শালিখায় পেঁয়াজ বীজ চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা

0
164

সাইফুল ইসলাম : শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি : মাগুরার শালিখায় পেঁয়াজের বীজ চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। গত বছর ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় এবার পেঁয়াজ বীজ চাষে আগ্রহ দেখিয়েছেন কৃষকেরা। কৃষি বিভাগ বলছে চলতি বছর উপজেলায় ৬০ লক্ষ টাকার পেয়াজ বীজ উৎপাদন হবে বলে আশা কারা হচ্ছে। এসব বীজ এলাকার চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় প্রতি বছর বাড়ছে পেঁয়াজের উৎপাদন। উপজেলায় এবার ০২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ০.৫ হেক্টর বেশি।
প্রতি হেক্টরে ১০০০ কেজি বীজ উৎপাদন হলে এবছরে প্রায় ২০০০ কেজি বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সাদা কলো রংগের ফুলে ছেয়ে গেছে পেঁয়াজ বীজের ক্ষেত। বাতাসে দোল খাচ্ছে সাদা কলো রংগের ফুল।
সকাল হলেই এসব বীজ ক্ষেতের পরিচর্যার জন্য ব্যাস্ত হয়ে পড়েন সবাই। ক্ষেতে পানি দেওয়া, আবার কেউ পোকা দমনের কীটনাশক স্প্রে নিয়ে এবং কেউ কৃত্রিম ভাবে ফুলে হাতের ছোয়ায় পরাগায়ন করতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন।
পেঁয়াজের বীজ চাষে শুধু কৃষকেরা লাভবান হননি বরং স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় কাজ করছেন তারা। এ
উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত নভেম্বর মাস বীজ তলা বা পেঁয়াজের াজমিতে বীজ বপণের সময়। বীজ পরিপক্ক হতে ১২০-১৩০ দিনের মতো সময় লাগে। ফুলে পরাগায়ন না হলে পেয়াজ ফুলে পরিপক্কতা আসে না।
চাষিরা বলছেন পেঁয়াজ ফুলে পরাগায়ন হয়ে থাকে মূলত মৌমাছির মাধ্যমে অথবা বাতাসের মাধ্যমে। কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মৌমাছির আনাগোনা কমে যাওয়ায় ঝাড় বা হাতের ছোয়ায় কৃত্রিম পরাগায়নের চেষ্টা করেন অনেকে।
উপজেলার বুনাগাতী ইউনিয়নের হাট বাড়িয়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি মোঃ ইমাম হোসেন জানান গত বছর ১ একর ৮ শতক জমিতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে ১৩ লক্ষ টাকার বীজ বিক্রি করেছিলেন, এবারও ১ একর জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভাল ফলনের আশা করছি।
পেঁয়াজ বীজ চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার ছোট থইপাড়া গ্রামের কৃষক গজেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। তিনি দৈনিক সকালের সময় প্রতিনিধিকে জানান তিনি ১৫ শতক জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করছেন। প্রায় তিন লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন।
এ মাঠে পেঁয়াজ বীজ পরিচর্যায় নিয়োজিত উত্তম বিশ্বাস, চিত্ত বিশ্বাস বলেন পেঁয়াজ বীজ পরাগায়ন থেকে শুরু করে সংগ্রহ পর্যন্ত প্রচুর কাজ থাকে তাই আয়ও হয় ভালো।
উপজেলার মাঠ গুলোতে মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় এচাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন এ এলাকার চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭৩৫ হেক্টর পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে যার মধ্যে ০২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে যা গত বছরের তুলনায় ০.৫ হেক্টর বেশি। তবে দিন দিন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে কৃষকদের যেমন আগ্রহ বাড়ছে তেমন বাড়ছে বিকল্প কৃষি কর্মসংস্থানের। নিয়মিত পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করা গেলে এ এলাকার কৃষিতে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here