যশোরে ভাড়াটিয়ার ঘর থেকে গৃহকর্ত্রী গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

0
171

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর শহরের দুই ভাড়াটিয়ার হাতে এক গৃহকর্ত্রী নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার শাহানারা বেগম (৫৫) শহরের শেখহাটি বাবলাতলা এলাকার আনিসুর রহমানের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির ভাড়াটিয়ার ঘর থেকে ওই গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ঘরের দু’জন ভাড়াটিয়া এর আগে বুধবার পালিয়ে যান। বাবলা ও সুমন নামে ওই দুই ভাড়াটিয়াকে খুঁজছে পুলিশ। এদিকে, ভাড়াটিয়ার ওই ঘর থেকে একটি নোটপ্যাড উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলেছে ভাড়াটিয়ারা স্বীকারোক্তি উল্লেখ করে গেছেন বলে দাবি পুলিশের। মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের স্বামী আনিসুর রহমান ও স্বজনেরা জানান, শাহানারা বেগম ও তার স্বামী ছাড়া তাদের বাড়ির একটি ঘরে দুই যুবক ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। বুধবার দুপুরে খাবার খেয়ে শাহানারার স্বামী আনিসুর ইজিবাইক চালাতে বের হন। রাতে বাড়ি ফিরে বাইরে থেকে তালা লাগানো দেখতে পান তিনি। আশপাশে খোঁজ করেও স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাননি তিনি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আনিসুর দেয়াল টপকে বাড়ির ভিতরে গিয়ে সব ঘরে তালা দেখতে পান। ভাড়াটিয়ার ঘরের সামনে কাপড়ে রক্ত দেখে তিনি লোকজন ডেকে নিয়ে এসে তালা ভাঙেন। এরপর ঘরের ভিতরে শাহানারা বেগমের গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের ছোটভাই মাসুদ পারভেজ বলেন, ভাড়াটিয়া বাবলা ও সুমন মাদকাসক্ত হওয়ায় তাদের ঘর ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে তাদের বাড়ি ছেড়ে দিতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়। এমনকি শাহানারা ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যে বাক-বিতন্ডাও হয়েছে। সেই জের ধরে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পরে তার শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলেন অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে প্রতিবেশীরা ওই দুই যুবককে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে দেখেন। তাদের ধারণা, বাবলা ও সুমন হত্যার পর স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে গেছেন। যশোর ডিবির পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম হাওলাদার জানান, ‘পরিচিত লোকের হাতেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে তা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার কক্ষে একটি নোটপ্যাড পাওয়া গেছে। তাতে তিন চার পেজ ধরে হত্যার কারণ উল্লেখ করে গেছে। সেখানে পূর্বে তাদের বিরোধ, বাক্-বিতন্ডা ও বিভিন্ন স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছে। তবে আসলেই এই হত্যার কারণ কি, আসলেই এই নোটপ্যাড ভাড়াটিয়াদের কিনা সেটাও তদন্ত চলছে।’ যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘পরিচিত লোকের হাতেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে তা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান ওসি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here