মনিরামপুরে মাদকের ছড়াছড়ি প্রশাসনের নীরবতায় বেপরোয়া ব্যাবসায়ীরা আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

0
250

শরীফুল ইসলাম ঢাকুরিয়া প্রতিনিধিঃ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রশাসনের নিরবতা আর মাদকবিরোধী অভিযান না থাকায় এলাকায় যেন গড়ে উঠেছে এক প্রকার ‘মাদক সাম্রাজ্য’। গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানা মাদকের অবাধ কেনাবেচায় উদ্বিগ্ন সচেতন নাগরিকরা। জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যার পরপরই মাদকসেবীরা দলবেঁধে ছুটে যায় ব্যবসায়ীদের কাছে। ১শ থেকে ২শ টাকার বিনিময়ে ছোট ছোট পুটলায় গাঁজা কিনে তারা চলে যায় পরিত্যক্ত ঘরবাড়ি, নির্জন ঝোপঝাড় বা কখনও স্কুল-কলেজের আশপাশে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো—এই নেশার ছোবলে ধরা পড়ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর-কিশোরীরা।
মাদকসেবীদের তালিকায় রয়েছেন কৃষক, রিকশা-ভ্যান চালক, দিনমজুর, এমনকি গৃহস্থ ঘরের তরুণরাও। অনেকেই দিনভর খেটে উপার্জিত টাকা খরচ করছেন নেশার পিছনে। আবার মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে চুরি, ছিনতাই, এমনকি ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে অনেকে। ফলে এলাকায় তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট।
অন্যদিকে মাদক ব্যবসায়ীরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, প্রকাশ্যেই চলছে তাদের দৌরাত্ম্য। যেন সবজি বিক্রির মতো খোলাখুলি চলছে মাদকের লেনদেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এরা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কু-কর্ম।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও মাদকসেবীদের বিচরণ এখন নিয়মিত চিত্র। স্থানীয় একাধিক নারী অভিযোগ করেছেন, দিনের পর দিন গাঁজার গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। কিন্তু প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয় তাদের। ফলে একদিকে সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা—দু’টোই দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সচেতন মহল বলছে, এভাবে চলতে থাকলে একটি প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। এখনই প্রশাসন যদি কঠোর অভিযান ও নজরদারি শুরু না করে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পেছনের শক্তিগুলোকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হোক। একইসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাগুলোকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here