পারভেজ আহম্মেদ : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরজহাট ইউনিয়নে অবৈধভাবে ১০-১২ বছর ধরেটি তিন থেকে চারটি ড্রেজার মেশিন বালু উত্তোলন করে আসছে সাইদুজ্জামান কাঁকন ওরফে কাকন নামে সাবেক এক ইউপি সদস্য। স্থানীয়রা সবাই তাকে বালুখেকো কাকন নামে চেনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১০-১২ বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশীলদের প্রত্যক্ষ সমর্থনে দরজহাট ইউনিয়নের সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের মাইন্ডে নামক স্থান থেকে বালু উত্তোলন চলছে। অথচ, সব জেনেও প্রশাসন নির্বিকার।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাইবে না।’আইনের ৪ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হইলে, অথবা আবাসিক এলাকা হইতে সর্বনিম্ন ১ (এক) কিলোমিটার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সীমানার মধ্যে হইলে’ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না।
এগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অমান্যকারী দুই বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
স্থানীয়রা জানান, বালু সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা হলেন— দরজহাট ইউনিয়নের সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের তবিবুর রহমানের ছেলে সাইদুজ্জামান কাঁকন ওরফে কাকন মেম্বার ও তার চাচাতো ভাই হাবিবার মোল্লার ছেলে সিরাজ মোল্লা। তারা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মদদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও যন্ত্রাংশ ভাঙচুর বা উচ্ছেদ করলেও কাজ হয় না। দু-চার দিন পর আবার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু হয়। প্রশাসন যথাযথভাবে নজরদারি করে না।
সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদেরকে বলেন, ‘অবৈধ ড্রেজার মেশিনগুলোর মালিকরা উপজেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ মদদে মাসোহারার বিনিময়ে বালু উত্তোলন করে আসছে।
সরজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায় ২টা ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে ও ৮ থেকে ৯ টা ট্রাক বালি পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, এখান থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক বালি বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় করা হচ্ছে।
এই বালি উত্তোলনের ফলে বিগত কয়েক বছর ধরে আশপাশের এলাকাগুলোতে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং বেশিরভাগ ফসলে জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এলাকার কোমলমতি শিশুরা ।কারণ বালি উত্তোলন ও পরিবহনের ফলে আশপাশের এলাকার পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে তেমন বাতাসের সাথে ভালো মিশে শ্বাসকষ্টের মত রোগের ঝুঁকি বাড়চ্ছে।
এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শোভন সরকার আমাদেরকে জানান, ইতিমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি যে কাকন মেম্বারের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আমি আমার ইউনিয়ন ভূমি সহ-কারী কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠিয়ে ছিলাম ও বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি।আমি নিজে অভিযুক্ত কাকন মেম্বারের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলে তাকে জানিয়েছি সেখান থেকে যদি আর এক কোদাল ও বালি উত্তোলন করা হয় তাহলে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
Home
যশোর স্পেশাল সোল্ডার: একযুগ ধরে বালু উত্তোলন, নিরব প্রশাসন, বাঘারপাড়ায় ‘অপ্রতিরোধ্য’ বালুখেকো সিন্ডিকেট















