শালীনতারনির্ধারণ করা হয় ১৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৪ হাজার হেক্টর মাত্র কেশবপুরে জলাবদ্ধতায় বোরো আবাদে দিশেহারা কৃষক

0
129

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে জলাবদ্ধতার কারণে ৭ ইউনিয়নের বোরো আবাদ করতে না পেরে কৃষকেরা পড়েছেন বিপাকে। ভবদহ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার উপজেলার সুফলাকাটী, পাঁজিয়া, মঙ্গলকোট, কেশবপুর সদর, হাসানপুর, মজিদপুর ও বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নে ৩ হাজার ১০৪ হেক্টর জমিতে এখনও থৈ থৈ করছে পানি । যে কারনে এ সমস্ত জমিতে বোরো আবাদ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নদ-নদী খননসহ টিআরএম চালু করা না হলে এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরো বৃদ্ধি পেয়ে এক সময় এলাকার মানুষ ফসল হারা হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হবেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুফলাকাটী ইউনিয়নে ১ হাজার ১৬৪ হেক্টর, পাঁজিয়া ইউনিয়নে ৬০০হেক্টর, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ১০০ হেক্টর, কেশবপুর সদর ইউনিয়নে ৩০০ হেক্টর, হাসানপুর ইউনিয়নে ৪০ হেক্টর, মজিদপুর ইউনিয়নে ৩০০ হেক্টর ও বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নে ৬০০ হেক্টর জমি জলাবদ্ধ রয়েছে। এ বছর কেশবপুর উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ২০০ হেক্টর। গত বছর এ উপজেলায় বোরো আবাদ হয়েছিল ১৩ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, হরিহর নদ, বুড়িভদ্রা নদী, আপার ভদ্রা ও শ্রীহরি নদী খনন না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভাবে কেশবপুরের জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়।
সরেজমিনে উপজেলার বিল গরালিয়া, পাঁজিয়া, বাগডাঙ্গা, নারায়নপুর ও বিল খুকশিয়া ঘুরে দেখা গেছে এই বিল গুলোতে এখনও পানিতে থৈ থৈ করছে। পাঁজিয়া ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা এলাকার ইউপি সদস্য বৈদ্যনাথ সরকার বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে বাগডাঙ্গা-মনহরনগর বিলে বোরো আবাদ হচ্ছে না। এলাকার কৃষকরা বোরো আবাদ করতে না পারায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, বুড়িভদ্রা নদীর পারের ২ বিঘা জমি জলাবদ্ধ থাকায় এবার বোরো আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার মত অনেক কৃষক বুড়িভদ্রা পারে জলাবদ্ধতার কারণে বোরো আবাদ করতে পারবে না।
২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক বাবর আলী গোলদার বলেন, নদ-নদী পলিতে ভরাট হওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ছে। নদ-নদী খননের পাশাপাশি ভবদহ অঞ্চলের যে কোন একটি বিলে টি.আর.এম চালু না করা হলে বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা আরো বৃদ্ধি পাবে। কৃষক এ ভাবে বোরো আবাদ থেকে বঞ্চিত হতে থাকলে তারা অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। এ বছর জলাবদ্ধ এলাকার ৮০ ভাগ জমিতে কৃষকরা বোরো আবাদ করতে পারবে না। এ ভাবে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেতে থাকলে এক সময় জলাবদ্ধ অঞ্চলের মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হবেন।
উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কিরন্ময় সরকার বলেন, কৃষকরা ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বোরো আবাদ করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে এবার বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা কাছাকাছি পৌছে যাবে। অপর দিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, বোরো আবাদের উপযুক্ত সময় হলো অগ্রাহাণ ও পৌষ মাস। এর পর বোরো আবাদ করলে ঝড়-ঝঞ্জার কারণে ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুমন সিকদার বলেন, হরিহর নদ, বুড়িভদ্রা নদী, আপার ভদ্রা ও শ্রীহরি নদী খনন না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভাবে কেশবপুরের জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে না। এ সমস্ত নদ-নদী খননের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রকল্প প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে নদ-নদী খননের কার্যক্রম শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here