স্টাফ রিপোর্টার : যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ গভর্নিং বডির
পরিচিতি অনুষ্ঠান ও প্রথম সভা গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে
অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার আগে সকালে নবগঠিত কমিটির সভাপতি প্রফেসর ডাক্তার এস এম
আবু আহসান লাল্টুসহ সকল সদস্যবৃন্দ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস
বেগমকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং এক সংক্ষিপ্ত পরিচিতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত
সকলেই নিজ নিজ পরিচয় প্রদান করেন। অধ্যাপক নার্গিস বেগম নবগঠিত জিবিকে স্বাগত
ও শুভেচ্ছা জানান এবং কলেজটির উন্নয়নে সকলকে এক হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন।
পরে কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কলেজের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ গভনিং বডির পরিচিতি
সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনন্দ কুমার মিত্র। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি
ছিলেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ডাঃ প্রফেসর এস এম আবু আহসান লাল্টু। অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিটির জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসির মনোনীত
প্রতিনিধি বিদ্যোৎসাহী সদস্য ব্যারিষ্টার ওয়ালিউর রহমান খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক
শিক্ষা অধিদপ্তরের(মাউশি) ডিজির মনোনীত প্রতিনিধি বিদ্যোৎসাহী সদস্য সাংবাদিক নূর
ইসলাম,যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের মনোনীত প্রতিনিধি বিদ্যোৎসাহী সদস্য
কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, কমিটির হিতৈষী সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী
এজাজ উদ্দিন টিপু, দাতা সদস্য ফখরুল বিশ^াস, শিক্ষক প্রতিনিধি (টিআর) বন্ধনা নন্দি,
তৌহিদুজ্জামান,মনিরুল ইসলাম, অভিভাবক সদস্য গাজী এস এম জালাল উদ্দিন, আলী আহম্মদ ও
আব্দুল কুদ্দুস। সভাটি পরিচালনা করেন কলেজের শিক্ষক কামরুন্নাহার ও শ্রীনিবাস হালদার।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় ঐহিত্যবাহী উপশহর ডিগ্রি কলেজের হারিয়ে
যাওয়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্য, সকল শিক্ষক-
কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান
জানান। তিনি বলেন, অনেক হয়েছে, আর নয়- এবার দেশ ও জাতির কল্যানে দেশপ্রেমিক ছাত্র-
জনতাকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। কি করলে কলেজের উন্নতি হবে- সেদিকে সকলের মনোযোগ
দিতে হবে। ব্যক্তিগত কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে কলেজের ছাত্র- ছাত্রীরা কিভাবে আরো ভালো
ফলাফল করবে, কিভাবে তাদের লেখাপড়ার উন্নতি ঘটানো যাবে, কিভাবে বেশি বেশি শিক্ষার্থী
কলেজে ভর্তি হবে, কিভাবে অভিভাবকবৃন্দ কলেজের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ^াস ফিরে পাবে,
সর্বোপরি কিভাবে এই কলেজটিকে আমরা যশোর শহরের সেরা কলেজে পরিণত করতে পারবো
সেটাই আমাদের এই নবগঠিত কমিটিসহ উপস্থিত সকলের একমাত্র লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য অর্জনে
আমাদের পাশে থেকে সার্বক্ষনিক সাহায্য ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবেন আমাদের
অভিভাবক যশোরের মানুষের আস্থা ও বিশ^াসের প্রতিক অধ্যাপিকা নার্গিস বেগম ও তাঁর
সুযোগ্য পুত্র জননেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ জেলার বিএনপি পরিবারের অভিভাবকবৃন্দ । ফলে
আমরা সকলে মিলে এই কলেজটির সব সমস্যা ধিরে ধিরে সমাধানের পথ খুঁজবো। আর তার জন্য
সর্বপ্রথম আপনারা যারা কলেজের শিক্ষক তাদেরকে আন্তরিক হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ ভাবে নিজেদের
উন্নয়নে সাধ্য মতো কাজ করতে হবে। বিগত ১৫ বছরের ধ্যান ধারনা মাথা থেকে মুছে ফেলতে
হবে। পুরোনো চিন্তা থেকে বের হয়ে ভবিষ্যতের জন্য কাজ করতে হবে। পতিত ফ্যাসিষ্ট শেখ
হাসিনার শাষনামলে আমরা এখানে যারা জিবির সদস্য হিসেবে আজ উপস্থিত হয়েছি তাদের
প্রায় সকলেই নানা ভাবে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ফলে সেই সব দিনের
শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের নতুন করে পথ চলতে হবে। ফ্যাসিষ্ট কোন চিন্তা মাথায় নিয়ে
এই প্রতিষ্ঠানটি গড়া সম্ভব হবে না। কারন গত ১৫ বছরে এই প্রতিষ্ঠানে কাঙ্খিত কোন
উন্নতি আমাদের চোখে পড়ছে না। যতটুকু উন্নয়ন হয়েছিলো তা প্রয়াত মন্ত্রী যশোর
উন্নয়নের কারিগর আমাদের সকলের অভিভাবক জননেতা মরহুম তরিকুল ইসলামের হাতে ধরেই
হয়েছিলো। গত ১৫ বছরে যারা এই কলেজটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তাদের কর্মকান্ড
বিচারের ভার আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম। আমরা অতীত নিয়ে না পড়ে থেকে ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্য ঠিক
করতেই আজকের এই প্রচেষ্টা। তিনি এই নতুন প্রচেষ্টায় সকলকে নবউদ্যোমে সামিল হওয়ার
আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কলেজের শিক্ষবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে কলেজের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ জিবি
কমিটির সকল সদস্যকে বরণ করে নেন। পরিচিতি অনুষ্ঠান শেষে নতুন জিবি কমিটির প্রথম
সভা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজ গভর্নিং কমিটির সভাপতি
ডাঃ প্রফেসর এস এম আবু আহসান লাল্টু। সভায় কলেজের বিগত সভার রেজুলেশন অনুমোদনসহ
বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।















