লোহাগড়ায় বসুন্ধরা শুভ সংঘের আয়োজনে শিশুদের নিয়ে হারানো দিনের খেলা অনুষ্ঠিত। গ্রামীণ হারানো দিনের খেলাধূলার সাথে শিশুদের পরিচিত করবার উদ্যোগ

0
135

লোহাগড়(নড়াইল)প্রতিনিধি : এখনকার শিশুরা চেনেনা বাপদাদার হারানো দিনের গ্রাম বাংলার সেই চিবুড়ি,কানামাছি, গোল্লাছুট, ব্যাঙ লাফ,মোরগ লড়াই, সোলাসি, ডানগুলি, চাড়া খেলা, লুডু, কড়ি খেলা। এখনকার শিশুরা চেনে মোবাইলে গেম খেলা, ডিজিটাল প্লাটফর্মে বা ইউটিউবে অলস সময় কাটানো। এখন আর তাই শিশুদের মাঝে যেন নেই গ্রাম বাংলার কোলাহল, প্রাণের স্পন্দন। শারীরিক বৃদ্ধি, শিশুদের মানুষিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে আজকের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে। শিশুরা হচ্ছে বিকলঙ্গ। আর তাই আজকের শিশুদের বাপদাদার হারানো দিনের খেলার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে নড়াইলের লোহাগড়ায় আয়োজন করা হয়,, ফিরে যাই বাপদাদার পুরনো দিনের খেলাধুলায়। পরিচিত হই গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া সেই ঐতিহ্যের সাথে।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের পারশালনগর গ্রামে শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদ্যাবিথী একাডেমী চত্বরে হারানো দিনের এ খেলার আয়োজন করা হয়। বসুন্ধরা শুভ সংঘ এর আয়োজনে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এ গ্রামীণ খেলাধূলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে আলেচনাসভা ও বিজয়ী সহ সকল শিশুদের মাঝে পুরস্কার স্বরুপ শিক্ষা সরঞ্জম বিতরণ করা হয়।
বসুন্ধরা শুভ সংঘ লোহাগড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক লোহাগড়া পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র রাজিয়া সুলতানা বিউটির সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ আহাদুজ্জামান বাটু।
এসময় বক্তব্য রাখেন লোহাগড়া প্রেস ক্লাবের আহবায়ক মোঃ সেলিম জাহাঙ্গীর, সিনিয়র সাংবাদিক সরদার রইচ উদ্দিন টিপু, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বসুন্ধরা শুভ সংঘের সদস্য মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রধান শিক্ষক এসমত আরা তুলি, শুভ সংঘের সদস্য কাজী আল মামুন, মোঃ সাহেব আলী। সভা পরিচালনা করেন বসুন্ধরা শুভ সংঘের লোহাগড়া উপজেলা শাখার উপদেষ্টা এসকে,এমডি ইকবাল হাসান শিমুল।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আহাদুজ্জামান বাটু তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। আজকের এই শিশুর সুস্থ্য মানুষিক বিকাশ ঘটাতে প্রয়োজন খেলাধূলায় তাদেরকে সম্পৃক্ত করা। বাপদাদার আমলে র হারানো দিনের সেই গ্রামীণ খেলাগুলির সাথে শিশুদের পরিচিত করতে হবে। আগেকার খেলাধুলায় ছিলো প্রাণ। শিশুদের মাঝে পুরনোদিনের খেলা ফিরিয়ে দিতে উদ্যাোগ নিতে হবে। তিনি অভিভাবকদের আরো বলেন, সন্তানকে খুশি করবার জন্য মোবাইল হাতে তুলে দেবেন না। খাবার খাওয়ার সময় শিশুকে মোবাইল হাতে দিলে ওই শিশু খাবারের স্বাদ না পেয়ে মোবাইলের স্বাদই পাবে। শিশুর মানুষিক বৃদ্ধি সংকুচিত হবে। শিশুকে হারানো দিনের খেলায় ফিরিয়ে আনুন। ওই শিশুর প্রাণের স্পন্দন বাড়বে। বিপথে যাবে না। বসুন্ধরা শুভ সংঘের এমন আয়োজনকে তিনি স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন স্কুলের শিক্ষক শারমিন খানম, মৌমিতা খানম,তৃষ্ণা রাণী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here