ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি,ডুমুরিয়া (খুলনা) : মহাসড়কে ছিনতাই বন্ধ, ছিনতাই মামলার আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনার নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাছ ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার সকাল ১১টায় চুকনগর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি জানান উপজেলার আঠারোমাইল ও চুকনগর মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ীরা। সাংবাদিক সম্মেলনে মাছ ব্যবসায়ীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আঠারোমাইল বাজারের মালী ফিসের মালিক মোঃ ইয়াহইয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আঁঠারোমাইল ও চুকনগর থেকে নিয়মিত বাংলাদেশের রংপুর, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগ এবং আখাউড়া ও চাতলা সীমান্ত দিয়ে ভারতের একাধিক রাজ্যে মাছ রপ্তানী করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি মাছ রপ্তানী করতে গিয়ে আমাদের মাছ বহনকারী ট্রাক গুলো ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের ছনবাড়ি সেতুর কাছাকাছি এক্সপ্রেস ওয়ে সংযোগ সড়কে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা গুলো ঘটছে।
এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে তিনটার দিকে। উল্লেখ্য, ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আঁঠারোমাইল বাজার থেকে আমার মালিকানাধীন মালী ফিস থেকে বিভিন্ন ধরনের মাছ বোঝাই করে মেসার্স নিউ বিসমিল্লাহ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ট্রাক (নং-যশোর-ট-১১-১১৯৮) শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ট্রাকটি উল্লেখিত স্থানে পৌঁছুলে ছিনতাইকারী চক্র অন্য একটি ট্রাক দিয়ে এই ট্রাকটির গতিরোধ করে। এরপর মুখে মাস্ক পরা ৮/১০ জনের একটি দল ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২৪৪ কার্টন মাছ ছিনতাই করে, যার আনুমানিক মুল্য ৪২ লাখ টাকা। এরপর তারা ড্রাইভার ও হেলপারকে হাত পা বেঁধে শ্রীমঙ্গল থানাধীন শিংজোড়া ব্রীজের পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। এ ঘটনায় আমার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হুজ্জাতুল ইসলাম ৩ অক্টোবর শ্রীনগর থানায় মামলা করতে গেলে থানার ওসি মামলা নিতে গড়িমসি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি তার মত করে এজাহার লিখিয়ে নেন, ছিনতাকারী চক্রে ৮/১০ জন ছিল। কিন্তু থানার ওসি সেখানে ৩/৪ জন অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিকে আসামী করে মামলা এফ আই আর করেন। মামলা নং-০৩, তারিখঃ ০৩-১০-২০২৪। ওই মামলায় ওই দিনই ২জনকে আটক করে আদালতে পাঠায় পুলিশ, তারপর আর কোন অগ্রগতি চোখে পড়েনি।
ছিনতাই চক্রের অন্য সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও মহাসড়কে মাছ ছিনতাই বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্যে পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আঁঠারোমাইল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বিসমিল্লাহ ফিসের মালিক রফিকুল ইসলাম, চুকনগর গাজী ইয়াসিন মৎস্য আড়তের সভাপতি আনিসুর রহমান সরদার, পপুলার ফিসের মালিক আসাদুজ্জামান নান্নু, মালী ফিসের ম্যানেজার বিল্লাল হোসেন।















