আজিবর রহমান, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: উৎপাদনের খরচের তুলনায় পান
চাষে লাভ বেশি। তাই দিন দিন পান চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে মানুষ। সাফল্য
অর্জন করছে চাষিরা। বদলে যাচ্ছে তাদের দিন। এ এলাকায় প্রতি বছর ৫০ কোটি
টাকার পান বিক্রি হয়।
মণিরামপুর শতকরা ৮০ ভাগ লোক কৃষি নির্ভরশীল। ধান, শাক-সবজিসহ নানা ধরণের
ফসল উৎপাদন করে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় পান চাষ অধিক লাভজনক ফসল হিসেনে দিন
দিন এলাকার মানুষ পান চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। মণিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত
এলাকায় কম বেশি পান চাষ করে। সে তুলনায় ঢাকুরিয়া ইউনিয়নে বেশি পানের
বরজ রয়েছে বলে চাষিরা জানান।
তারুয়াপাড়া গ্রামের মানিক দাস, প্রতাপকাটি গ্রামের ওমারেশ, করেরাইল
গ্রামের সাইদুল ইসলাম ও অতনু, সুবলকাটি গ্রামের সুকুমার, তেলিকুড়
গ্রামের পলাসসহ কয়েকজন পানচাষি জানান,ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের
প্রতাপকাটি, তারুয়াপাড়া, সুবলকাটি, করেরাইল, ঢাকুরিয়া, চাপাকোনা,
ভবানীপুরসহ পাশাপাশি ১৫ টি গ্রামে পানের বরজ রয়েছে। কমপক্ষে ৮ শতাধিক
চাষি ১ হাজার ২’শ বিঘা জমিতে পানের চাষ করে।
জমির প্রস্তুতি শেষ করে পান গাছের লতা রোপন করে। এ এলাকায় সাচিপান, ঝালপান
ও ভাবনা জাতের পানের চাষ হয়। লতা রোপনের অন্তত চার মাস পর পান পাতা তোলা শুরু
হয়। তবে পান তোলার আগে বিঘা প্রতি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৪০
হাজার টাকা খরচ হয। প্রতি বছর পান বিক্রি হয় আনুমানিক ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৪
লাখ টাকা। পান গাছের নির্দিষ্ট কোন মেয়াদকাল নেই। তবে সঠিকভাবে পরিচর্যা
করলে অন্তত ২৫ বছর যাবৎ পানগাছ বেঁচে থাকে। প্রতি সপ্তাহে বিঘা প্রতি ২’শ
থেকে ২৫০ পোন পান তোলা যায়।
চাষিরা আরও জানায়, প্রতি বিঘা জমিতে প্রতিদিন ২ জন শ্রমিক কাজ করে।
ফলে এলাকার ২ হাজারেরও বেশি অসহায় গরিব মানুষ জীবিকানির্বাহ করে। পরিবার
পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটায়।
পানের জমিতে প্রতি চার মাস অন্তর সার প্রয়োগ করে। পান চাষে ইউরিয়া,
ফসফেট, পটাশ, দস্তা, খৈলসহ বিভিন্ন প্রকারের সার প্রয়োগ করে। পান গাছ
নানা রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে পড়মরা, পানপঁচা, মাথায় পোকা রোগে বেশি
ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাছ রোগে আক্রান্ত হলে ফ্লোরা,্ধসঢ়; একতারা, সিমিরা, লিভাজসহ
নানা ধরণের ্ধসঢ়;ওষধ প্রয়োগ করে।
এসব চাষিরা মণিরামপুরম ঢাকুরিয়া, রূপদিয়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে পান
বিক্রি করে। তবে স্থানীয় বাজার হিসেবে ঢাকুরিয়া বাজারে বেশি পান বিক্রি
করে। চাষিরা আরও জানায, ঢাকুরিয়া বাজারে সপ্তাহের প্রতিদিন সকালে পানের
হাট বসে। প্রতিদিন ২৫০ পোন থেকে ৩০০ পোন পান বিক্রি হয়। যার
আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকা।
ছবির ক্যাপসান- মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া এলাকার পান চাষির পানের বরজ-
সংবাদদাতা















