টুং-টাং শব্দে মুখর রূপদিয়ার কামারপাড়া; ছুরি, চাপাতি তৈরির ধুম!

0
137

–রাসেল মাহমুদ : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী রূপদিয়া বাজার। বাজারের সবচেয়ে পুরোনো কামারশালা—হারান কর্মকারের দোকানে চলছে হাঁপর টানা, লোহা পুড়িয়ে হাতুড়ি পেটানো। তৈরি হচ্ছে ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি, চাকুসহ কোরবানির পশু জবাইয়ের নানা সরঞ্জাম। একটা সময় ছিল যখন এমন শব্দ মানেই বুঝে নেওয়া যেত ঈদ আসছে। এখনো সেই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে রীতিমতো যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন কামারশিল্পীরা। কেউ আসছেন নতুন ছুরি-চাকু কিনতে, কেউ বা পুরোনো সরঞ্জামে শান দিতে। দোকানের সামনে সাজানো নতুন ধার দেওয়া দা, বঁটি আর ছুরিগুলো যেন উৎসবের প্রস্তুতির নিঃশব্দ ঘোষণা।
তবে আশার পাশাপাশি রয়েছে আক্ষেপও। কারিগররা বলছেন, কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে বহুগুণ। অথচ লাভের পরিমাণ আগের মতো নেই। হারান কামার বলেন, “ভেবেছিলাম ঈদ ঘিরে অর্ডার বেশি আসবে, কিন্তু মানুষ আগের মতো কিনছে না।”
বর্তমানে প্রতিটি দা তৈরিতে মজুরি নেওয়া হচ্ছে ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা, বড় ছুরি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, চাকু ১২০ টাকা এবং বঁটি তৈরিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
একজন ক্রেতা বলেন, “গরু-ছাগল জবাই ও মাংস কাটতে ছুরি-চাকু তো লাগবেই। কিন্তু এবার সবকিছুর দামই বেশি।”
অসহনীয় গরম, দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে কাজ—তবুও চোখে মুখে ক্লান্তির চেয়ে বেশি ঝরে পড়ে দায়িত্ববোধ ও টিকে থাকার চেষ্টা। কর্মকার হারান বলেন, “এই কয়েকটা দিনেই একটু ভালো উপার্জনের আশায় থাকি। এই ঐতিহ্য তো আর ফেলে দেওয়া যায় না।”
যন্ত্রচালিত আধুনিকতার ভিড়ে অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার এই প্রাচীন শিল্প। তারপরও ঈদের আগমনী বার্তায় রূপদিয়ার কামারপাড়া যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে নতুন আশায়, নতুন প্রস্তুতিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here