শার্শায় রামরঙ্গন জাতের কমলা চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন স্বপ্নবাজ যুবক

0
162

শহিদুল ইসলাম।। যশোরের শার্শায় রামরঙ্গন জাতের কমলা চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন স্বপ্নবাজ যুবক অহিদুজ্জামান। টেলিভিশনের প্রতিবেদন ও ইউটিউব দেখে এ জাতের কমলার চাষ শুরু করেন তিনি। তার এ কমলার ক্ষেত দেখতে আশপাশের এলাকার মানুষসহ দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেকেই। ভালো ফলন দেখে এ কমলা চাষে আগ্রহী ও হচ্ছেন অনেকেই।
অহিদুজ্জামান উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের পানবুড়ি গ্রামের সন্তান। তিনি পেশায় একজন নার্সারী ব্যবসায়ী। পাশাপাশি রামরঙ্গন জাতের কমলা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
জানাগেছে,ভারত ও চীন দেশে ব্যাপক ভাবে রামরঙ্গন জাতের কমলা চাষ হয়।বাংলাদেশে এ কমলার চাহিদা বেশী হওয়ায় আমদানি ও হয় বেশী।আমদানিকৃত রামরঙ্গন কমলা লেবুর চেয়ে এ এলাকার উৎপাদিত ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু। সামান্য কিছু পরিচর্যা করলেই চাষে সাফল্য আসে। রামরঙ্গন কমলা চাষে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। একটি পূর্ণ বয়স্ক গাছ থেকে এক মৌসুমে দেড় মন থেকে দুই মন রামরঙ্গন কমলা পাওয়া সম্ভব। রামরঙ্গন কমলা গাছ ৫/৬ ফুট লম্বা হয়। এটি কমলার একটি ভ্যারাইটি জাত। এই জাতের কমলা চাষে সুবিধা হচ্ছে পূনাঙ্গ পরিপক্ব হওয়ার পরও এটা গাছ থেকে ঝরে পড়ে না। পরি পক্কের পরও অন্তত ফলটি এক মাস গাছে রাখা যায়। গাছে মূলত ২ বছরের মধ্যে ফলন দেয়।
কমলা চাষী অহিদুজ্জামান জানান,তিনি দুই বিঘা জমিতে রামরঙ্গন জাতের কমলা চাষ করেছেন। প্রথম বছরে এক লাখ ৬৬ হাজার টাকার ফল বিক্রি হলেও এ বছর ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় ফল বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করেন। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, উপজেলায় এ বছর ৫ হেক্টর জমিতে কমলার চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে পানবুড়িয়া গ্রামের অহিদুজ্জামান ২ বিঘা জমিতে রামরঙ্গন কমলার চাষ করেছে। এ এলাকায় আবহাওয়া ও মাটি ভালো হওয়ায় বিভিন্ন দেশি বিদেশি জাতের ফল চাষের জন্য উপযোগী। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকলে চাষীরা ভালো ফলন পাবে। আগামী বছর কমলার আবাদ আরও বাড়বে। বানিজ্যিক ভাবে এ এলাকায় আবাদ করা গেলে উৎপাদিত কমলা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা ও সম্ভব হবে বলে তিনি জানান ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here