ যাওয়া হয়নি; টাকা দালালে আত্মসাত করেছে। ক্ষেত খামার ডুবে
যাওয়ায় কোন কাজ নেই। এ অবস্থায় এনজিও টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। ভয়ে কিস্তির
দিন স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
আদ দ্বীন ফাউন্ডেশনের মাঠকর্মী বিথীকা মণ্ডল বলেন, ‘কিস্তি আদায়ের জন্য উপর
থেকে চাপ আছে। তাই সমস্যা জেনেও ভবদহ এলাকায় কিস্তির জন্য চাপ দেওয়া
হচ্ছে।’ব্র্যাক এনজিওর সংশ্লিষ্ট মাঠকর্মী শাহিন আহমেদ বলেন, ‘আমার এরিয়ার ভিতর
অনেকে কিস্তির টাকা দিচ্ছে। তাই এলাকায় যাই। প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা না করা
পর্যন্ত কিস্তির টাকা আদায় করা হবে।’
ঋণের টাকা আদায়ে চাপ দেওয়ার বিষয়ে প্রগতি সমাজ কল্যাণ সংস্থার এরিয়া
ম্যানেজার নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আমরা প্রশাসন থেকে ঋণের কিস্তি আদায়
বন্ধের কোন চিঠি পাইনি। যে কারনে আমরা কিস্তি আদায় করছি। আর কোন
গ্রাহকে চাপ দেওয়া হচ্ছে না।’
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ
বলেন, ‘আমি ডিসি সাহেবকে কিস্তি বন্ধ করার জন্য আহবান করেছি। ডিসি
সাহেব এখনো ব্যবস্থা নেয়নি। এনজিওরা কিস্তি আদায় বন্ধ না করালে কঠোর
আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
যশোরের জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘কোন এনজিওকর্মী নির্দয়
ভাবে কিস্তির টাকা আদায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here