মোংলা প্রতিনিধি : মোংলায় জমি লিজ (ইজারা) নিয়ে মাছ চাষ করে হামলার শিকার হয়েছেন ঘের মালিক তাহাবুর মল্লিক। গত ১১ ডিসেম্বর দিনে দুপুরে উপজেলার মাকোরঢোনের পাকখালী গ্রামে এই হামালার ঘটনা ঘটে। পরে হামলাকারীরা ওই ঘের মালিকের সব মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে বাবুল শেখসহ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানায় হামলার শিকার ঘের মালিক তাহাবুর মল্লিক।
মোংলা থানায় দেয়া সেই অভিযোগে ভূক্তভোগী তাহাবুর মল্লিক উল্লেখ করেন, তিনি উপজেলার মাকোরঢোন গ্রামের পাকখালী এলাকার নিভেন্দ্র নাথ ঢালীর কাছ থেকে এক বছরের জন্য জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু গত ১১ ডিসেম্বর মাকোরঢোন প্রামের পাকখালী এলাকার মোঃ বাবুল শেখের নেতৃত্বে ১০/১২জন তার ওপর হামলা চালিয়ে দিনে দুপুরে তার মাছের ঘেরের পানি সরিয়ে সব মাছ লুটপাট করে নিয়ে যায়। এসময় তার উপর হামলাও চালিয়ে ঘেরটি দখল করে এসকল ভূমিদস্যিরা।
পরে তিনি এ বিষয়ে বাবুল শেখসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানায় ভুক্তভোগী তাহাবুর। তিনি আরো বলেন, গতকাল ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে আমাকে ঘেরে প্রবেশ করতে দেয়নী এবং বর্তমান ক্ষমতাধর বিভিন্ন সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনাও পুলিশকে জানানো হয়েছে কিন্ত রহস্যজনক কারণে কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছেনা পুলিশ।
এ বিষয়ে মোংলা থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, জমিজমা বা মাছের ঘের সংক্রান্ত দেওয়ানি আদালতের বিষয়। তবে অভিযোকারীর উপর যদি ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে অভিযুক্ত বাবুল শেখ দাবি করেন, তাহাবুর যে জমিতে মাছ চাষ করছিল সেই জমি তার। সে অবৈধভাবে এতোদিন তার জমিতে মাছ চাষ করছিলেন। তবে তার ওপর কোন হামলা বা মাছ লুটের ঘটনা ঘটেনি। তিনি যে অভিযোগ করছে তা মিথ্যা। তবে ওই জমির প্রকৃত মালিক নিভেন্দ্র নাথ ঢালী বলেন, আমার জমি আমি তাহাবুর মল্লিককে এক বছরের জন্য লিজ দিয়েছি। সে এ জমিতে মাছও চাষ করছিলেন। কিন্তু গত ১১ডিসেম্বর বাবুল শেখ নামের এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে এসে ঘেরটি অবৈধবাবে দখল করে এবং প্রকাশ্যে ঘেরটির বাধ কেটে দিয়ে প্রায় ৫/৭ লক্ষ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। আমি এ জমির প্রকৃত মালিক, এসকল ভূমিদস্যুতের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই।















