এক রুমে ১৫ জনের বসবাস রীতিমত জেলখানা কোটি কোটি টাকা আয় হলেও জরাজীর্ন ভবনে থাকে কোমলমতি শিশুরা

0
148

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাজারে অবস্থিত ছাতিয়ানতলা
খাদেমুল ইসলাম এমিতখানার নামে মাসে আয়ের লক্ষ লক্ষ টাকার হদিস
নেই দীর্ঘ ১৭ বছর যাবত। দীর্ঘদিন ধরে এতিম শিশুরা জরাজীর্ন ঘরে
বসবাস করলেও দেখার কেউ নেই।অথচ প্রতি বছর সরকারী বেসরকারী
প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা আয় এই এতিমখানার।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা
আব্দুল মান্নান মুন্না জোরপূর্বক কমিটির সেক্রেটারীর দায়িত্ব
পালন করছেন দীর্ঘ ১৭ বছর যাবত।এলাকাবাসীর অভিযোগ
এতিমখানার এই সব আয়ের টাকা মুন্না কৌশলে দীর্ঘদিন যাবত
ধরে আত্নসাৎ করে আসছে। আওয়ামীলীগের সকল সভা সমাবেশ করা
হতো এখানে এবং নেতাদের খাওয়ানো হতো বছরে কয়েকবার।
দীর্ঘদিন ১৭ বছর এই এতিমখানাটি আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক
অফিসে পরিণত করেছিলেন মুন্না।
অনুসন্ধানকালে জানা গেছে,১৯৬৪ সালের ৩০ জুলাই ছাতিয়ানতলা
খাদেমুল ইসলাম এতিমখানাটি নিবন্ধন পাই।সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের
আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রাপ্ত
এতিমখানা এটি। বর্তমানে এখানে ৩০ জন এতিম শিশু রয়েছে। এই
৩০ জন শিশুদের ঘুমানোর জন্য রয়েছে ২ টা রুম। যে রুমগুলোর বেহাল
দশা।ঠাসাঠাসি করে এই জরাজীর্ন রুমে বসবাস করছে এতিম
শিশুগুলো। তাদের ব্যবহারের জন্য বাথরুম গুলোর এতটাই বেহাল দশা
নাকমুখ বেঁধেও সেখানে যাওয়া মুশকিল। অথচ নিরুপয় হয়েই
কোমলমতি শিশুরা বাধ্য হয়েই এই বাথরুম ব্যবহার করছে।
সরেজমিন গিয়ে এলাকাবাসী ও এতিমখানার সুপারের সাথে কথা
বলে জানা গেছে, এতিমখানায় প্রতিবছর সরকারী অনুদান পাই ৭ লক্ষ
২০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিদিন চুড়ামনকাটি কাঁচা বাজারে
থেকে আদায় যা বার্ষিক ৭ লক্ষ ৩০ হাজার,এলাকাবাসী ও বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে আয় ২০ লক্ষাধিক, এতিমখানার নিজস্ব
মার্কেট থেকে ঘর ভাড়া ও অন্যন্য আয় ১০ লক্ষ ও এতিমখানার সদস্যদের
থেকে আরো মোটা অংকের আয় এই এতিমখানায়। এছাড়াও
প্রতিদিনই কমবেশি বিভিন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানে দান করে থাকেন
এখানে নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল।এলাকাবাসীর সাথে কথা
বলে জানা গেছে, প্রতিদিনই এই এতিমখানার শিশুদের খাবারে জন্য
দাওয়াত থাকে বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে। মাস বা বছর
জুড়ে এতিমদের খাওয়ানোর সিরিয়াল থাকে। খাওয়ার খরচ নেই বললেই
চলে এখানে। অথচ তাদের ঘুমানোর জন্য রুমগুলো খুই নাজুক
অবস্থা।১ টা রুমে ১৫ জন শিশুকে রাখা হয়। যা রীতিমত কষ্টকর। তবুও
তাদের নামে আয়ের টাকায় করা হচ্ছেনা বাড়তি থাকার জন্য রুম।
অভিযোগ রয়েছে, এতিমখানার কমিটি গঠন করা হবে এখানে দাতা
সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে। কিন্তু চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাবেক
চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা এক সময়ের চিহিৃত
সন্ত্রাসী আব্দুল মান্নান মুন্না প্রভাব খাঁটিয়ে পকেট কমিটি
গঠন করে আসছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই পকেট কমিটির
সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। নিজের পছন্দের
ব্যক্তিদের কমিটির সদস্য বানিয়ে লুটপাট করে খেয়ে আসছে
এতিমদের নামে আয়কৃত অর্থ। তার ভয়ে কেই প্রতিবাদ করতে সাহস
পাইনি এতদিন কেউ। এতিমখানার অবস্থা এতোটাই বেহাল দশা
এলাকাবাসী যশোর জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দায়ের করবেন
বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এই এতিমখানার সার্বিক দেখাশুনার
দায়িত্ব পালন করার কথা সমাজসেবা কর্মকর্তার। কিন্তু আব্দুল
মান্নান মুন্না প্রভাব খাঁটিয়ে নিজেই সব কিছু করতেন।
নিজের ইচ্ছামত আয় ব্যয় করেছেন এমিখানার টাকা পয়সা। নাম
প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রবীন ব্যক্তি বলেন,মুন্না প্রভাব
খাঁটিয়ে তাদের দলীয় সকল কর্মকান্ড এই এতিমখানায় করতেন।
এতিমদের টাকায় খাওয়াতেন নেতাদের। বছররে একাধিকবার খাওয়ার
আয়োজন করতেন তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নেতাদের।
এ ব্যাপারে এতিমখানার সুপার রবিউল ইসলামের সাথে কথা বলতে
গেলে তিনি বলেন, আমি এখানে চাকুরি করি। পরিচালনা কমিটির
নির্দেশ মোতাবেক আমি আমার দায়িত্ব পালন করি। এছাড়া
এতিখানার একাউন্টে কত টাকা আছে জানতে চাইলে তিনি জানেন
না বলে জানান।
আব্দুল মান্নান মুন্না ৫ আগষ্টের পর থেকে পালাতক জীবন যাপন
করায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসী যশোর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট এই এতিমখানার
কমিটি বাতিল করে আয় ব্যয়ের সঠিক তদন্তপূর্বক নতুন কমিটি
দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here