সাংবাদিক আনোয়ারকে হত্যার হুমকি

0
276

স্টাফ রিপোর্টার : ‎রাস্তা সংস্কারে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করায় দৈনিক আজকের পত্রিকার মনিরামপুর প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেনকে হত্যার হুকমি দিয়েছেন মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও নৌকা প্রতীকের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহ। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১০টা ৫২ মিনিটে চেয়ারম্যান তাঁর নিজস্ব হোয়াটর্সঅ্যাপ (০১৭৯৮-০৬০১৮৫) নম্বরে ফোন করে এই হুমকি দেন। এই ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন হুমকির শিকার ওই গণমাধ্যম কর্মী।
‎সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বলেন, সম্প্রতি খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর গ্রামে মোহন্ততলা মন্দির অভিমুখী কাঁচা রাস্তায় সরকারি অর্থায়নে ইটের সলিংয়ের কাজ হয়েছে। পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহর তত্ত্বাবধানে কাজটি বাস্তবায়িত হয়েছে। রাস্তা খুঁড়ে নামমাত্র বালু ছড়িয়ে নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ করায় ৮-১০ দিনের মধ্যে বেশিরভাগ ইট ভেঙ্গে গেছে, স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে আজকের পত্রিকার মনিরামপুর প্রতিনিধি গত মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন রাস্তার ভিডিও ধারণ করেন।
‎হুমকির শিকার সাংবাদিক জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুনসুর আলীর কাছে রাস্তার সলিংয়ের বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে মেম্বর খারাপ ইট দিয়ে রাস্তার কাজ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,কাজটি পরিষদের চেয়ারম্যান করিয়েছেন। এরপর চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহর কাছে রাস্তাটি কোন প্রকল্পের, কতটাকা বরাদ্দের ও ইটের মান নিয়ে মোবাইলে ফোনে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান রাস্তার কাজ ভাল হয়েছে দাবি করে অসংলগ্ন উত্তর দেন। পরে রাস্তার কাজের বিষয়ে জানতে ইটের সলিংয়ের ভিডিও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে হোয়াটর্সঅ্যাপে পাঠান সাংবাদিক আনোয়ার। পিআইওর দপ্তরে ভিডিও পাঠানোর বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষেপে যান চেয়ারম্যান জিন্নাহ। পরে তিনি (চেয়ারম্যান) সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের হোয়াটর্সঅ্যাপ নম্বরে কল করে অশ্লীল ভাষার গালাগালি করে হত্যার হুমকি দেন।
‎সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে হুমকির বিষয়ে মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, চেয়ারম্যানের হুমকির অডিও রেকর্ড শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎সাংবাদিক আনোয়ার বলেন, জিন্নাহ পাঁচবার নির্বাচনী লড়াই করে শেষের বার জয়লাভ করে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দরিদ্রদের বিভিন্ন ভাতার নামে অর্থ বাণিজ্য করায় একাধিকবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন চেয়ারম্যান। গত বছর প্রতিবন্ধী ভাতার বই বিতরণ ও আঙ্গুলে ছাপ নেওয়ার নামে ইউনিয়ন পরিষদে উপকারভোগীদের জিম্মি করে কয়েক জনের কাছ থেকে দুই হাজার করে টাকা নেন চেয়ারম্যান। তখন আজকের পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ পায়। এরপর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়ে। যার তদন্তের পর চেয়ারম্যান উপকারভোগীদের সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। সেই থেকে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের পর চটে আছেন চেয়ারম্যান জিন্নাহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here