লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি সরিষা আবাদে কৃষকরা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন সরিষাই

0
236

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে এবারও সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। গতবারের থেকে এবার
৬২০ হেক্টর কম আবাদ হয়েছে। কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন ভয়াবহ জলাবদ্ধতার
কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিকুলতার মধ্যেও কৃষকরা বোরো ধান আবাদের
পূর্বেই আগাম জাতের সরিষা চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরিষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২
হাজার ২০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর। গত বছর এ উপজেলায় সরিষার আবাদ
হয়েছিল ২ হাজার ১৫০ হেক্টর। সে ক্ষেত্রে গতবারের তুলনায় এবার ৬২০ হেক্টর কম আবাদ
হয়েছে। আর এবারের তুলনায় কম হয়েছে ৬৭০ হেক্টর।
কেশবপুরের ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বারি সরিষা চাষ করে কৃষকরা ঘুরে দাঁড়ানোর
স্বপ্ন দেখছেন। আবাদকৃত ক্ষেত জুড়ে সরিষার ভালো ফুল ধরায় কৃষকরা ভালো ফলনের
সম্ভাবনা দেখছেন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও সরিষা আবাদকারী কৃষকের মুখে হাসির
ঝিলিক ফুটেছে।
এ বছর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ৪ হাজার ১০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার
বিতরণ করা হয়। কিন্ত চলতি বছর ভয়াবহ বন্যা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার
থেকে ৬৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ কম হয়েছে। কৃষকের মাঠে আগাম জাতের বারি
সরিষা চাষে ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কেশবপুরের কৃষকরা বোরো আবাদের
আগে একই জমিতে আগাম বারি-১৪, বারি-৯, বারি বীনা-৯, বারি-১৮, বারি-১৭ ও টরি-
৭ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। পাশাপাশি অধিক ফলনশীল বারী-১৪ ও বারি-৯ জাতের এই
সরিষা চাষ করে কৃষকরা বোরো আবাদের খরচ উঠিয়ে নেয়। এ বছর নতুন করে টরি-৭,
বারি-৯, বারি বীনা-৯, বারি-১৭ ও বারি- ১৮ জাতের উচ্চ ফলনশীল সরিষা চাষ শুরু করেছে।
এসব জাতের সরিষা ৭০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে কৃষকরা ঘরে তুলতে পারে। যার ফলে কৃষকরা
সরিষা চাষের পরে খুব সহজে বোরো আবাদ করতে পারেন। উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের
কৃষক মোবারক হোসেন খাঁন, আব্দুল জলিল খাঁন, জামরুল খাঁন বলেন, এবার আগাম
জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। গাছে ফুলও ধরেছে প্রচুর পরিমাণে। জলাবদ্ধতার কারণে
সরিষার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও এবার ভালো ফলন পাওয়া যাবে। একই ভাবে বরণঢালি
গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন, আবদুর রশিদ, আবদুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, প্রতাপপুর
গ্রামের আবদুল কুদ্দুস, কাকিলাখালী গ্রামের আফজাল হোসেন, দেউলি গ্রামের কৃষক
আজিজুর রহমান, রেজাউল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, মজিদপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল
ইসলাম, আবদুস সাত্তার বলেন, প্রতি বছর সরিষার চাষ করা হয়। সরিষা চাষে অনেক
লাভোবান হন তারা। ইরি বোরো মৌসুমের আগেই সরিষা তুলে সেই জমিতে বোরো
ধানের আবাদ করে থাকেন কৃষকরা। সাতবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন, ময়েজ
উদ্দিন, ব্রহ্মকাটি গ্রামের তরিকুল ইসলাম, আবদুল মজিদ, রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবদুল
সরদার, আজিজুর খাঁ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছরে বৃষ্টির পানি কম থাকলেও সরিষা
ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিঘাপ্রতি জমিতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ
করে প্রায় ৬ থেকে ৭ মণ সরিষা পাবে বলে তারা ধারণা করেছেন। বাজারে সরিষার দামও ভালো
পাওয়া যাবে। তবে চলতি বছর এলাকায় বন্যা হওয়ায় কৃষকেরা বেশি আবাদ করতে পারেনি।
এবারের অতিরিক্ত বৃষ্টি ও নদ-নদীর উপচে পড়া পানিতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং পৌর
এলাকার ১০৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বন্যার পানি নামতে না পারায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা
সৃষ্টি হয়। কৃষি অফিস জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি খাতে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি নিরূপন
করে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা বোরো চাষের আগেই আগাম জাতের সরিষা চাষ
করেছেন।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চলতি বছরে ২ হাজার ২০০
হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্ত ভয়াবহ বন্যা ও স্থায়ী
জলাবদ্ধতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা কমে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর। সরিষা গাছে ভালো ফুল
ও ফল দেখা গেছে। বর্তমান আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা
রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here