আক্তার হোসেন,স্টাফ রিপোর্ট : যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে মির্জাপুর স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা ১৯৮৮ সালের পর থেকে বন্ধ থাকলেও, কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানটিকে এখনো সচল দেখিয়ে চলছে চরম নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রতারণা।মাদ্রাসাটিতে নেই কোনো ভবন, শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থী—তবুও প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত হবে এমন আশ্বাস দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র ইস্যু করে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করা হচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে, জানা গেছে,মাওলানা রফিকুল ইসলাম ২০০০ সালে তালা উপজেলার নোয়াকাটি দাখিল মাদ্রাসার নন-এমপিওভুক্ত সুপার ছিলেন। এরপর তিনি ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লিবিয়ায় প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে এসে আবারও মির্জাপুর মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু করেন ‘চাকরি বাণিজ্যের হাট।মাদ্রাসাটির স্থানের মাত্র ২০০ গজের মধ্যেই একটি সচল দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে, যা বর্তমানে নিয়মমাফিক পাঠদান করছে। তুলনায় এই ‘ভুতুড়ে’ মাদ্রাসাটি সম্পূর্ণ বন্ধ এবং অচল। তবে স্বচ্ছল প্রতিষ্ঠানটির পাশেই থাকা এই বন্ধ মাদ্রাসাকে ব্যবহার করে নিয়োগ বাণিজ্যের ঘটনা আরও গুরুতর।এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ২৬ জুলাই ২০২৫ তারিখে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সোহেল রানা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মাদ্রাসাটিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই, পাঠদান হয় না, এমনকি ভবন পর্যন্ত নেই। অথচ ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ।
স্থানীয়রা বলেন, এই মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থী নেই, ভবন নেই যেখানে মাদ্রাসার কথা বলা হয়েছে সেখানে একটি ঈদগাহ মাঠ আছে বাচ্চারা খেলা করেন কিন্তু কাগজে-কলমে চাকরি দেওয়া হচ্ছে এটা খুবই দুঃখজনক এবং বেআইনি ।তারা আরও বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসন সরজমিনে তদন্ত প্রয়োজন। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় চক্র তৈরি হবে।এ বিষয়ে উক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন আমি শুনেছি আমাকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বানিয়ে অফিসিয়াল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে যদি প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত হয় তাহলে তো কারোর সমস্যা হওয়ার কথা না। তবে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন আমি কারোর কাছ থেকে কোন নিয়োগ বাণিজ্য করি নাই।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন,
“অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহমেদ বলেন,
আমার অফিসে ওই মাদ্রাসার কোনো নথি বা স্বীকৃতির তথ্য নেই। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগও নেই। তবুও অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সরজমিনে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















