চেকপোস্টে করোনা সতর্কতা জোরদার স্বাস্থ্যবিধিতে আগ্রহ কম যাত্রীদের

0
102

যশোর ডেস্ক : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সাতক্ষীরার ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে করোনা সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। ভারতে যাতায়াতকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি করা হচ্ছে তথ্য সংরক্ষণও। ভোমরা ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তুফান মণ্ডল জানান, প্রতিদিন পাসপোর্টধারী প্রায় ৩০০ জন ভারতে যাতায়াত করে থাকেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এখানে মেডিকেল টিম কাজ করছে। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতার পাশাপাশি মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও অনেক যাত্রী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। চেকপোস্টে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী যাত্রীদের অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহারে তাদের তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বজায় রাখছেন না সামাজিক দূরত্বও। স্বাস্থ্য সহকারী মনিরুজ্জামান বলেন, বুধবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬০ জন যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। মঙ্গলবার আমরা ৮২ জনকে পরীক্ষা করেছি। পাশাপাশি যাত্রীদের নাম, পাসপোর্ট নম্বর এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে দেখা যায়, ভারত থেকে ফিরে আসা যাত্রীদের করোনার উপসর্গ আছে কি না তা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভারত ফেরত যাত্রীরা জানান, বাংলাদেশের মতো ভারতের কোথাও করোনা বা ওমিক্রনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেনি। যাত্রী সীমা রানি বলেন, একমাস চিকিৎসার পর আজ দেশে ফিরে আসলাম। ভারতের কোথাও নতুন করে করোনার প্রভাব ছড়িয়েছে শুনিনি। তবে দেশে আসার পর দেখছি করোনার পরীক্ষা করছে। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার আব্দুল মজিদ বলেন, ভারতে জেনেটিক সিকুয়েন্স পরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেছে, দেশটির কিছু কিছু স্থানে ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে করোনার এ নতুন ধরনটি যাতে ছড়াতে না পারে সে জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সতর্কতার জন্য ভারত ফেরত প্রত্যেক যাত্রীকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন রূপে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে করোনা ভাইরাস। যার নামকরণ করা হয়েছে কোভিড-ওমিক্রন এক্সবিবি। এখন পর্যন্ত এ অঞ্চলে কেউ আক্রান্ত না হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোভিড-১৯ এর চেয়ে কোভিড-ওমিক্রন এক্সবিবি মারাত্মক শক্তিশালী। এটি শনাক্ত করা কঠিন হলেও আক্রান্ত ব্যক্তি সহজেই কাহিল হয়ে পড়বেন। কোভিড-ওমিক্রন এক্সবিবির লক্ষণ হলো জ্বর, কাশি ছাড়া মাথা, গলা, পিঠ ও জয়েন্টে ব্যথা, নিউমোনিয়া, ক্লাটকীয়ভাবে ক্ষুধা হ্রাস পাবে। কোভিড-ওমিক্রন এক্সবিবি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ৫ গুণ বেশি বিষাক্ত ও মৃত্যুর হারও বেশি। অতি অল্প সময়ের মধ্যে লক্ষণগুলি তীব্র হয়ে উঠবে ও স্পষ্ট লক্ষণগুলির অনুপস্থিতিতেও পরিবর্তন ঘটবে। এদিকে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাস্ক ব্যবহার ও বারবার হাত ধোয়ার মত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক আজাদ খান। সোমবার নিজের ফেইসবুকে এক পোস্টে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান তিনি। আজাদ খান লেখেন, “মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তারাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহকে এই নির্দেশনা অনুসরণ বা প্রতিপালনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হল। কোভিড ১৯ প্রটোকল অনুসরণ বাধ্যতামূলক।” দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঈদ ও গ্রীষ্মের ছুটি চলছে। মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলো আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত এবং কলেজগুলো আগামী ১২ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২৩ জুন পর্যন্ত এবং মাদ্রাসাগুলোতে ১৬ জুন পর্যন্ত চলবে ঈদ ও গ্রীষ্মের ছুটি। ঈদের আগে গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়। বারবার প্রয়োজনমত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার, আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে ৩ ফুট দূরে অবস্থান, অপরিষ্কার হাতে নাক-চোখ-মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা এবং হাঁচি কাশির সময় বাহু, টিস্যু বা কাপড় দিয়ে নাক মুখ ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারত ও ভাইরাস ছড়ানো দেশে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঝুঁকি মোকাবেলায় সব স্থল ও বিমানবন্দরে হেলথ স্ক্রিনিং ও নজরদারি বাড়াতেও বলেছে। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর দেশে ১ কোটি ৫৭ লাখ ২৬ হাজার ২২৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয় ২৯ হাজার ৫০০ জনের। ২০২৪ সালে এই রোগে কেউ মারা যাননি। ২০২৩ সালে ৩৭ জন, ২০২২ সালে ১৩৬৮ জন রোগী মারা যান। কোভিডে সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার ৫১৩ জনের মৃত্যু হয় ২০২১ সালে। আর মহামারীর প্রথম বছর ২০২০ সালে কেড়েছিল ৭ হাজার ৫৫৯ জনের প্রাণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here