চুড়ামনকাটির ত্রাস বাদল সেনাবাহিনীর হাতে আটক ॥ এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি

0
133

চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু অপকর্মের হোতা
বর্তমানে সাময়িক বহিস্কারকৃত নিরাপত্তা প্রহরী
চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন যুবলীগের ক্যাডার একাধিক মামলার
আসামী বদিউজ্জামান বাদলকে শনিবার রাতে সেনাবাহিনীর
সদস্যরা আটক করেছে বলে জানা গেছে। বাদলের আটকের খবরে
ক্যাম্পাসসহ এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ উল্লাস দেখা গেছে।
বাদলের পিতা চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের
আরশাদ আলী ওরফে আষাড়ে জানান, শনিবার রাত আনুমানিক
সাড়ে ১১ টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাদলের বাড়িতে
অভিযান চালায়। এ সময় তারা বাদলকে আটক করে নিয়ে যায়।
তবে কি কারণে বাদলকে আটক করা হয়েছে এ ব্যাপারে তিনি
কিছু জানেন না।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাদল যশোর বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেনীর নিরাপত্তা প্রহরী পদে
চাকুরি করেন। চাকুরি জীবনে তিনি একাধিকবার
বিভিন্ন অপরাধের জন্য সাময়িক বহিস্কার হন। পরে
রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে তদন্ত রিপোর্ট পক্ষে এনে সে
আবারো চাকুরিতে বহাল হয়। বর্তমানে সে বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে সাময়িক বহিস্কার রয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে বাদল স্থানীয়
চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।
সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্নার ক্যাডার
হিসেবে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করেছে সে।
চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মুন্নার সাথে তার
বিরোধ বাধঁলে সে বর্তমান চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন
ছত্রছায়ায় চলে এসে শুরু করে এলাকায় হত্যা, চাঁদাবাজি,
মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড। বর্তমানে বাদলের
নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অঅশেপাশে
কেউ বাড়ি নিমার্ণ করতে গেলে বাদলকে মোটা অংকের
টাকা দিয়ে কাজ শুরু করা লাগতো। এছাড়াও এলাকার
বিভিন্ন খাল বিল আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সে
জোরপূর্বক দখল করে মাছ চাষ করতো।
শ্যামনগর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, বাদল ছিলো
গোটা চুড়ামনকাটি ও চৌগাছা উপজেলার ত্রাস।নাম
প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রবীন ব্যক্তি জানান, শালিস
বিচারের নামে বাদল এলাকার নিরীহ ব্যক্তিদের ব্যাপক মারপিট
করতো। এছাড়া তার ইছাখুশি মত করা হতো জরিমানা। বাদলের
আটকের খবরে গোটা এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here