বন্ধ হয়ে গেছে কেশবপুরে ৮৩ মুরগির ফার্ম

0
139

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: কেশবপুরে গত দুই মাস ধরে ৮৩টি মুরগির ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি বন্যা ও
ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দুই মাস ধরে ফার্ম বন্ধ থাকায়
খামারিরা প্রতিদিন ৭ হাজার ডিম ও দুই মাসে ৮ হাজার কেজি মাংস উৎপাদন থেকে
বঞ্চিত হয়েছে। এতে খামারিদের ক্ষতি হয়েছে দুই কোটি টাকার অধিক। পানি কমতে
শুরু করায় অনেকে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে লেয়ারের পরিবর্তে সোনালীর বাচ্চা ফার্মে
উঠানোর চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ব্রয়লারের ফার্ম রয়েছে
২৩৭টি, লেয়ার রয়েছে ৫৫টি ও সোনালী রয়েছে ১৪৮টি। সম্প্রতি বন্যার কারণে ৪১টি
ব্রয়লার, ৭ টি লেয়ার ও ৩৫টি সোনালী মুরগির ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে। ওই সমস্ত খামারের
মালিকরা ডিম ও মাংস উৎপাদন থেকে ২ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কেশবপুর জয় পোল্ট্রী ফার্মের মালিক কুশ সাহা বলেন, বন্যার আগে তার ফার্মে ছিল ৪
হাজার ৫০০ মুরগি। বন্যার কারণে গত ২ মাস ধরে ফার্ম বন্ধ রয়েছে। প্রতি দিন ফার্ম
থেকে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ পর্যন্ত ডিম পাওয়া যেত। ফার্মটি বন্যায় কবলিত
হওয়ায় অর্ধেক দামে সমস্ত মুরগি বিক্রি করে দিতে হয়। এ কারণে তার ব্যাপক ক্ষতি
হয়েছে। উপজেলার সুজাপুর গ্রামের ফার্ম মালিক হাফিজুর রহমান বলেন, তার ছিল ৪
হাজার লেয়ার মুরগি। যার থেকে তিনি ডিম পেতেন প্রতিদিন ৩ হাজার। বন্যার পানি
কমতে শুরু করায় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তিনি লেয়ারের পরিবর্তে খামারে এখন সোনালীর
বাচ্চা উঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ২ মাস ধরে তার ফার্মটিও বন্ধ ছিল।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা অলোকেশ সরকার বলেন, কেশবপুর ভয়াবহ
জলাবদ্ধতার কারণে ২৩৭টি ব্রয়লার ফার্মেল মধ্যে ৪১টি, ৫৫টি লেয়ারে মধ্যে ৭টি এবং
১৪৮টি সোনলীর মধ্যে ৩৫টি ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ওই সমস্ত ফার্ম মালিকরা
ডিম ও মাংস উৎপাদন থেকে ২ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ফার্ম
মালিকদের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পানি কমে গেলে ওই সমস্ত
ফার্ম মালিকদের আবারও ফার্মে মুরগির বাচ্চা উঠানোর জন্য সার্বিক সহযোগিতা
প্রদান করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here