স্টাফ রিপোর্টারঃ বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ১৬৪ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ শুক্রবার বিকালে প্রাচ্যসংঘ যশোর অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে যশোরের জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জিলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকতা আসাদুজ্জামান, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর ই আলম সিদ্দিকী ও প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। প্রাচ্যসংঘ যশোরের সভাপতি কবি কাসেদুজ্জামান সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাচ্যসংঘ যশোরের প্রতিষ্ঠাতা লেখক, গবেষক কবি সাংবাদিক বেনজীন খান। উপস্থিত ছিলেন প্রাচ্য আকাদেমির অধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন, প্রাচ্যসংঘ যশোরের সুপ্রিম কাউন্সিল সদস্য আখতার ইকবাল টিয়া, প্রেস ক্লাব যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান কবির বাবুসহ প্রাচ্যসংঘ যশোরের বিভিন্ন বিভাগের শিল্পী, কবি ও অভিভাবকবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক তার বক্তৃতায় বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ১৬৪ তম জ্নজয়ন্তী উপলক্ষে প্রাচ্যসংঘ যশোরের আজকের এই আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি অঙ্গনে কবির অবাধ বিচরণ ছিলো সত্য, কিন্তু ভবিষ্যতে অন্য কোন কবি তাঁকে অতিক্রম করতে পারবে বলে ামআমাদের মানষপটে যে ছবি চিত্রায়িত আছে বা করে দেওয়া হয়েছে তা ঠিক নয়। সাহিত্যের প্রতিটি অঙ্গনে বিশ্ব কবির অবদানকে স্বীকার করে জেলা প্রশাসক বলেন, যে সময়ে কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর তার সাহিত্য কর্ম সম্পাদন করেছিলেন সেই সময়কালটা ছিলো পুরুষ শাষিত সমাজ। পুরুষরা সমাজকে ডোমিনেট করতো। কিন্তু কোন একটি জায়গায় সেই পুরুষরাও ডোমিনেট হতো। তাই নারীরা ছিলো বন্দীর কাছে বন্দী। আর এ কারনেইগোটা রবীন্দ্র রচনায় কোথাও নারীদেরকে বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত পুরুষের জয়কেই বড় করে দেখা হয়েছে।
বক্তারা কবি গুরুর রচনা সমুহের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর তার সমগ্র রচনায় ধর্মীয় সীমাবদ্ধতা থেকে বের হতে পারেননি। তার সমগ্র রচনায় ভারতীয় মুসলিম শাষন ব্যবস্থার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না। তিনি এক
ঈশ্বরবাদী ছিলেন। তিনি তার লেখনিতে সেই সমাজ ব্যবস্থার প্রতিফলন বেশি করে ঘটিয়েছেন। তাঁর লেখনিতে শেষ দিকে সুফি ঘরোনার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যা তিনি এই বাংলার অচ্ছুত কবি,দার্শনিক ও গ্রাম্য গেয়ো সাহিত্যিক কবিয়ালদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন।
বক্তারা বলেন, বিগত বছর গুলোতে বাংলাদেশে যে ভাবে বিশ্ব কবিকে নিয়ে আড়ম্বড়তা করা হয়েছে সে৷ ভাবে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে করা হয়নি। এই কারনে আমাদের সমাজে একটা ভ্রান্ত ধারনার প্রচলন আছে, সেটা হচ্ছে রবীন্দ্র নাথ হিন্দুদের কবি আর কাজী নজরুল মৃসলমানের কবি। আজ সময় এসেছে এসব ভ্রান্ত ধারনা দূর করে বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ও আমাদের জাতীয় কবি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে তাদের প্রাপ্য জায়গায় রাখা। যার সেখানে স্থান তাঁকে সেখানে স্থাপন করতে পারলেই সব বিভ্রান্তের অবসান ঘটবে।
প্রাচ্যসংঘ যশোরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নূর ইসলাম ও প্রাচ্য সাহিত্য সংঘের পরিচালক কবি সেলিম রেজা সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার ফাঁকে ফাঁকে প্রাচ্যসংঘের কবিবৃন্দ কবি গুরুর রচিত কবিতা আবৃত্ত করেন। পরে প্রাচ্যসংঘ ও প্রাচ্য আকাদেমীর কবি ও শিল্পীরা কবি গুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের কবিতা ও গান পরিবেশন করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত থেকে কবি ও শিল্পীদের উৎসাহিত করেন। #####















