রাজয় রাব্বি, অভয়নগর (যশোর) : যশোরের অভয়নগরে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর ব্যস্ততা। নতুন
ধান কাটতে ও ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কৃষক-কৃষাণী। উপজেলার
বিস্তৃত ফসলের মাঠ জুড়ে সোনালী ধান কাটার যেন উৎসব চলছে। বোরো ধানের
বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি।
বুধবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ জমির ধান
পেকে গেছে। কৃষকরা কেউ ধান কাটছেন, কেউ ধানের আটি বাঁধছেন।
কৃষকরা কাঁধে করে ও বিভিন্ন যানবাহনে ধান নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। ধান ঘরে
তুলতে গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমকেও হার মানাচ্ছে তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, পৌষের মাঝামাঝি সময় থেকে মাঘ মাসের
মাঝ পর্যন্ত বোরো ধান রোপণ করা হয়। এ বছর ধানের আবাদ হয়েছে ১২ হাজার
৭৩৮ হেক্টর জমিতে। প্রতি বিঘায় (৩৩ শতাংশে) ফলন হয়েছে প্রায় ৩০ মন। কৃষি
প্রধান এ উপজেলার শতকরা ৯০ ভাগ কৃষক ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল। আবাদকৃত ৭০
শতাংশ জমির ধান পেকে গিয়েছে। ইতিমধ্যে ৭ হাজার ৬৪৩ হেক্টর জমির ধান কাটা
হয়েছে।
উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামের শাহ্ধসঢ়; মঈন আলম বলেন, ‘এবার
৪ বিঘা জমিতে ধান রাগিয়েছি। অন্য বছরের চেয়ে বেশি ফলন হয়েছে। তবে ধান
কাটার শ্রমিকের মুজুরি একটু বেশি। মাথাপিছু শ্রমিককে ৬৫০ থেকে ৭০০
টাকা দিতে হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ধান কাটা,
মাড়া ও শুকিয়ে ঘরে তোলার কাজ সম্পন্ন হবে।’
উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ভাটবিলা গ্রামের সমীরণ কুমার বিশ^াস বলেন,
‘তাপমাত্রা বেশি; তারপরও দিন মজুরের সংকট রয়েছে। তাই নিজেরা ধান কাটতে শুরু
করেছি। কৃষি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার কারণে ধানচাষে আগ্রহী হয়েছি।
তবে সরকারি সহযোগীতার মাধ্যমে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধান কাটার ব্যবস্থা নেওয়া
হলে ভালো হতো।’
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. লাভলি খাতুন বলেন, ‘বোরো
মৌসুমে কৃষকরা যাতে লাভবান হয় সেজন্য সার্বক্ষণিক নজর রেখেছি। সঠিক
সার ব্যবহার, পানি সাশ্রয় ও সার্বিক পরিচর্যার পরামর্শ দিয়েছি। আবহাওয়া
অনুকূলে থাকায় কৃষকরা যে ফলন আশা করেছিল তার চাইতে বেশি ফলন পাচ্ছেন।
কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের বলেছি; ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই তা ঘরে
তুলে ফেলতে হবে।’















