বাঘারপাড়ায় অফিসের প্রথম দিনেই দেখা মেলেনি অনেক কর্মকর্তার

0
278

নূর হাসান লাল্টু বাঘারপাড়া : সাপ্তাহিকসহ ঈদের টানা নয় দিন ছুটি কাটিয়ে সরকারি অফিস আদালত গুলো রবিবার থেকে ফের চালু হয়েছে। স্বাভাবিক কাজকর্মে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। কিন্তু বাঘারপাড়া উপজেলার কিছু কিছু দপ্তরের কর্মকর্তাদের ঈদের ছুটি শেষে অফিসের প্রথম দিনেই তাদের কার্যালয়ে দেখা যায়নি। কোন কোন অফিসারের অফিস রুম খোলা থাকলেও অফিসারের দেখা মেলেনি, আবার কিছু কর্মকর্তার দরজায় খোলা দেখা যায়নি। রবিবার সকাল দশটার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এদিন সকাল দশটা দুই মিনিটে উপজেলা নির্বাহি অফিসার শোভন সরকারের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় অফিসিয়াল কাজে তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন, এক ফাঁকে নির্বাহি অফিসার বলেন,লম্বা একটা ছুটি শেষে কাজের ব্যস্ততা বেড়েছে। সকাল ১০টা ৫৩মিনিটে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মীনা খানমের কক্ষে যেয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। একই সময়ে খাদ্য পরিদর্শক আকরামুজ্জামানের চেয়ারও ছিল ফাঁকা। তাদের সম্পর্কে জানতে চাইলে অফিসে থাকা অফিস সহায়ক টিপু সুলতান বলেন,খাদ্য নিয়ন্ত্রক স্যার মাসিক মিটিংয়ে যশোর গেছেন, আর খাদ্য পরিদর্শক ডেপুটেশনে মোংলায় গম খালাসের জন্য সেখানে অবস্থান করছেন। বেলা ১১টায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা খাতুনকে তার অফিসে পাওয়া যায়নি। ঐ অফিসের হেড ক্লার্ক প্রদীপ রায় বলেন,তিনি বাঘারপাড়ায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন,আজ ম্যাডাম (মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা) যশোরে দায়িত্ব পালন করছেন। বেলা ১১টা১৬ মিনিটে বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ানের অফিসের দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। ঔ অফিস থেকে জানানো হয় স্যার অফিসের কাজে বাইরে আছে। দুইটার দিকে অফিসে আসবে।তবে অন্যান্য কর্মকর্তা -কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। ১১টা ১৯ মিনিটে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়ালিদ হোসেন রুম্মান এর চেয়ার ছিল ফাঁকা। তবে এসময় তিনি ইউ এন ও স্যারের সাথে মিটিংয়ে আছেন বলে জানান, তার অফিসের ক্ষেত্র সহকারী মিজানুর রহমান। অবশ্য তার সত্যতাও পাওয়া যায়। এদিকে সকাল ১০ টা ৪৮ মিনিটে বাঘারপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশিকুজ্জামান এর কক্ষের দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় একাডেমিক সুপারভাইজার ওয়াহিদুজ্জামানকেও অফিসে পাওয়া যায়নি। তবে দুপুরের পর তাকে পাওয়া গেলে তিনি জানান,আমি জেলা শিক্ষা অফিসে কাজে গিয়েছিলাম। বেলা ১১:৩০ মিনিটে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের এস এ এস সুপারিনটেন্ট আব্দুর রহিমকে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বলেন,তিনি ছুটিতে আছেন। তাছাড়া বেলা ১১টা ৯ মিনিটে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আরব আলীর চেয়ার ছিল ফাঁকা, তবে তিনি অফিসে এসেছেন বলে জানান, যুব উন্নয়ন অফিসের প্রধান সহকারী প্রদীপ বিশ্বাস। পরবর্তীতে এর সত্যতাও পাওয়া যায়। এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার, কৃষি সম্প্রসারন অফিসার, আনসার ভিডিপি অফিসার, হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা, নির্বাচন অফিসারসহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা অফিস করেছেন। তবে অফিসের প্রথম দিনে সেবা গ্রহিতা নাগরিকের সংখ্যা সব দপ্তরে ছিল নগন্য। যেসব কর্মকর্তাদের অফিসে পাওয়া যায়নি তাদের বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহি অফিসার শোভন সরকার বলেন, যারা এখনও অফিসে পৌছায়নি তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here