মোস্তাফিজুর রহমান কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেনেসাঁ সেনেটারির প্রোপাইটার ও বর্তমান কোটচাঁদপুর ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক কমিটির সভাপতি এবং সাবেক শিবিরের থানা সভাপতি সাদ আহমেদ আওয়ামী পুলিশের নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে বিছানায় সময় কাটছে তার।
জানা গেছে, তিনি ২০১৩ সালে গ্রেফতার হন ও ৫দিনের রিমান্ডে ছিলেন এর মধ্যে ৭২ ঘন্টা ঢাকার ইন্টারগেশন সেলে নেওয়া হয় এখানে টর্চার না করে শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার সাথে তৎকালীন থানা আমীর এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা তাজুল ইসলামও ছিলেন।
আওয়ামী সরকারের সময় চার বারে গ্রেফতারে মোট ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন তিনি। জানাযায়
২০১৩ সালে ২৮ শে ফেব্রুয়ারী মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সাহেবের মিথ্যা মামলায় ফাঁসির রায় দিলে কোটচাঁদপুরের সকল শ্রেণী পেশার ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা বিক্ষোভ করে শহরের ব্রীজঘাট মোড়ে। সেখানে পুলিশ সাঈদী ভক্ত মানুষের লাঠিচার্জ ও গুলি বর্ষণ করলে কয়েকজন আহত হন। তারপর উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপর পাল্টা হামলা চালায়। সেসময় পুলিশের একটি অস্ত্র হারিয়ে যায়। ব্রীজঘাট মোড়ে সাদ আহমেদ এর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকায় ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দ্বায়িত্বশীল হওয়ায় আওয়ামী পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এবং সাথে মাওলানা তাজুল ইসলামকেও গ্রেফতার করে নিয়ে দুই জন কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও চরম নির্যাতন করে।
নির্যাতনে তার মেরুদন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে মেরুদণ্ড চিকিৎসা চলমান রয়েছে ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে। তিনি পঙ্গু অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তিনি ও তার পরিবার আশংকায় আছেন কখনো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবেন কিনা। মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নিবেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বিচার চায় না শুধু সকলের কাছে দোয়া চাই আল্লাহ যেন আমাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার তৌফিক দান করেন।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক শিবিরের থানা সভাপতি কান্না জড়িত কন্ঠে এ প্রতিবেদককে আরো জানান, আমি চোর ছিলাম না, ডাকাত ছিলাম না, ছিনতাইকারী, ধর্ষণকারী, অর্থ লুণ্ঠনকারি, জমি দখলকারী, জুলুমবাজ, এবং সন্ত্রাসী ও না। শুধুমাত্র ১৯৯৬ সালের কেয়ার টেকার সরকারের জন্য আন্দোলনের নেতা। ২০০০ সালের ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোটচাঁদপুর থানা সভাপতির দায়িত্ব। ২০০২ সাল থেকে ২০১২ পর্যন্ত শ্রমিক কল্যাণ বিভাগের থানা সেক্রেটারির দ্বায়িত্ব সৎ ও নিষ্ঠার সাথে পালন করাতেই তৎকালীন স্বৈরশাসক এর পেটুয়া পুলিশ বাহিনী আমাকে ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার উপর এই পৈশাসিক নির্যাতন করে। ২০১৩ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আমার বিরুদ্ধে মোট মামলা ১৮ টি মামলা দিয়েছে এবং সবগুলো মামলাই চলমান রয়েছে। তাই এই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক হিংসাত্মক মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আমাকে সাধারণ জীবনে ফিরতে সহযোগিতা করবেন। এবং পুলিশ ভাইদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো, আপনারা কোন দলের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে এবং পদ পদবীর আশায় এভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে দোযখে ঠেলে দিবেন না। কারণ স্বৈরাচারা দীর্ঘস্থায়ী নয় কিন্তু আপনাদের চাকরি দীর্ঘ মেয়াদী।















