আজিবর রহমান, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: জাতীয় ফুল শাপলা দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি তরকারি হিসেবে এটি খেতেও বেশ সুস্বাধু। কেউ খায় শখ করে, আবার কেউ খায় অভাবে পড়ে। অভাবগ্রস্ত বা নিতান্ত গরিব মানুষ এ বর্ষা মৌসুমে জমি থেকে শাপলা তুলে তা দিয়ে ভাজি বা ভর্তা তৈরি করে আহার করে থাকেন। আর শহরের মানুষ শখের বশে এ মৌসুমে ২-৪ দিন শাপলা তরকারি বা ভাজি খেয়ে থাকেন। শাপলা প্রায় দুই যুগ পরে সবজি হিসাবে বাজারে খুবই পরিচিত পেয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্ম আয়ের শত শত পরিবার শাপলা বিক্রির পাশাপাশি, গ্রামের আগান বাগান থেকে কচুশাক, কচুড়ি, কলমি শাক থানকুঁনি, হেলেঞ্চা শাক, পিপুলি শাক, এসব তুলে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এমন চিত্র দেখা গেছে মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করতে। সারাদিন এসব সবজি তুলে দুই থেকে তিন’শ টাকা আয় করছেন বলে জানায় মণিরামপুর সাতগাতী গ্রামের মিকাইল হোসেন, অবেদ আলী, হোগলা ডাঙ্গা গ্রামের রমেস দাস, নিমাই দাস, অনন্য দাস, রুপালী দাসসহ আরও অনেক পরিবার।
সুবলকাটি ডুমুর বিল ও সম্বলডাঙ্গা বিল থেকে প্রতিদিন ভোর রাতে শাপলা তুলে মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ও হাট-বাজারে আসলাম শেখ নামে এক ব্যক্তি ভ্যান গাড়ি করে শাপলা বিক্রি করছেন। আর এ শাপলা বিক্রি করে আসলাম শেখ তার পরিবার পরিজনের জন্য জীবিকা নির্বাহ করছেন।
উপজেলার ভোমরদহ গ্রামের বাসিন্দা শাপলা বিক্রেতা আসলাম শেখ জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ মোঠা (১০ পিস শাপলায় ১ মোঠা ধরা হয়) সংগ্রহ করতে পারি। এক মোঠা শাপলা ১০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দৈনিক ৫ শ থেকে ৬ টাকা বিক্রি করে থাকি। শাপলা বিক্রি করে আমি সংসার চালাচ্ছি।
তিনি আরো জানান, এই বর্ষার পানিতে আমাদের সমস্ত ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এই অঞ্চলের মানুষ খুব কষ্টে আছি। ভবদহের সমস্যা সমাধান না হলে আমাদের এই দুঃখ দুর্দশার শেষ হবে না। আমরা মুক্তি চাই।
রুপালি দাস জানান, চারিদিকে পানি থৈ থৈ করছে। কাজ কাম নেই। উপার্জন নেই। সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। খুব বিপদে আছি। এর মধ্যে তরি-তরকারি, চাউল-ডাউল, সব কিছুর দাম বেশি হয়েছে। ছেলে মেয়েদের মুখে তিনবেলা না হলেও দুই বেলা দুটো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য শাপলা, শাক পাতা তুলে বিক্রি করছি। তা থেকে দিনে আয় ২ শ থেকে ৩ শ টাকা যা দিয়ে ঝাল কেনা যায় না, তা দিয়ে সংসার চালাবো কি করে। বর্তমানে আমরা না খেয়ে দিন পার করছি। সরকার দেশ সংস্কার করছে বলছে, কিন্তু আমাদের মতো গরীব মানুষ না খেয়ে থাকলে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই।















