এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: কেশবপুরে জলাবদ্ধ বিল গরালিয়ায় বোরো আবাদের লক্ষ্যে কৃষকরা সেচ কার্যক্রম শুরু
করেছেন। গরালিয়া বিলে রয়েছে কেশবপুর সদর, মঙ্গলকোট ও পাঁজিয়া ইউনিয়নের
কৃষকের প্রায় ৬ হাজার বিঘা জমি। জলাবদ্ধতার কারণে গত বছর ওই বিলে বোরো আবাদ
হয়নি। এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যে কৃষকরা আগে ভাগেই সেচ কার্যক্রম করেছেন।
বড়েঙ্গা তিন ব্যান্ড স্লুইস গেটের পাশে ওই সেচ কার্যক্রমের মাধ্যমে পানি হরিহর নদে
ফেলা হচ্ছে। তবে ২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে সুষ্ঠু
ভাবে বিলের পানি নিষ্কাশন করা গেলে ওই বিলে এবার বোরো আবাদ করা সম্ভব হবে। তবে
হরিহর নদ ও আপার ভদ্রা নদী খনন না হলে জলাবদ্ধতা নিরষন সম্ভব নয়।
সরেজমিন শুক্রবার সকালে বিল গরালিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বিলের কৃষক ও ঘের
মালিকরা যৌথ ভাবে ৭টি সেচ পাম্প দিয়ে পানি সেচ কার্যক্রম করছেন। গরালিয়া
বিলের কৃষকরা বলছেন উপজেলার ১৭টি গ্রামের কৃষকদের রয়েছে এই বিলে ৬ হাজার
বিঘা জমি। ওই জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যে সেচ কার্যক্রম চলছে। সেচ কার্যক্রমের
সভাপতি মো. চান বলেন, আরো ৮টি সেচ পাম্প স্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে
আবেদন করা হচ্ছে। ওই ৮টি পাম্প স্থাপন করতে পারলেই পৌষ মাসের মধ্যে কৃষকরা বোরো
আবাদ শুরু করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে বিলের চার পাশের ১৭ গ্রামের কৃষকরা প্রায় ৫০০
বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করতে পারবেন।
২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক বাবুর আলী গোলদার বলেন, কেশবপুরের
বৃহত্তর একটি বিল হলো গরালিয়া। গত বছর জলাবদ্ধতার কারণে ওই বিলে বোরো আবাদ
হয়নি। পানি সেচ করা গেলে বিলে বোরো আবাদ হতে পারে। তবে হরিহর নদ ও আপার ভদ্রা
নদী খনন করা না হলে কেশবপুরের জলাবদ্ধতা সহজে নিরষন সম্ভব হবে না।
ওই বিলের কৃষক জাকারিয়া হোসেন বলেন, ঘের মালিকদের সহযোগিতায় কৃষকরা সেচ
কার্যক্রম করছেন। গত বছর বিলে বোরো আবাদ হয়নি। এবার আগে ভাগেই সেচ
কার্যক্রম শুরু করায় বোরো আবাদ হতে পারে। অপর কৃষক তাইফুর বলেন, ওই বিলে তাদের
রয়েছে প্রায় ২০ বিঘা জমি। সম্মিলিত ভাবে বোরো আবাদের জন্য পানি সেচের
উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গরালিয়া বিল সেচ কমিটির উপদেষ্টা ও কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
আলাউদ্দীন বলেন, বিলের কৃষক ও ঘের মালিকরা যৌথ ভাবে সেচ কার্যক্রম চালিয়ে বোরো
আবাদ করার চেষ্টা করছেন। সে ক্ষেত্রে বড়েঙ্গা গেটের পাশে আরো সেচ পাম্প স্থাপন করা
প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে কেশবপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এস
এম শাহিন আহসান বলেন, গরালিয়া বিলের সেচ কার্যক্রম করার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ
দেওয়া হয়েছে। সেচ কমিটির পক্ষ থেকে যদি আরো পাম্প চালানোর জন্য আবেদন করেন
সে ক্ষেত্রে নিয়ম মাফিক দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।















